রাজনীতি ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে সরকারের কোনো ভুলের দায় বিরোধী দল বহন করবে না। সম্প্রতি মৌলভীবাজার সার্কিট হাউসে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা এবং জনস্বার্থের নানা বিষয় নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। এ সময় তিনি সরকারের প্রতিটি ভালো কাজের গঠনমূলক সমর্থনের কথা বললেও অনিয়ম ও ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করতে পিছপা হবেন না বলে পুনর্ব্যক্ত করেন। অতীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে অন্ধ সমর্থনের যে সংস্কৃতি চালু ছিল, তার কঠোর সমালোচনা করে তিনি জানান যে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাঁরা দায়িত্বশীল ও বিবেকবান বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পেশাদারিত্বের প্রশংসা করার পাশাপাশি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং তাঁকে নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমে আরও বেশি মনযোগী হওয়ার তাগিদ দেন। এছাড়া জেলা পরিষদে রাজনৈতিক ব্যক্তিদের পুনর্বাসন এবং সরকারি কর্ম কমিশন বা পিএসসির দলীয়করণের তীব্র সমালোচনা করে তিনি নিরপেক্ষ প্রশাসন গড়ার ওপর জোর দেন। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিকে দেশের অগ্রগতির প্রধান অন্তরায় উল্লেখ করে তিনি বলেন যে এসব অপরাধে জড়িতরা দলের পরিচয় ব্যবহার করলেও দল তাদের দায় নেবে না এবং সরকারকেও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।
রাজনীতিতে জবাবদিহিতা ও নীতিগত স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করে ডা. শফিকুর রহমান জানান যে তাঁর দল অপরাধের ক্ষেত্রে কাউকেই ছাড় দেয় না। নিজের দলের একজন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ ওঠায় ন্যূনতম সময় না নিয়েই তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করার দৃষ্টান্ত তুলে ধরে তিনি বলেন যে আইনের চোখে সবাই সমান। অপরাধীদের সংশোধনের সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, তবে অপরাধের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া যাবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি, ফ্যাসিবাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে অতীতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কেমন ছিল তা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সাংবাদিকদের আরও সাহসী, বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।
প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং পররাষ্ট্রনীতির বিভিন্ন দিক নিয়েও সভায় বিস্তারিত আলোচনা করেন জামায়াতের আমির। সৌদি আরবের কারাগারে বন্দি থাকা হাজার হাজার বাংলাদেশির আইনি সহায়তা ও সরকারের নজরদারির ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি প্রবাসীদের দুর্ভোগ লাঘবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন যে ক্ষমতা কখনো তাদের মূল লক্ষ্য নয়, বরং দেশের সার্বিক কল্যাণ ও সাধারণ মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান ব্রত। পারস্পরিক সহমর্মিতা ও জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলার ওপর তিনি শেষ পর্যন্ত বিশেষ গুরুত্ব দেন।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 






















