ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি যা দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন বুথফেরত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট কিংবা তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইচ্ছুক বিরোধী শিবির—কেউই সরকার গঠনের জাদুকরি সংখ্যা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, পার্লামেন্ট বা নেসেটে এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে কমপক্ষে একষট্টিটি আসনের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু প্রধান কোনো জোটই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হয়নি, যার ফলে ইসরাইলের রাজনীতিতে আবারও অচলাবস্থা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জরিপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট বড়জোর পঞ্চাশটি আসন পেতে পারে এবং বিরোধী জোটের আসনসংখ্যাও পঞ্চাশ থেকে বাহান্নটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এককভাবে চব্বিশ থেকে পঁচিশটি আসন পেয়ে পরবর্তী পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের দল একুশ থেকে তেইশটি আসন পেতে পারে। এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আরব দলগুলো, যারা সম্মিলিতভাবে রেকর্ড সতেরো থেকে আঠারোটি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনে সরকার গঠনে এই আরব দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পরপরই বিরোধী শিবিরের নেতারা একে নিজেদের নৈতিক বিজয় হিসেবে দাবি করেছেন এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জনগণের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট এবং ইয়াইর লাপিদ উভয়েই মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারের ওপর থেকে নিজেদের আস্থা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছে। ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়াইর গোলান দেশটিতে একটি পরিবর্তন আনার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বিরোধী জোটের অনেক নেতাই আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে সরকার গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ায় বিকল্প প্রশাসন গঠন করা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে নেতানিয়াহুর জোটের শরিক অতি-গোঁড়া ইহুদি দল এবং উগ্র ডানপন্থী দলগুলো তাদের আগের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। অতীতেও বুথফেরত জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলে বেশ কিছু অমিল দেখা গেছে, তাই সব ভোটের হিসাব চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা না হলে ইসরায়েলে রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটাতে শেষ পর্যন্ত আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের সংঘাতের পর থেকে দেশটিতে নেতানিয়াহুর জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, যা এই নির্বাচনের ফলাফলেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

পোশাক রপ্তানি বেড়েছে, পিছিয়ে উচ্চমূল্যের পণ্য

error: Content is protected !!

সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাচ্ছে না নেতানিয়াহু বা বিরোধী জোট, রেকর্ড সংখ্যক আসন পাচ্ছে আরব দলগুলো

আপডেট টাইম : ৩৫ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি যা দেশটিতে নতুন রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিভিন্ন বুথফেরত জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট কিংবা তাঁকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ইচ্ছুক বিরোধী শিবির—কেউই সরকার গঠনের জাদুকরি সংখ্যা অর্জন করতে সক্ষম হয়নি। দেশটির প্রভাবশালী গণমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, পার্লামেন্ট বা নেসেটে এককভাবে সরকার গঠন করতে হলে কমপক্ষে একষট্টিটি আসনের প্রয়োজন রয়েছে। কিন্তু প্রধান কোনো জোটই এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সফল হয়নি, যার ফলে ইসরাইলের রাজনীতিতে আবারও অচলাবস্থা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জরিপগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট বড়জোর পঞ্চাশটি আসন পেতে পারে এবং বিরোধী জোটের আসনসংখ্যাও পঞ্চাশ থেকে বাহান্নটির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি এককভাবে চব্বিশ থেকে পঁচিশটি আসন পেয়ে পরবর্তী পার্লামেন্টের সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অন্যদিকে, বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোটের দল একুশ থেকে তেইশটি আসন পেতে পারে। এই নির্বাচনে সবচেয়ে বড় চমক দেখিয়েছে আরব দলগুলো, যারা সম্মিলিতভাবে রেকর্ড সতেরো থেকে আঠারোটি আসন পেতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী দিনে সরকার গঠনে এই আরব দলগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পরপরই বিরোধী শিবিরের নেতারা একে নিজেদের নৈতিক বিজয় হিসেবে দাবি করেছেন এবং নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে জনগণের অনাস্থার বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। বিরোধী নেতা গাদি আইজেনকোট এবং ইয়াইর লাপিদ উভয়েই মন্তব্য করেছেন যে, সাধারণ মানুষ বর্তমান সরকারের ওপর থেকে নিজেদের আস্থা সম্পূর্ণ হারিয়ে ফেলেছে। ডেমোক্র্যাটস পার্টির প্রধান ইয়াইর গোলান দেশটিতে একটি পরিবর্তন আনার ঐতিহাসিক সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন। তবে বিরোধী জোটের অনেক নেতাই আরব দলগুলোর সঙ্গে মিলে সরকার গঠনের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়ায় বিকল্প প্রশাসন গঠন করা বেশ কঠিন হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

এদিকে নেতানিয়াহুর জোটের শরিক অতি-গোঁড়া ইহুদি দল এবং উগ্র ডানপন্থী দলগুলো তাদের আগের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা করছে। অতীতেও বুথফেরত জরিপের সঙ্গে চূড়ান্ত ফলাফলে বেশ কিছু অমিল দেখা গেছে, তাই সব ভোটের হিসাব চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, দলগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমঝোতা না হলে ইসরায়েলে রাজনৈতিক সংকটের অবসান ঘটাতে শেষ পর্যন্ত আরেকটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রয়োজন হতে পারে। ২০২৩ সালের অক্টোবরের সংঘাতের পর থেকে দেশটিতে নেতানিয়াহুর জবাবদিহিতা ও নিরাপত্তা ব্যর্থতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক চলছে, যা এই নির্বাচনের ফলাফলেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে।