ঢাকা , বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

রাসূল (সা.) এর শ্রমনীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

মাও: খোন্দকার আব্দুল হালিমঃ

মানবসভ্যতার ইতিহাসে মুহাম্মদ (সা.) শুধু একজন ধর্মপ্রচারক নন, বরং একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক, ন্যায়বিচারক ও শ্রমবান্ধব সমাজব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর শ্রমনীতি কেবল শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের দিকনির্দেশনা দেয়নি, বরং শ্রমিকের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে মানবতার সর্বোচ্চ আদর্শ স্থাপন করেছে। বর্তমান বিশ্বে যখন শ্রমিক শ্রেণি শোষণ, বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে—তখন রাসূল (সা.)-এর শ্রমনীতি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

 

রাসূল (সা.) এর শ্রমনীতির মূলনীতি:

১. শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার স্বীকৃতি:
নবী করীম (সা.) বলেন, “নিজের কামাই করা উপার্জনই সর্বোত্তম রিজিক।” (বুখারী)। তিনি শ্রমকে গর্বের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং শ্রমিককে অবহেলা না করে সম্মানিত করেছেন।

২. ন্যায্য মজুরি প্রদান:
রাসূল (সা.) বলেন, “কোনো শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।” (ইবনু মাজাহ)। এতে স্পষ্টভাবে সময়মতো ও ন্যায্য মজুরি প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে।

৩. শোষণ ও জবরদস্তি নিষিদ্ধ:
তিনি বলেন, “আমি তিনজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন বাদী হবো—যে ব্যক্তি একজন শ্রমিককে নিয়োগ করে তার থেকে সম্পূর্ণ কাজ আদায় করে নেয় কিন্তু মজুরি দেয় না।” (বুখারী)। এই হাদীস ইসলামে শ্রমিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের দলিল।

৪. সমান অধিকার ও দায়িত্ব:
রাসূল (সা.) নিজের হাতে খেজুর বাগানে কাজ করেছেন, খাদ খননে শ্রম দিয়েছেন। এতে প্রমাণ হয়, নেতা হোন আর সাধারণ মানুষ—শ্রম সবার জন্য সম্মানজনক।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে শ্রমিকদের নিয়ে যে শোষণমূলক ব্যবস্থা চলছে তা হলো দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, স্বল্প মজুরি, নিরাপত্তার অভাব, চুক্তিভিত্তিক অনিশ্চয়তা। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে রাসূল (সা.) এর শ্রমনীতির দিকে ফিরে তাকানো অপরিহার্য।

বিশ্বজুড়ে ‘ফেয়ার ট্রেড’, ‘ন্যূনতম মজুরি’, ‘কারখানায় নিরাপত্তা’—এসব শব্দমালা মূলত ইসলামের প্রবর্তিত শ্রমনীতিরই আধুনিক সংস্করণ।
রাসূল (সা.)-এর শ্রমনীতি কেবল তাত্ত্বিক নয়, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক। আজকের বৈষম্যপূর্ণ ও শোষণপ্রবণ শ্রমব্যবস্থার উত্তরণের জন্য প্রয়োজন রাসূলের (সা.) আদর্শ বাস্তবায়ন। রাষ্ট্র, সমাজ ও কর্পোরেট কাঠামো—সবখানেই তাঁর শ্রমনীতির আদর্শকে ফিরিয়ে আনলেই গড়ে উঠতে পারে একটি ইনসাফভিত্তিক মানবিক সমাজ।

 

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় দুই শিশুকে সড়কের পাশে রেখে যাওয়ার অভিযোগ

error: Content is protected !!

রাসূল (সা.) এর শ্রমনীতি ও বর্তমান প্রেক্ষাপট

আপডেট টাইম : ০৯:৫১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ এপ্রিল ২০২৫
মাও: খোন্দকার আব্দুল হালিম :

মাও: খোন্দকার আব্দুল হালিমঃ

মানবসভ্যতার ইতিহাসে মুহাম্মদ (সা.) শুধু একজন ধর্মপ্রচারক নন, বরং একজন সফল রাষ্ট্রনায়ক, ন্যায়বিচারক ও শ্রমবান্ধব সমাজব্যবস্থার প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর শ্রমনীতি কেবল শোষণমুক্ত সমাজ গঠনের দিকনির্দেশনা দেয়নি, বরং শ্রমিকের মর্যাদা, অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে মানবতার সর্বোচ্চ আদর্শ স্থাপন করেছে। বর্তমান বিশ্বে যখন শ্রমিক শ্রেণি শোষণ, বৈষম্য ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে—তখন রাসূল (সা.)-এর শ্রমনীতি বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

 

রাসূল (সা.) এর শ্রমনীতির মূলনীতি:

১. শ্রমিকের মর্যাদা ও অধিকার স্বীকৃতি:
নবী করীম (সা.) বলেন, “নিজের কামাই করা উপার্জনই সর্বোত্তম রিজিক।” (বুখারী)। তিনি শ্রমকে গর্বের বিষয় হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং শ্রমিককে অবহেলা না করে সম্মানিত করেছেন।

২. ন্যায্য মজুরি প্রদান:
রাসূল (সা.) বলেন, “কোনো শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দিয়ে দাও।” (ইবনু মাজাহ)। এতে স্পষ্টভাবে সময়মতো ও ন্যায্য মজুরি প্রদানের নির্দেশনা রয়েছে।

৩. শোষণ ও জবরদস্তি নিষিদ্ধ:
তিনি বলেন, “আমি তিনজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে কিয়ামতের দিন বাদী হবো—যে ব্যক্তি একজন শ্রমিককে নিয়োগ করে তার থেকে সম্পূর্ণ কাজ আদায় করে নেয় কিন্তু মজুরি দেয় না।” (বুখারী)। এই হাদীস ইসলামে শ্রমিক নিপীড়নের বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থানের দলিল।

৪. সমান অধিকার ও দায়িত্ব:
রাসূল (সা.) নিজের হাতে খেজুর বাগানে কাজ করেছেন, খাদ খননে শ্রম দিয়েছেন। এতে প্রমাণ হয়, নেতা হোন আর সাধারণ মানুষ—শ্রম সবার জন্য সম্মানজনক।

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বিশ্বে বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশে শ্রমিকদের নিয়ে যে শোষণমূলক ব্যবস্থা চলছে তা হলো দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, স্বল্প মজুরি, নিরাপত্তার অভাব, চুক্তিভিত্তিক অনিশ্চয়তা। এ থেকে মুক্তি পেতে হলে রাসূল (সা.) এর শ্রমনীতির দিকে ফিরে তাকানো অপরিহার্য।

বিশ্বজুড়ে ‘ফেয়ার ট্রেড’, ‘ন্যূনতম মজুরি’, ‘কারখানায় নিরাপত্তা’—এসব শব্দমালা মূলত ইসলামের প্রবর্তিত শ্রমনীতিরই আধুনিক সংস্করণ।
রাসূল (সা.)-এর শ্রমনীতি কেবল তাত্ত্বিক নয়, বাস্তবভিত্তিক ও মানবিক। আজকের বৈষম্যপূর্ণ ও শোষণপ্রবণ শ্রমব্যবস্থার উত্তরণের জন্য প্রয়োজন রাসূলের (সা.) আদর্শ বাস্তবায়ন। রাষ্ট্র, সমাজ ও কর্পোরেট কাঠামো—সবখানেই তাঁর শ্রমনীতির আদর্শকে ফিরিয়ে আনলেই গড়ে উঠতে পারে একটি ইনসাফভিত্তিক মানবিক সমাজ।