ইসমাইল হােসেন বাবুঃ
কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলায় বাহিরচর ইউনিয়নের চররুপপুর গ্রামে রাসায়নিক সারের পরিমিত ব্যবহারের ওপর একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। আধুনিক কৃষি উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সার একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ কৃষি উপকরণ।
বাংলাদেশে ষাট দশকের শুরু থেকে রাসায়নিক সারের ব্যবহার শুরু হয় যা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেয়ে খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ইতোমধ্যে ইউরিয়া, টিএসপি, ডিএপি, এমওপি সারসহ ১০৭ প্রকার সার বাংলাদেশের বাজারে প্রচলিত আছে। এই বিপুল সংখ্যক সারের মধ্যে এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ভেজাল সার উৎপাদন ও বিপণনের মাধ্যমে সাধারণ কৃষককে প্রতারিত করে আসছে।
ফলে কৃষি কাজে এ সকল সার ব্যবহার করে একদিকে যেমন কৃষক অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন অপরদিকে প্রতারিতও হচ্ছেন।
এই লক্ষ্যে বুধবার ৮ অক্টোবর সকাল ১১টার সময় ভেড়ামারা কৃষি অফিসের হল রুমে অনুষ্ঠিত আলােচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ভেড়ামারা উপজেলার কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) কৃষিবিদ আশফাকুর রহমান।
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,খামারবাড়ি, কুষ্টিয়ার উপপরিচালক কৃষিবিদ মো: শওকত হোসেন ভূঁইয়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত উপপরিচালক কৃষিবিদ মো: ওয়াহিদুজ্জামান। আরো উপস্থিত ছিলেন সহকারী কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আবু সাঈদ, উক্ত ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা শাম্মী সুলতানা, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা কে এম রবিউল, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রহমান সহ ৫০ জন কৃষক।
সভায় বিশেষ অতিথি উপপরিচালক কৃষিবিদ মো: ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, পরিমিত সার ব্যবহারে রোগ ও পোকার আক্রমণ কম হয়। ফলে বালাইনাশক কম লাগে। অধিক ইউরিয়া ব্যবহারে ফসলের উৎপাদন কখনো কখনো বৃদ্ধি পেলেও জমির উর্বরতা কমে যায়। নাইট্রোজেন বাতাসে মিশে পরিবেশ দূষণ করে। আবার পানিতে মিশে মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হয়। অতিরিক্ত নাইট্রোজেন ব্যবহারে গাছের কোষপ্রাচীর পাতলা হয়ে যায়। ফলে গাছের কাঠামোগত শক্তি কমে যায়। গাছের কান্ড স্বাভাবিকের চেয়ে লম্বা ও নরম হয়ে যায় এবং কান্ডের চেয়ে পাতা বেশি ভারী হয়। ফলে গাছ সহজেই হেলে পড়ে।
নাইট্রোজেন বেশি ব্যবহারে মাটিতে বোরন, দস্তা ও কপারের ঘাটতি হয়। বোরণের অতিরিক্ত ব্যবহারে কচিপাতা ও ডগা ক্ষতিগ্রস্থ হয়, ফলন কম হয়। অম্লীয় মাটিতে চুন বেশি ব্যবহার করলে মাটিতে থাকা জিংক, বোরন, আয়রন, কপার ও ম্যাঙ্গানিজের অভাব হতে পারে। এই কারেণ জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
খামার/ গৃহস্থালীন আবর্জনা, উচ্ছিষ্ট পদার্থ ইত্যাদি দিয়ে বিনা খরচে জৈব সার উৎপাদন করণ। সুষম মাত্রায় পরিমিত পরিমাণ সার ব্যবহারের জন্য মাটি পরীক্ষা করে, অনলাইনে সার সুপারিশ নির্দেশনা মেনে সার দিন। আপনার ব্লকের উপসহকারী কৃষি অফিসার (এসএএও) অথবা নিকটস্থ উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করুন। অর্থ বাঁচান, জমি ও ফসল নিরাপদ রাখুন।
অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর,খামারবাড়ি, কুষ্টিয়ার উপপরিচালক কৃষিবিদ মো: শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, অতিরিক্ত সার ব্যবহারের ফলে মাটির উর্বরতা হ্রাস, রাসায়নিক দূষণ, এবং মাটির ভৌত, রাসায়নিক ও জৈবিক গুনাগুণের ক্ষতি হয়। অতিরিক্ত সার ব্যবহারে ফসলের খরচ বৃদ্ধি পায় এবং রোগ-বালাই ও পোকার আক্রমণ বৃদ্ধি পায় বলে কীটনাশকের ব্যবহার বেড়ে যায়।
কোন জমিতে কী পরিমাণ সার প্রয়োজন, তা নির্ধারণের জন্য মাটি পরীক্ষা করা অপরিহার্য। ফসলের সঠিক বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত পরিমাণ সার প্রয়োগ করা দরকার। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ ও খামারি এ্যাপ ব্যবহার করে সঠিক ডোজ মেনে সার প্রয়োগ করুন।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
ইসমাইল হােসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 





















