ঢাকা , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বেতন বৃদ্ধিতে ধীরে চলো নীতি

রাজনীতি ডেস্ক: সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদধারীদের সম্মানী বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের ওপর থাকা আর্থিক চাপ বিবেচনা করে এই মুহূর্তে বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রতিনিধি ও শীর্ষ রাষ্ট্রীয় পদে থাকা ব্যক্তিদের বেতন পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমানে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। অতীতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের পর নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সম্মানী বাড়ানো হলেও এবার আর্থিক বাস্তবতার কারণে সেই পথে হাঁটছে না প্রশাসন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সম্মানী বাড়ানোর একটি প্রস্তাব সরকারপ্রধানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি। এ সময় সচিবদের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মূল বেতনের যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয়। জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আগে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং নতুন এই কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নেও যথেষ্ট সময় লাগবে।

নতুন পে-স্কেলের কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা একজন সচিবের মূল বেতন হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। ২০১৬ সালের আইন অনুযায়ী বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং প্রধানমন্ত্রী ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল বেতন পেয়ে থাকেন। এর ফলে নতুন বেতন স্কেলে একজন সচিবের মূল বেতন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বেতনের চেয়ে যথাক্রমে ৩৬ হাজার এবং ৪১ হাজার টাকা বেশি হচ্ছে। একইভাবে একজন মন্ত্রীর মূল বেতন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রীর ৯২ হাজার টাকা হওয়ায় সচিবদের বেতন তাদের চেয়েও বেশি দাঁড়িয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কেবল মূল বেতন দিয়ে শীর্ষ পদধারীদের আর্থিক সুবিধার প্রকৃত চিত্র মূল্যায়ন করা যায় না, কারণ তাদের বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত থাকে।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা কেবল নির্বাহী আদেশে বাড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের বেতন-ভাতা বাড়াতে হলে নির্দিষ্ট আইন বা আদেশ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিল পাস করতে হয়, যা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল চালুর পরের বছর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্মানী বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কায় সরকার এই মুহূর্তে আইন সংশোধনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের বেতন বাড়ানোর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বেতন বৃদ্ধিতে ধীরে চলো নীতি

আপডেট টাইম : এক ঘন্টা আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

রাজনীতি ডেস্ক: সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদধারীদের সম্মানী বাড়ানোর বিষয়টি আলোচনায় আসে। তবে দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও সাধারণ মানুষের ওপর থাকা আর্থিক চাপ বিবেচনা করে এই মুহূর্তে বেতন বৃদ্ধির উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে সরকার। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জনপ্রতিনিধি ও শীর্ষ রাষ্ট্রীয় পদে থাকা ব্যক্তিদের বেতন পুনর্নির্ধারণের ক্ষেত্রে বর্তমানে ধীরে চলো নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে। অতীতে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পরিবর্তনের পর নিয়ম অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সম্মানী বাড়ানো হলেও এবার আর্থিক বাস্তবতার কারণে সেই পথে হাঁটছে না প্রশাসন।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান, সম্প্রতি রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের সম্মানী বাড়ানোর একটি প্রস্তাব সরকারপ্রধানের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সংকটের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তিনি সেই প্রস্তাবে সম্মতি দেননি। এ সময় সচিবদের নতুন বেতন কাঠামোর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মূল বেতনের যে ব্যবধান তৈরি হয়েছে, তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আনা হয়। জবাবে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে, আগে সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা নিশ্চিত করা প্রয়োজন এবং নতুন এই কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়নেও যথেষ্ট সময় লাগবে।

নতুন পে-স্কেলের কাঠামো অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীদের সর্বোচ্চ মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকায় উন্নীত হয়েছে, যা একজন সচিবের মূল বেতন হিসেবে নির্ধারিত হয়েছে। ২০১৬ সালের আইন অনুযায়ী বর্তমানে রাষ্ট্রপতি মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা এবং প্রধানমন্ত্রী ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা মূল বেতন পেয়ে থাকেন। এর ফলে নতুন বেতন স্কেলে একজন সচিবের মূল বেতন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বেতনের চেয়ে যথাক্রমে ৩৬ হাজার এবং ৪১ হাজার টাকা বেশি হচ্ছে। একইভাবে একজন মন্ত্রীর মূল বেতন ১ লাখ ৫ হাজার টাকা এবং প্রতিমন্ত্রীর ৯২ হাজার টাকা হওয়ায় সচিবদের বেতন তাদের চেয়েও বেশি দাঁড়িয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, কেবল মূল বেতন দিয়ে শীর্ষ পদধারীদের আর্থিক সুবিধার প্রকৃত চিত্র মূল্যায়ন করা যায় না, কারণ তাদের বেতনের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা যুক্ত থাকে।

উল্লেখ্য, সরকারি চাকরিজীবীদের মতো সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের বেতন স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা কেবল নির্বাহী আদেশে বাড়ানোর সুযোগ নেই। তাদের বেতন-ভাতা বাড়াতে হলে নির্দিষ্ট আইন বা আদেশ সংশোধন করে জাতীয় সংসদে বিল পাস করতে হয়, যা একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সর্বশেষ ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল চালুর পরের বছর রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের সম্মানী বাড়ানো হয়েছিল। বর্তমান প্রেক্ষাপটে জনগণের ওপর বাড়তি অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি হতে পারে এমন আশঙ্কায় সরকার এই মুহূর্তে আইন সংশোধনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধিদের বেতন বাড়ানোর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করছে না।