ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

রাজাপুরে কৃষি কর্মকর্তাদের অনিয়মিত উপস্থিতি, ভোগান্তিতে কৃষকরা

-রাজাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাঃ শাহিদা শারমিন আফরোজ।

অহিদ সাইফুলঃ

 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাঃ শাহিদা শারমিন আফরোজ ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেরুণ নেচ্ছা পাপড়ি সকাল ১১টার আগে অফিসে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার দুপুরের পরেই অনেকটা সময় বাকি থাকলেও বাসায় চলে যান তারা। বিষয়টি গত দুই সপ্তাহ সরেজমিনে তদন্ত করলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। ফলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা নিতে অফিসে আসা কৃষকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, অফিসে কোনো কর্মসূচি, কৃষক প্রশিক্ষণ কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠান থাকলেই তারা সকাল ১০টার আগে আসেন। তবে সাধারণ দিনে তাদের দেরিতে আসা এবং আগেভাগে চলে যাওয়া নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে কৃষকদের সেবা কার্য অচল হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ নিয়মিত অফিসে না বসায় তাদের বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়। অধিকাংশ সময় অফিসের কর্মচারীরা বলেন, ‘স্যার ফিল্ডে আছেন।’ কিন্তু বাস্তবে কর্মকর্তারা অফিসেই থাকেন না।

 

রাজাপুরের কৃষক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা মাঠে সারাদিন পরিশ্রম করি। সমস্যা হলে অফিসে আসি, কিন্তু কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় ণঅ। এতে আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

 

অন্য কৃষক মো. মনির হাওলাদার জানান, “বীজ সার কিংবা রোগবালাইয়ের বিষয়ে জানতে গেলে দেখা যায় অফিস খালি। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে।”

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেরুণ নেচ্ছা পাপড়ি অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয় অস্বীকার করে জানান, “আমার কাজ অফিসে নয় যে ৯টা থেকে ৫টা অফিসে বসে থাকবো। আমাকে সব সময় মাঠে থাকতে হয়।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহিদা শারমিন আফরোজ অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয় অস্বীকার করে জানান, “আমি অফিস প্রধান আমাকে অনেক সব দিকে নজর রাখতে হয়। তাছাড়া আমাকে বেশির ভাগ সময় মাঠে থাকতে হয়। তবে নিয়ম মেনে সব সময় ৯টা থেকে ৫টা অফিসে থাকা হয় না।

 

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন,“বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

সচেতন মহলের মতে, কৃষি কর্মকর্তরা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকলে কৃষকরা যথাসময়ে দিকনির্দেশনা পেতেন। তাই দ্রæত সেবার স্বার্থে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

তানোরে বেকারদের পকেট কাটা !

error: Content is protected !!

রাজাপুরে কৃষি কর্মকর্তাদের অনিয়মিত উপস্থিতি, ভোগান্তিতে কৃষকরা

আপডেট টাইম : ১১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫
অহিদ সাইফুল, রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি :

অহিদ সাইফুলঃ

 

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তাদের অনিয়মিত উপস্থিতি নিয়ে কৃষকদের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোসাঃ শাহিদা শারমিন আফরোজ ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেরুণ নেচ্ছা পাপড়ি সকাল ১১টার আগে অফিসে আসেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। আবার দুপুরের পরেই অনেকটা সময় বাকি থাকলেও বাসায় চলে যান তারা। বিষয়টি গত দুই সপ্তাহ সরেজমিনে তদন্ত করলে এর সত্যতা পাওয়া যায়। ফলে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা নিতে অফিসে আসা কৃষকরা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

অভিযোগ রয়েছে, অফিসে কোনো কর্মসূচি, কৃষক প্রশিক্ষণ কিংবা বিশেষ অনুষ্ঠান থাকলেই তারা সকাল ১০টার আগে আসেন। তবে সাধারণ দিনে তাদের দেরিতে আসা এবং আগেভাগে চলে যাওয়া নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এতে কৃষকদের সেবা কার্য অচল হয়ে পড়েছে।

 

স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ নিয়মিত অফিসে না বসায় তাদের বারবার হয়রানির শিকার হতে হয়। অধিকাংশ সময় অফিসের কর্মচারীরা বলেন, ‘স্যার ফিল্ডে আছেন।’ কিন্তু বাস্তবে কর্মকর্তারা অফিসেই থাকেন না।

 

রাজাপুরের কৃষক মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, “আমরা মাঠে সারাদিন পরিশ্রম করি। সমস্যা হলে অফিসে আসি, কিন্তু কর্মকর্তাদের পাওয়া যায় ণঅ। এতে আমরা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

 

অন্য কৃষক মো. মনির হাওলাদার জানান, “বীজ সার কিংবা রোগবালাইয়ের বিষয়ে জানতে গেলে দেখা যায় অফিস খালি। এতে সময় ও অর্থ দুটোই নষ্ট হচ্ছে।”

 

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মেহেরুণ নেচ্ছা পাপড়ি অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয় অস্বীকার করে জানান, “আমার কাজ অফিসে নয় যে ৯টা থেকে ৫টা অফিসে বসে থাকবো। আমাকে সব সময় মাঠে থাকতে হয়।

 

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শাহিদা শারমিন আফরোজ অফিসে অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয় অস্বীকার করে জানান, “আমি অফিস প্রধান আমাকে অনেক সব দিকে নজর রাখতে হয়। তাছাড়া আমাকে বেশির ভাগ সময় মাঠে থাকতে হয়। তবে নিয়ম মেনে সব সময় ৯টা থেকে ৫টা অফিসে থাকা হয় না।

 

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম বলেন,“বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

সচেতন মহলের মতে, কৃষি কর্মকর্তরা নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকলে কৃষকরা যথাসময়ে দিকনির্দেশনা পেতেন। তাই দ্রæত সেবার স্বার্থে কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।


প্রিন্ট