ঢাকা , বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

মাগুরায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা উৎসব

মাগুরায়  শুরু হয়েছে ৫ দিন ব্যাপী  ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা। প্রতিবছর দূর্গাপূজার কিছুদিন পর জেলায় ব্যাপক উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই পূজা উদযাপিত হয়। সে হিসাবে এ বছরের পূজা উৎসব  ১৮ নভেম্বর  থেকে ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে  ২৩ নভেম্বর দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ।
কাত্যায়নী উৎসব উপলক্ষে প্রতিবছর লাখো মানুষের ঢল নামে মাগুরায়। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মিলন ঘটে এ উৎসবে। তবে এ বছর রাজনৈতিক দলের হরতাল অবরোধের কারণে দুর-দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
এবারের পূজা উপলক্ষে জেলার ৪ উপজেলায় মোট ৯৪টি মন্ডপে প্রতিমা  স্থাপিত হয়েছে দেবী কাত্যায়ানী।  যার মধ্যে পৌর এলাকায় ১৯ টি, সদর উপজেলায় ২৬টি,  শ্রীপুরে ১৩টি, মহম্মদপুরে ০৮টি ও শালিখায় ২৮টি মন্ডপে কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে মাগুরা শহরের ১৯টি মন্ডপ  সবচেয়ে বেশী জাকজমকপুর্ণ হয়েছে । শহরের পারনান্দুয়ালী, জামরুলতলা, সাতদোহাপাড়া, নতুন বাজার, বাটিকাডাঙ্গা, উপজেলা পাড়া শিবরামপুর, নান্দুয়ালীসহ প্রতিটি পূজা মন্ডপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন গেট, প্যান্ডেল, তোরণ। আধুনিক লাইটিংয়ের মধ্যমে সাজানো হয়েছে পূজা মন্ডপগুলো ।
স্থানীয়দের তথ্যমতে ,  ১৯৫০ সালে শহরে পারনান্দুয়ালী এলাকার জনৈক সতীশ মাঝি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম এ পূজা উৎসব শুরু করেন। দুর্গা পূজার সময় পেশাগত ব্যস্ততা থাকায় জেলে সম্প্রদায়ের সুবিধার্থে তার এলাকায় তিনি দূর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সংক্ষিপ্ত করে প্রথম এককভাবে কাত্যায়নী পূজা শুরু করেন। যা ব্যাপকতর হতে হতে বর্তমান পর্যায়ে এসে পড়েছে।
পূজা উপলক্ষে  শহরের গুরুত্বপূর্ণ  স্থান ও  বিভিন্ন পূজা মন্ডপের প্রবেশ পথে দৃষ্টিনন্দন ফটক তৈরী করা হয়েছে। দশনার্থীদের বাড়তি আকর্ষনের জন্য তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোক সজ্জা।  পূজা উপলক্ষ্যে জেলা শহরে বিভিন্ন এলাকায় মাস ব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কাঠের তৈরী উন্নত ফার্ণিচার ,তৈজসপত্র , কম্বল, শিশুদের খেলনা বিক্রয় হয়।
মাগুরা জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাসুদেব কুন্ডু বলেন,শাস্ত্র মতে দাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে পাবার আশায় ব্রজবাসীরা যমুনা নদীর তীরে বাংলা বছরের কার্তিক ও অগ্রাহায়নের মাঝামাঝি সময় কাত্যায়নী পূজা শুরু করে। ৫০ বছর পূর্বে মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালীতে সতীশ মাঝি তার বাড়িতে প্রথম এই পূজা শুরু করেন। তারপর থেকে এ পূজা মাগুরা  জেলার বিভিন্ন এলাকায় জাকজমকপূর্ণ ভাবে পালিত হয়ে আসছে। কাত্যায়নী পূজার প্রতিমা থেকে শুরু করে সবকিছুই দূর্গা পূজার আদলে করা হয়।
মাগুরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: কলিমুল্লাহ বলেন, মাগুরা ঐতিবাহি কাত্যায়নী পূজার পরিচিত গোটা দেশ জুড়ে। এই পূজা দেখতে দেশ বিদেশ থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। নিরাপত্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাছাড়া রাজনৈতিক দলের ডাকা হরতাল অবরোধের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা থাকবে বিজিবি, ডিবি, গোয়েন্দা নজোর দারি বাড়ানো হয়েছে। আশা করি পূজার এই ৫টি দিন উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

কুমিল্লায় দুই শিশুকে সড়কের পাশে রেখে যাওয়ার অভিযোগ

error: Content is protected !!

মাগুরায় শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা উৎসব

আপডেট টাইম : ১১:৪৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০২৩
রনি আহমেদ রাজু, মাগুরা জেলা প্রতিনিধি :
মাগুরায়  শুরু হয়েছে ৫ দিন ব্যাপী  ঐতিহ্যবাহী কাত্যায়নী পূজা। প্রতিবছর দূর্গাপূজার কিছুদিন পর জেলায় ব্যাপক উৎসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে এই পূজা উদযাপিত হয়। সে হিসাবে এ বছরের পূজা উৎসব  ১৮ নভেম্বর  থেকে ষষ্ঠীপূজার মধ্য দিয়ে শুরু হয়ে  ২৩ নভেম্বর দশমীতে বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ।
কাত্যায়নী উৎসব উপলক্ষে প্রতিবছর লাখো মানুষের ঢল নামে মাগুরায়। দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে সব মানুষের মিলন ঘটে এ উৎসবে। তবে এ বছর রাজনৈতিক দলের হরতাল অবরোধের কারণে দুর-দুরান্ত থেকে আসা দর্শনার্থীর উপস্থিতি কম হবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা।
এবারের পূজা উপলক্ষে জেলার ৪ উপজেলায় মোট ৯৪টি মন্ডপে প্রতিমা  স্থাপিত হয়েছে দেবী কাত্যায়ানী।  যার মধ্যে পৌর এলাকায় ১৯ টি, সদর উপজেলায় ২৬টি,  শ্রীপুরে ১৩টি, মহম্মদপুরে ০৮টি ও শালিখায় ২৮টি মন্ডপে কাত্যায়নী পূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে মাগুরা শহরের ১৯টি মন্ডপ  সবচেয়ে বেশী জাকজমকপুর্ণ হয়েছে । শহরের পারনান্দুয়ালী, জামরুলতলা, সাতদোহাপাড়া, নতুন বাজার, বাটিকাডাঙ্গা, উপজেলা পাড়া শিবরামপুর, নান্দুয়ালীসহ প্রতিটি পূজা মন্ডপকে ঘিরে তৈরি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন গেট, প্যান্ডেল, তোরণ। আধুনিক লাইটিংয়ের মধ্যমে সাজানো হয়েছে পূজা মন্ডপগুলো ।
স্থানীয়দের তথ্যমতে ,  ১৯৫০ সালে শহরে পারনান্দুয়ালী এলাকার জনৈক সতীশ মাঝি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম এ পূজা উৎসব শুরু করেন। দুর্গা পূজার সময় পেশাগত ব্যস্ততা থাকায় জেলে সম্প্রদায়ের সুবিধার্থে তার এলাকায় তিনি দূর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা সংক্ষিপ্ত করে প্রথম এককভাবে কাত্যায়নী পূজা শুরু করেন। যা ব্যাপকতর হতে হতে বর্তমান পর্যায়ে এসে পড়েছে।
পূজা উপলক্ষে  শহরের গুরুত্বপূর্ণ  স্থান ও  বিভিন্ন পূজা মন্ডপের প্রবেশ পথে দৃষ্টিনন্দন ফটক তৈরী করা হয়েছে। দশনার্থীদের বাড়তি আকর্ষনের জন্য তৈরি হয়েছে ব্যাপক আলোক সজ্জা।  পূজা উপলক্ষ্যে জেলা শহরে বিভিন্ন এলাকায় মাস ব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কাঠের তৈরী উন্নত ফার্ণিচার ,তৈজসপত্র , কম্বল, শিশুদের খেলনা বিক্রয় হয়।
মাগুরা জেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি বাসুদেব কুন্ডু বলেন,শাস্ত্র মতে দাপর যুগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে পাবার আশায় ব্রজবাসীরা যমুনা নদীর তীরে বাংলা বছরের কার্তিক ও অগ্রাহায়নের মাঝামাঝি সময় কাত্যায়নী পূজা শুরু করে। ৫০ বছর পূর্বে মাগুরা শহরের পারনান্দুয়ালীতে সতীশ মাঝি তার বাড়িতে প্রথম এই পূজা শুরু করেন। তারপর থেকে এ পূজা মাগুরা  জেলার বিভিন্ন এলাকায় জাকজমকপূর্ণ ভাবে পালিত হয়ে আসছে। কাত্যায়নী পূজার প্রতিমা থেকে শুরু করে সবকিছুই দূর্গা পূজার আদলে করা হয়।
মাগুরা জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো: কলিমুল্লাহ বলেন, মাগুরা ঐতিবাহি কাত্যায়নী পূজার পরিচিত গোটা দেশ জুড়ে। এই পূজা দেখতে দেশ বিদেশ থেকে হাজার হাজার দর্শনার্থীর আগমন ঘটে। নিরাপত্তার ব্যাপারে তিনি বলেন, তিন স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। তাছাড়া রাজনৈতিক দলের ডাকা হরতাল অবরোধের কথা মাথায় রেখে নিরাপত্তা থাকবে বিজিবি, ডিবি, গোয়েন্দা নজোর দারি বাড়ানো হয়েছে। আশা করি পূজার এই ৫টি দিন উৎসব মুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে।