ইসমাইল হোসেন বাবুঃ
শীতের প্রকোপ বাড়ায় কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পুরাতন গরম কাপড়ের বিক্রি বেড়েছে। শহরের বিভিন্ন জায়গায় রাস্তার পাশে অস্থায়ী পুরাতন কাপড়ের দোকানগুলোতে সারাদিন ভিড় লেগেই থাকছে। কম দামে ভালো মানের গরম কাপড় মেলায় এসব দোকানে বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, চাহিদা থাকায় মাঘের শেষ পর্যন্ত বিক্রি চলবে।
ভেড়ামারা শহরে অস্থায়ী ভাবে রেলওয়ে পাসে গড়ে উঠা দোকানগুলোতে এবারও শীতের গরম পোশাক বিক্রি জমে উঠেছে। বিত্তশালীদের অভিজাত বিপণী বিতানে পদচারণা দেখা গেলেও নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা স্বল্প দামে শীতের পোশাক কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন অস্থায়ী পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে।
রেললাইনে পাসে ও রেলওয়ে লাইনের মধ্যে অস্থায়ী পুরনো শীতের পোশাকের দোকানগুলো এবছর গড়ে উঠেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন শ্রেণীর আয়ের মানুষের শীতে গরম পোশাকের একমাত্র ভরসা ভেড়ামারার শীতের পুরনো কাপড়ের দোকানগুলো।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এবছর পুরনো শীতের পোশাকের অস্থায়ী দোকানগুলো বসেছে। অস্থায়ী মার্কেটে এখন পর্যন্ত ১৫টি দোকানে বিক্রি হচ্ছে পোশাক। ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাঁক-ডাকে মুখরিত পুরো এলাকা। যেখানে নিম্ন আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষেরা এসেছেন স্বল্প দামে পছন্দের গরম কাপড় কিনতে। অস্থায়ী এসব দোকানে কোরিয়া, তাইওয়ান, জাপানসহ বিভিন্ন দেশের পুরনো ব্লেজার, জ্যাকেট, সোয়েটার, ট্রাউজার, মাফলার, টুপি, হুডি, ফুলহাতা গেঞ্জি, কম্বলসহ পুরুষ, নারীসহ ছোট বাচ্চাদের শীতবস্ত্র বিক্রি হচ্ছে। শীত মৌসুমে প্রতিদিন দোকান প্রতি গড়ে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হলেও এ বছর শীত দেরিতে আসায় বেচাকেনা কম হচ্ছে। শীত বাড়লে শীতের পোশাকের বেচাকেনা বাড়বে।
জানা গেছে, প্রতি শীতের মৌসুমে অক্টোবর মাসের শেষ থেকে ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত দীর্ঘ ৪ মাস পুরনো এ সকল শীতের পোশাক বেচা-কেনা চলতে থাকে। প্রতিদিন সকাল থেকে দোকাগুলো খোলা থাকলেও বিকালে থেকে রাত ৯/১০টা পর্যন্ত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের কেনাকাটার ভিড় চোখে পরার মতো।
অস্থায়ী শীতের পোশাক বিক্রিতা মমিন শেখ, দেলোয়ার মণ্ডল বলেন, দীর্ঘ ৭/৮ বছর যাবৎ শীতের সময় অস্থায়ীভাবে আমরা পোশাক বিক্রি করে থাকি। দোকানে নিম্নবিত্ত ও স্বল্প আয়ের মানুষের পাশাপাশি মধ্যবিত্তরাদের ভিড় দেখা যায়। এখানে কমদামি ৫০ থেকে ৩০০ টাকার মধ্যে, মাঝারি ধরনের ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা (বিদেশি জ্যাকেট ও সুয়েটার) পর্যন্ত বিক্রি হয়ে থাকে। কিছু কিছু দামি শীতের পোশাক ও কম্বল ১/২ হাজার টাকায়ও বিক্রি হয়।
বিক্রেতা নুরুজ্জামান জানান, পুরনো এ সকল শীতের পোশাক আমাদের এখানে বাংলাদেশের বাইরে থেকে আসে। গত বছরের চেয়ে এবার দ্বিগুণ দামে কেজি দরে কিনে আনতে হয় এক একটি পোশাকের বেল। গত বছর ২মণ ওজনের যে বেল (পোশাকে বান্ডেল) ১২/১৫ হাজার টাকা ছিল তা এবার ২০/২৫ হাজার টাকা হয়েছে। এখনও তীব্র শীত পড়েনি বিধায় আমাদের বেচা-কেনাও কম হচ্ছে। এখন প্রতিদিন ৪/৫হাজার টাকার বিক্রি হয়। শীত পড়লে বিক্রি আরও বাড়বে।
শীতের পোশাক ক্রেতা মো. আজিজুল ইসলাম বলেন, বাজারে একটি মানসম্মত শীতের পোশাক কিনতে ১৫শ থেকে ২ হাজার টাকা লাগে। কিন্তু এখানে পুরনো শীত বস্ত্র হলেও স্বল্প দামে একটি ভালো শীতের পোশাক কিনতে পারি। এখানে এক্সপার্ট কোয়ালিটির ভালো ভালো জ্যাকেট রয়েছে। দামে পোষালে কিনে নিয়ে যাবো।
শীতের পোশাক ক্রেতা রিক্সা চালক মো. আলমগীর শেখ বলেন, শীত পড়তে শুরু করেছে, নতুন শীতের পোশাক কেনার সামর্থ্য নেই আমার। তাই মেয়ের জন্য ৩০০ টাকা দিকে নতুন কোয়ালিটির পোশাক কিনেছি। আমাদের মতো অতি দরিদ্রদের জন্য একমাত্র ভরসা এই পুরনো শীতের পোশাকের দোকানগুলো।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
ইসমাইল হােসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপাের্টার 






















