সাজেদুর রহমানঃ
বেনাপোল ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক রেজওয়ান গুমের ঘটনার দীর্ঘ ৯ বছর পর বুধবার সকালে গন তদন্ত শুরু করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি টিম। টিমের কাছে স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন রেজোয়ান হোসের চাচা আবু মুছা, চাচাতো ভাই রিপন হোসেন সহ প্রত্যক্ষদর্শী ও ব্যবসায়ীরা।
শার্শা উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাধারন সম্পাদক রেজোয়ান হোসেন ২০১৬ সালের ৪ এপ্রিল বেনাপোল জামে মসজিদের পাশের একটি বাড়ি থেকে বের হয়ে দূর্গাপুর সড়কে ভূমি অফিসের সামনে পৌছাতেই বেনাপোল পোর্ট থানার এএসআই নুর আলমের চোখে পড়ে। বেলা ১২ টার সময় প্রত্যক্ষদর্শী চা দোকানদারের সামনে থেকে তাকে মটর সাইকেলে উঠিয়ে নিয়ে যান। খবর পেয়ে রেজোয়ানের পিতা বেনাপোলের মহিষাডাঙ্গা গ্রামের মিজানুর রহমান ছুটে যান পোর্ট থানায়। থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অপূর্ব হাসান এবং পরিদর্শক তদন্ত শামীম খন্দকারের পায়ে ধরেও খোজ পাইনি একমাত্র ছেলে রেজোয়ানের।
রেজোয়ান তখন বাগআঁচড়া আফিল উদ্দিন কলেজে অনার্স ইতিহাসে বিভাগের ছাত্র ছিল।
রেজোয়ান গুম হবার ৯ বছর পর গত বছরের সেপ্টেম্বরে তার বাবা মিজানুর রহমান যশোরের যুগ্ম জেলা জজ আদালতে গুম ও হত্যার অভিযোগ এনে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা অপূর্ব হাসান, তদন্ত কর্মকর্তা শামীম খন্দকার এবং এএসআই নুর আলমের নাম উল্লেখ করে মামলা রুজু করেন। এর পর থেকে অপূর্ব হাসান পলাতক রয়েছে। শামীম খন্দকার ও নুর আলম চাকরিতে বহাল আছে।
৯ বছর পর আজ (১৫ অক্টোবর) বুধবার সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেনের নেতৃত্বে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত টিমের নিকট স্বাক্ষ্য প্রদান করেছেন তার স্বজনসহ স্থানীয়রা।
রেদওয়ানের ভাই রিপন হোসেন জানান, আমরা থানায় গিয়ে জানতে চাইলে তৎকালীন ওসি অপূর্ব হাসান আমাদের বলেন, তোর ভাই তুরস্কে গিয়ে আইএসে যোগ দিয়েছে, তোরা তাকে আর পাবি না। যদি বেশি খোঁজ করিস তোদের পুরো পরিবারকেই বালির নিচে চাপা দিয়ে রাখব।
রেজোয়ানের পিতা মিজানুর রহমান বলেন, রেদওয়ানের নিখোজ হওয়ার পর পুলিশ ও প্রশাসন কোনো সহায়তা না করে ভয়ভীতি দেখিয়েছেন। সম্প্রতি বিষয়টি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নজরে আসার পর পুনরায় তদন্ত শুরু হয়েছে। শুধু সন্তানের মরদেহটা পেলেও শান্তি পেতাম। ৯ বছর ধরে অপেক্ষা করছি। এখন শুধু আল্লাহর বিচার ও আদালতের রায় চাই।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালের তদন্ত কর্মকর্তা মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, “আমরা এখন প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের পর্যায়ে আছি। এটি একটি মানবাধিকার সংশ্লিষ্ট ঘটনা হতে পারে।”
প্রিন্ট

বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে 
সাজেদুর রহমান, বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি 


















