বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে একাধিক মামলার আসামি ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত হোসেন সিকদারকে (২৬) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি চিহ্নিত সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ডালিম হাওলাদারের প্রধান সহযোগী বলে অভিযোগ রয়েছে। গত রোববার (১৮ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার সূর্যমণি ইউনিয়নের ইন্দ্রকুল গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাউফল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মফিজুলের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তার হোসেন সিকদার ইন্দ্রকুল গ্রামের ফারুক সিকদারের ছেলে। তাঁর বিরুদ্ধে মারধর ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচারসহ বিভিন্ন অভিযোগে বাউফল থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে এসআই মফিজুল বলেন, “হোসেন সিকদার একটি নিয়মিত মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত আসামি। তিনি দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন এবং মাঝেমধ্যে এলাকায় আসা-যাওয়া করতেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”
মামলার বাদী রুনু বেগম অভিযোগ করে জানান, ২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর তাঁর ছেলে জহিরুল ইসলামের ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর অভিযোগ, ডালিম হাওলাদার ও তাঁর বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে হোসেন সিকদার এ হামলায় অংশ নেন। এ সময় তাঁর ছেলেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় এবং তাঁর একটি পা ভেঙে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
রুনু বেগম জানান, দীর্ঘ তিন মাস বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পরও তাঁর ছেলে স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারছেন না। তিনি বলেন, “হোসেন গ্রেপ্তার হওয়ায় আমরা কিছুটা স্বস্তি পেয়েছি। তবে মূল অভিযুক্ত ডালিম এখনো গ্রেপ্তার হননি। আমরা এ ঘটনায় জড়িত আসামিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
এদিকে, ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রের বরাته জানা গেছে, ডালিম হাওলাদারের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা এবং সাজাসংক্রান্ত পরোয়ানা রয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য মামলাগুলোর মধ্যে রয়েছে—
যৌতুক মামলা (সিআর ৩৮৬/২৩): এ মামলায় তাঁর দুই বছরের কারাদণ্ড হয়েছে বলে জানা গেছে।
মাদক মামলা (জিআর ১৫৭/২০): এ মামলায় তাঁর এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
মাদক মামলা (জিআর ২২১/২২): মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন এবং সাক্ষ্য গ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।
চাঁদাবাজির মামলা (জিআর ১৪২/২৫ ও জিআর ৪২৩/২৫): এ দুটি মামলাসহ তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
এদিকে, আরেক ভুক্তভোগী মাহবুব মুহুরী অভিযোগ করেন, হোসেন সিকদার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করে আসছিলেন। এতে তাঁদের সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
এ বিষয়ে সূর্যমণি ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান হাওলাদার বলেন, “হোসেন সিকদার এলাকায় বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সন্ত্রাসী ডালিমের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও তিনি বিভিন্ন সময় বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও অপপ্রচার চালিয়েছেন। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত করে আইন অনুযায়ী তাঁর শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, হোসেন সিকদারের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সোমবার (১৯ অক্টোবর) তাঁকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এ মামলার এক নম্বর আসামি ডালিম হাওলাদারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।
হোসেন সিকদারের গ্রেপ্তারের খবরে এলাকায় স্বস্তি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামি ডালিম হাওলাদারকে দ্রুত গ্রেপ্তারি দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 





















