ঢাকা , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

ফরিদপুরে আইনজীবী মোসাদ্দেকের দাফন সম্পন্ন

মানিক কুমার দাসঃ

 

ফরিদপুর জেলার এজিপি ও ল’রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট মোসাদ্দেক আহমেদ বশিরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার দুইদফা জানাজা শেষে আলীপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

 

সকাল সাড়ে ১০ টায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গনে। ফরিদপুর বারের আইনজীবীরা ছাড়াও মোসাদ্দেকের বন্ধু-বান্ধব, দলীয় নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, ফরিদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ফরিদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা মোসাদ্দেক বশিরের জন্য উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান।

 

মোসাদ্দেক আহমেদ বশিরের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় মমিনখার হাট বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন মাধবদীয়া ময়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আইনজীবীসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।

 

এর আগে রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ফরিদপুর শহরের কাছে বদরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান মোসাদ্দেক বশির। তার মৃত্যুতে পুরো ফরিদপুরে নেমে আসে শোকের ছায়া।

 

জানা গেছে, মোসাদ্দেক বশির জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর পৌরশাখার যুব বিভাগের সভাপতি ছিলেন। কানাইপুর গিয়েছিলেন জামায়াতের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। মোটর সাইকেলে ফেরার পথে একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে পেছন থেকে মাথার ডানপাশে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে তিনিসহ মোটরসাইকেল চালক রাস্তায় ছিটকে পরেন। এসময় বশিরের নাক, কান ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসে। পরে পেছনে থাকা অটো চালক তাদেরকে উদ্ধার করে ফরিদপুরের ৫০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার বশিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

মোসাদ্দেক বশিরের সঙ্গে থাকা আইনজীবী মজিবর বলেন, আমরা রাস্তার বামপাশেই ছিলাম। একটি কাভার্ড ভ্যান হঠাৎই আমাদের ওভারেটক করার সময় পেছনের দিক থেকে আঘাত করলে আমরা বামদিকে পরে যাই। আমি পরে গিয়ে হাতে-পায়ে আঘাত পেলেও বশির স্যার মাথায় আঘাত পান। তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে যায়।

 

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সাংবাদিকতায় যুক্ত হন মোসাদ্দেক বশির। পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। পরে ফরিদপুরে আইনপেশায় যুক্ত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারি আইন কর্মকর্তা (এজিপি) হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি চার বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। বাবা–মা, ভাই–বোন ছাড়াও স্ত্রী এবং তিন কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ের বয়স মাত্র সাড়ে ৬ বছর। মেঝো মেয়ের ২ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স ৬ মাস।

 

জানাজায় অংশ নেওয়া হাজারো মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বশিরের লাশ দেখে। সবাই তাকে ভালো মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। কয়েকজন আইনজীবী জানান, মোসাদ্দেক বশির কখনো মামলার ফি চেয়ে নিতেন না। ভুক্তভোগী যা দিতেন তাই খুশি মনে গ্রহণ করতেন। আর যা আয় করতেন তাও অকাতরে খরচ করতেন গরীবদের জন্য। তিনি বেশিরভাগ সময় মামলা না করে উভয় পক্ষকে ডেকে সালিশের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। যার কারনে অল্প দিনেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। বর্তমান সময়ে তার মতো মানুষ খুব বিরল।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউক্রেনে রাশিয়ার অবরোধ: খাদ্যনিরাপত্তার হুমকিতে বাংলাদেশের করণীয়

error: Content is protected !!

ফরিদপুরে আইনজীবী মোসাদ্দেকের দাফন সম্পন্ন

আপডেট টাইম : ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৫
মানিক কুমার দাস, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি :

মানিক কুমার দাসঃ

 

ফরিদপুর জেলার এজিপি ও ল’রিপোর্টার্স ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট মোসাদ্দেক আহমেদ বশিরের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। আজ সোমবার দুইদফা জানাজা শেষে আলীপুর কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

 

সকাল সাড়ে ১০ টায় প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয় ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতি প্রাঙ্গনে। ফরিদপুর বারের আইনজীবীরা ছাড়াও মোসাদ্দেকের বন্ধু-বান্ধব, দলীয় নেতাকর্মীসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় বক্তব্য দেন ফরিদপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি, ফরিদপুরের চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, ফরিদপুর জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীরসহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ। তারা মোসাদ্দেক বশিরের জন্য উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান।

 

মোসাদ্দেক আহমেদ বশিরের দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয় মমিনখার হাট বাজার জামে মসজিদ সংলগ্ন মাধবদীয়া ময়েজ উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। সেখানে ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, আইনজীবীসহ সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন।

 

এর আগে রোববার সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ফরিদপুর শহরের কাছে বদরপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান মোসাদ্দেক বশির। তার মৃত্যুতে পুরো ফরিদপুরে নেমে আসে শোকের ছায়া।

 

জানা গেছে, মোসাদ্দেক বশির জামায়াতে ইসলামীর ফরিদপুর পৌরশাখার যুব বিভাগের সভাপতি ছিলেন। কানাইপুর গিয়েছিলেন জামায়াতের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে। মোটর সাইকেলে ফেরার পথে একটি কাভার্ড ভ্যান তাকে পেছন থেকে মাথার ডানপাশে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে তিনিসহ মোটরসাইকেল চালক রাস্তায় ছিটকে পরেন। এসময় বশিরের নাক, কান ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে আসে। পরে পেছনে থাকা অটো চালক তাদেরকে উদ্ধার করে ফরিদপুরের ৫০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত ডাক্তার বশিরকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

মোসাদ্দেক বশিরের সঙ্গে থাকা আইনজীবী মজিবর বলেন, আমরা রাস্তার বামপাশেই ছিলাম। একটি কাভার্ড ভ্যান হঠাৎই আমাদের ওভারেটক করার সময় পেছনের দিক থেকে আঘাত করলে আমরা বামদিকে পরে যাই। আমি পরে গিয়ে হাতে-পায়ে আঘাত পেলেও বশির স্যার মাথায় আঘাত পান। তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত বের হয়ে যায়।

 

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় সাংবাদিকতায় যুক্ত হন মোসাদ্দেক বশির। পড়াশোনা শেষ করে ঢাকায় সাংবাদিকতা শুরু করেন তিনি। পরে ফরিদপুরে আইনপেশায় যুক্ত হন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সরকারি আইন কর্মকর্তা (এজিপি) হিসেবে নিয়োগ পান। তিনি চার বোন ও তিন ভাইয়ের মধ্যে সবার ছোট। বাবা–মা, ভাই–বোন ছাড়াও স্ত্রী এবং তিন কন্যা সন্তান রেখে গেছেন। তার বড় মেয়ের বয়স মাত্র সাড়ে ৬ বছর। মেঝো মেয়ের ২ বছর এবং ছোট মেয়ের বয়স ৬ মাস।

 

জানাজায় অংশ নেওয়া হাজারো মানুষ কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন বশিরের লাশ দেখে। সবাই তাকে ভালো মানুষ হিসেবে বর্ণনা করেন। কয়েকজন আইনজীবী জানান, মোসাদ্দেক বশির কখনো মামলার ফি চেয়ে নিতেন না। ভুক্তভোগী যা দিতেন তাই খুশি মনে গ্রহণ করতেন। আর যা আয় করতেন তাও অকাতরে খরচ করতেন গরীবদের জন্য। তিনি বেশিরভাগ সময় মামলা না করে উভয় পক্ষকে ডেকে সালিশের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করতেন। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলতেন। যার কারনে অল্প দিনেই বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেন। বর্তমান সময়ে তার মতো মানুষ খুব বিরল।