ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে

শিক্ষা ডেস্ক: দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ সুগম হয়েছে। বহু বছর ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত থাকার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক শুধু পদমর্যাদা থেকেই বঞ্চিত হননি, বরং এর সঙ্গে জড়িত আর্থিক সুবিধা থেকেও দূরে ছিলেন। আদালতের রায় আসার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এখন শূন্য পদগুলোতে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। তবে আইনি বাধা কাটলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে শিক্ষকদের মনে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি আসেনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক শূন্য পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য প্রথমে জেলাভিত্তিক জ্যেষ্ঠতার তালিকা বা গ্রেডেশন প্রস্তুত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের চাকরির নথি, সার্ভিস বুক এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন যে কোনো যোগ্য শিক্ষক যাতে ভুল তথ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ে কিছুটা সময় ব্যয় হচ্ছে।

শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে থাকার মূল কারণ ছিল ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনি বিরোধ। তৎকালীন বিধিমালার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে আপিল বিভাগ সরকারের পক্ষে রায় প্রদান করেন। আদালতের সেই নির্দেশনায় বলা হয় যে ২০১২ সাল পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতায় অগ্রাধিকার পাবেন এবং জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগের চাকরির অর্ধেক সময় কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে। এই আইনি মারপ্যাঁচ এবং আদালতের রায়ের অনুলিপি পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম থমকে ছিল।

এদিকে আইনি বাধা দূর হওয়ার পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফাইল চালাচালির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেক শিক্ষক। বিশেষ করে যেসব শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ শেষের পথে, তাঁরা দ্রুত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করে পদোন্নতি দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, বছরের পর বছর আইনি লড়াইয়ের পেছনে সময় নষ্ট হওয়ার পর এখন আর কোনোভাবেই কালক্ষেপণ কাম্য নয়।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে একটি বড় পরিবর্তন আসবে। ৩৬ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হলে বিদ্যালয়গুলোর দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব সংকট অনেকাংশে দূর হবে। একই সঙ্গে পদোন্নতির ফলে সৃষ্ট খালি পদগুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

অ্যান্টিবায়োটিক: ডোজ সম্পন্ন না করলে শরীরের যেসব ক্ষতি হয়

error: Content is protected !!

প্রাথমিক শিক্ষকদের পদোন্নতি: আইনি জট খুলেছে, পদোন্নতির অপেক্ষা কবে শেষ হবে

আপডেট টাইম : ৫৫ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

শিক্ষা ডেস্ক: দীর্ঘ আইনি জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রতার পর অবশেষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির পথ সুগম হয়েছে। বহু বছর ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত থাকার কারণে হাজার হাজার শিক্ষক শুধু পদমর্যাদা থেকেই বঞ্চিত হননি, বরং এর সঙ্গে জড়িত আর্থিক সুবিধা থেকেও দূরে ছিলেন। আদালতের রায় আসার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এখন শূন্য পদগুলোতে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে। তবে আইনি বাধা কাটলেও প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার ধীরগতির কারণে শিক্ষকদের মনে এখনো পুরোপুরি স্বস্তি আসেনি।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ৩৬ হাজার ২৩৫টি প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। এই বিশাল সংখ্যক শূন্য পদে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য প্রথমে জেলাভিত্তিক জ্যেষ্ঠতার তালিকা বা গ্রেডেশন প্রস্তুত করা হচ্ছে। দীর্ঘদিন পদোন্নতি বন্ধ থাকায় শিক্ষকদের চাকরির নথি, সার্ভিস বুক এবং অন্যান্য দাপ্তরিক কাগজপত্র অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে যাচাই-বাছাই করতে হচ্ছে। অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানিয়েছেন যে কোনো যোগ্য শিক্ষক যাতে ভুল তথ্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত না হন, সে বিষয়টি নিশ্চিত করতেই মাঠপর্যায়ের তথ্য যাচাইয়ে কিছুটা সময় ব্যয় হচ্ছে।

শিক্ষকদের পদোন্নতি আটকে থাকার মূল কারণ ছিল ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ সংক্রান্ত আইনি বিরোধ। তৎকালীন বিধিমালার বৈধতা নিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হলেও পরবর্তীতে আপিল বিভাগ সরকারের পক্ষে রায় প্রদান করেন। আদালতের সেই নির্দেশনায় বলা হয় যে ২০১২ সাল পর্যন্ত সরাসরি নিয়োগ পাওয়া শিক্ষকেরা জ্যেষ্ঠতায় অগ্রাধিকার পাবেন এবং জাতীয়করণ হওয়া শিক্ষকদের আগের চাকরির অর্ধেক সময় কার্যকর চাকরিকাল হিসেবে গণ্য হবে। এই আইনি মারপ্যাঁচ এবং আদালতের রায়ের অনুলিপি পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যাওয়ায় প্রশাসনিক কার্যক্রম থমকে ছিল।

এদিকে আইনি বাধা দূর হওয়ার পরও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং দীর্ঘমেয়াদি ফাইল চালাচালির আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন অনেক শিক্ষক। বিশেষ করে যেসব শিক্ষকের চাকরির মেয়াদ শেষের পথে, তাঁরা দ্রুত জ্যেষ্ঠতার তালিকা প্রকাশ করে পদোন্নতি দেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন। শিক্ষকদের ভাষ্যমতে, বছরের পর বছর আইনি লড়াইয়ের পেছনে সময় নষ্ট হওয়ার পর এখন আর কোনোভাবেই কালক্ষেপণ কাম্য নয়।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই পদোন্নতি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে প্রাথমিক শিক্ষা খাতে একটি বড় পরিবর্তন আসবে। ৩৬ হাজারেরও বেশি সহকারী শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে উন্নীত হলে বিদ্যালয়গুলোর দীর্ঘদিনের নেতৃত্ব সংকট অনেকাংশে দূর হবে। একই সঙ্গে পদোন্নতির ফলে সৃষ্ট খালি পদগুলোতে নতুন শিক্ষক নিয়োগের পথও উন্মুক্ত হবে, যা দেশের প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থার সামগ্রিক মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।