ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

প্রধানমন্ত্রীর সফর: সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা

অর্থনীতি ডেস্ক: বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধি ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগের জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও সেবাখাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জাপানের সঙ্গে চলমান এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চলতি বছরের শুরুর দিকে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএর কার্যকর বাস্তবায়ন। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং, সেমিকন্ডাক্টর, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ শিল্প এবং জ্বালানি খাতের মতো প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে অংশীদারত্ব জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিগ বি বা বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট উদ্যোগের আওতায় গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো নির্মাণেও দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

তবে এই বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল পেতে হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং কাঠামোগত সমস্যাগুলো দূর করতে না পারলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসার অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে জাপানি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী রপ্তানি পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নতুন বাজার ধরতে সুনির্দিষ্ট বিপণন কৌশল প্রণয়ন করা আবশ্যক।

বাণিজ্য ও অবকাঠামোর পাশাপাশি জাপանի শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট সুযোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বয়স্ক জনসংখ্যার দেশটিতে শ্রমসংকট মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ থাকলেও পূর্বের বিভিন্ন সমন্বয়হীনতার কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাই জাপানি ভাষার পাশাপাশি যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রোধ করে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী অভিবাসন নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

প্রধানমন্ত্রীর সফর: সূর্যোদয়ের দেশ থেকে আমাদের প্রত্যাশা

আপডেট টাইম : ২১ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: বর্তমান ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পরিধি ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জাপান সফরকে কেন্দ্র করে দেশের অর্থনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের বিদেশি বিনিয়োগের জোরালো আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের উৎপাদন ও সেবাখাতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জাপানের সঙ্গে চলমান এই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে চলতি বছরের শুরুর দিকে স্বাক্ষরিত বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি বা ইপিএর কার্যকর বাস্তবায়ন। এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং স্বল্পোন্নত দেশ থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা সহজ হবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে ম্যানুফ্যাকচারিং, সেমিকন্ডাক্টর, তথ্যপ্রযুক্তি, ওষুধ শিল্প এবং জ্বালানি খাতের মতো প্রযুক্তিগত ও কৌশলগত ক্ষেত্রগুলোতে অংশীদারত্ব জোরদার করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিগ বি বা বে অব বেঙ্গল ইন্ডাস্ট্রিয়াল গ্রোথ বেল্ট উদ্যোগের আওতায় গভীর সমুদ্রবন্দর ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় অবকাঠামো নির্মাণেও দুই পক্ষ ঐকমত্যে পৌঁছেছে।

তবে এই বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনার পূর্ণ সুফল পেতে হলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রতা, আমলাতান্ত্রিক জটিলতা এবং কাঠামোগত সমস্যাগুলো দূর করতে না পারলে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। বন্দর ও কাস্টমস ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, দক্ষ জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এবং ব্যবসার অনুমোদন প্রক্রিয়া আরও সহজ করার মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের আস্থার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে জাপানি ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী রপ্তানি পণ্যের গুণগত মান নিশ্চিত করা এবং নতুন বাজার ধরতে সুনির্দিষ্ট বিপণন কৌশল প্রণয়ন করা আবশ্যক।

বাণিজ্য ও অবকাঠামোর পাশাপাশি জাপանի শ্রমবাজার বাংলাদেশের জন্য একটি বিরাট সুযোগ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বয়স্ক জনসংখ্যার দেশটিতে শ্রমসংকট মোকাবিলায় দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির সুযোগ থাকলেও পূর্বের বিভিন্ন সমন্বয়হীনতার কারণে তা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হয়নি। তাই জাপানি ভাষার পাশাপাশি যথাযথ কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিতে হবে। দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রোধ করে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী অভিবাসন নিশ্চিত করতে একটি স্বচ্ছ প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গড়ে তুলতে হবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।