ঢাকা , বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

‘আলফাডাঙ্গায় জমিজমার জেরে‘

পুলিশের এএসআই ও সাবেক সেনা সদস্যের হামলায় কলেজ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক ও সাবেক সেনা সদস্যের হামলায় কলেজ শিক্ষার্থী মো. জনি শিকদার (২৮) নামে তাদের এক ভাতিজাসহ পরিবারের চারজন আহতের ঘটনা ঘটেছে।

জনি শিকদার মারাত্বক আহত হয়ে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সে ফরিদুপর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যাল কলেজের মাষ্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

গত ৩০ মে রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বানা ইউনিয়নের টোনাপাড়া গ্রামে দুই পরিবারের মধ্যে জমিজমা নিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই কলেজ শিক্ষার্থীর বড় ভাই মো. জুয়েল সিকদার বাদি হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-০২। মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান শিকদারসহ ৫জনকে আসামি করা হয়েছে।

থানা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের টোনাপাড়া গ্রামের নাদের সিকদারের ছেলে পুলিশের সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মতিয়ার রহমান শিকদার (৫৭) ও সাবেক সেনা সদস্য আহাদুজ্জামান হাসুর (৫০) সাথে একই গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমান শিকদারের ছেলেদের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে।

জুয়েল সিকদারের বাবার পৈত্তিক জমিতে ঘর তুলতে বাড়িতে ইট, বালি-সিমেন্ট আনায় কথা কাটাকাটির জের ধরে গত ৩০ মে রাত সাড়ে ৭টার দিকে পূর্ব শত্রুতায় হামলা চালায় মতিয়ার রহমান শিকদার ও সাবেক সেনা সদস্য আসাদুজ্জামানগং।

হামলায় কলেজ ছাত্র জনি শিকদার (২৮), জুয়েল শিকদার (৩৮), আনিস শিকদার (৩৪) ও বেলায়েত শিকদার (৪২) আহত হয়। মারাত্বক আহত অবস্থায় জনি শিকদার ও জুয়েল শিকদারকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে গুরুতর আহত জনি শিকদারকে রাতেই ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে কলেজ শিক্ষার্থী মো. জনি শিকদার ফরিদপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মো. জুয়েল সিকদার বাদি হয়ে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের রিজার্ভ ফোর্সের এএসআই মতিয়ার রহমান শিকদার (৫৭), সাবেক সেনা সদস্য আহাদুজ্জামান শিকদার (৫০), মতিয়ার রহমান শিকদারের ছেলে গোলাম রাব্বী শিকদার (২৮), আহাদুজ্জামানের স্ত্রী মোসা. ডেইজি বেগম (৩৭) ও মেয়ে নিতু খানমের (১৯) নামে থানায় ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। মতিয়ার রহমান শিকদার পাশের বোয়ালমারী থানায় কর্তব্যরত।

জুয়েল শিকদারের বিধবা মা রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী ৩২ বছর আগে মারা গেছে। তার মৃত্যুর পর থেকেই আমার দেবররা অত্যাচার শুরু করেন।

২০১১ সালে আগে একবার বাড়িতে ঘর করার জন্য বালু আনায় তখনও তারা আমার পরিবারের উপর হামলা চালায়। ঘর করতেও দেয় না, জমাজমি ভাগ করে করেও দিতে চায় না। কিছু জমি জোর করে তারা রেকর্ড করেও নিয়েছে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বোয়ালমারীতে বাসা ভাড়া করে থাকি।

ছেলেরা বাপের ভিটায় ঘর তুলতে ইট, বালু আনলে গত ৩০ মে রাতে মতিয়ারগং আমার পরিবারের উপর রামদা, রড, লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। আমি হামলাকারীদের উপর্যুক্ত বিচার চাই।

মামলার বাদি মো. জুয়েল শিকদার বলেন, আমার চাচা বোয়ালমারী থানা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসে কথা কাটাকাটির মাঝে ঘর থেকে রামদা এনে মাথায় ও বাম হাতে কোপ দেয়। অন্যরা এলোপাথারি মারধর করে আমাদের। পাশের গ্রামে চাচার স্বশুর বাড়ি থাকায় তার শ্যালক লিয়াকতকে দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। লিয়াকত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই)।

হামলার কথা অস্বীকার করে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক মো. মতিয়ার রহমান শিকদার বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। আমার ভাইয়ের ছেলেরা যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়। আমি ওইদিন বাড়িতে যায়নি এবং এর সাথে আমি জড়িত নই।

এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অপরাধী পুলিশের লোক হলেও সে ছাড় পাবে না। আসামীদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারীতে জমকালো দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি, বড়নগর সাহা বাড়িতে থাকছে বর্ণাঢ্য আয়োজন

error: Content is protected !!

‘আলফাডাঙ্গায় জমিজমার জেরে‘

পুলিশের এএসআই ও সাবেক সেনা সদস্যের হামলায় কলেজ শিক্ষার্থী গুরুতর আহত

আপডেট টাইম : ০৩:৩৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ জুন ২০২১
মো. নুর ইসলাম, বিশেষ প্রতিনিধিঃ :

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় এক পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক ও সাবেক সেনা সদস্যের হামলায় কলেজ শিক্ষার্থী মো. জনি শিকদার (২৮) নামে তাদের এক ভাতিজাসহ পরিবারের চারজন আহতের ঘটনা ঘটেছে।

জনি শিকদার মারাত্বক আহত হয়ে ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সে ফরিদুপর রাজেন্দ্র বিশ্ববিদ্যাল কলেজের মাষ্টার্স শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী।

গত ৩০ মে রাত সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার বানা ইউনিয়নের টোনাপাড়া গ্রামে দুই পরিবারের মধ্যে জমিজমা নিয়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই কলেজ শিক্ষার্থীর বড় ভাই মো. জুয়েল সিকদার বাদি হয়ে আলফাডাঙ্গা থানায় গতকাল মঙ্গলবার রাতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলা নম্বর-০২। মামলায় পুলিশ কর্মকর্তা মতিয়ার রহমান শিকদারসহ ৫জনকে আসামি করা হয়েছে।

থানা ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের টোনাপাড়া গ্রামের নাদের সিকদারের ছেলে পুলিশের সহকারী উপপুলিশ পরিদর্শক (এএসআই) মতিয়ার রহমান শিকদার (৫৭) ও সাবেক সেনা সদস্য আহাদুজ্জামান হাসুর (৫০) সাথে একই গ্রামের মৃত আতিয়ার রহমান শিকদারের ছেলেদের সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিন বিরোধ চলে আসছে।

জুয়েল সিকদারের বাবার পৈত্তিক জমিতে ঘর তুলতে বাড়িতে ইট, বালি-সিমেন্ট আনায় কথা কাটাকাটির জের ধরে গত ৩০ মে রাত সাড়ে ৭টার দিকে পূর্ব শত্রুতায় হামলা চালায় মতিয়ার রহমান শিকদার ও সাবেক সেনা সদস্য আসাদুজ্জামানগং।

হামলায় কলেজ ছাত্র জনি শিকদার (২৮), জুয়েল শিকদার (৩৮), আনিস শিকদার (৩৪) ও বেলায়েত শিকদার (৪২) আহত হয়। মারাত্বক আহত অবস্থায় জনি শিকদার ও জুয়েল শিকদারকে আলফাডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে গুরুতর আহত জনি শিকদারকে রাতেই ফরিদপুর বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। বাকিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। বর্তমানে কলেজ শিক্ষার্থী মো. জনি শিকদার ফরিদপুর মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে মো. জুয়েল সিকদার বাদি হয়ে জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের রিজার্ভ ফোর্সের এএসআই মতিয়ার রহমান শিকদার (৫৭), সাবেক সেনা সদস্য আহাদুজ্জামান শিকদার (৫০), মতিয়ার রহমান শিকদারের ছেলে গোলাম রাব্বী শিকদার (২৮), আহাদুজ্জামানের স্ত্রী মোসা. ডেইজি বেগম (৩৭) ও মেয়ে নিতু খানমের (১৯) নামে থানায় ১৪৩/৩২৩/৩২৬/৩০৭/৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। মতিয়ার রহমান শিকদার পাশের বোয়ালমারী থানায় কর্তব্যরত।

জুয়েল শিকদারের বিধবা মা রহিমা বেগম অভিযোগ করে বলেন, আমার স্বামী ৩২ বছর আগে মারা গেছে। তার মৃত্যুর পর থেকেই আমার দেবররা অত্যাচার শুরু করেন।

২০১১ সালে আগে একবার বাড়িতে ঘর করার জন্য বালু আনায় তখনও তারা আমার পরিবারের উপর হামলা চালায়। ঘর করতেও দেয় না, জমাজমি ভাগ করে করেও দিতে চায় না। কিছু জমি জোর করে তারা রেকর্ড করেও নিয়েছে। অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বোয়ালমারীতে বাসা ভাড়া করে থাকি।

ছেলেরা বাপের ভিটায় ঘর তুলতে ইট, বালু আনলে গত ৩০ মে রাতে মতিয়ারগং আমার পরিবারের উপর রামদা, রড, লাঠি নিয়ে হামলা চালায়। আমি হামলাকারীদের উপর্যুক্ত বিচার চাই।

মামলার বাদি মো. জুয়েল শিকদার বলেন, আমার চাচা বোয়ালমারী থানা থেকে গ্রামের বাড়িতে এসে কথা কাটাকাটির মাঝে ঘর থেকে রামদা এনে মাথায় ও বাম হাতে কোপ দেয়। অন্যরা এলোপাথারি মারধর করে আমাদের। পাশের গ্রামে চাচার স্বশুর বাড়ি থাকায় তার শ্যালক লিয়াকতকে দিয়ে আমাকে মেরে ফেলার হুমকিও দিয়েছে। লিয়াকত পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই)।

হামলার কথা অস্বীকার করে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক মো. মতিয়ার রহমান শিকদার বলেন, আমি ঘটনাটি শুনেছি। আমার ভাইয়ের ছেলেরা যে অভিযোগ করেছে তা সঠিক নয়। আমি ওইদিন বাড়িতে যায়নি এবং এর সাথে আমি জড়িত নই।

এ ব্যাপারে আলফাডাঙ্গা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, হামলার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। অপরাধী পুলিশের লোক হলেও সে ছাড় পাবে না। আসামীদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।