ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

পাথরের ব্যবসা ছেড়ে কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান, অনাবাদি জমিতে গড়েছেন সমন্বিত খামার

অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে পাথরের ব্যবসা করে আসলেও সময়ের পরিবর্তনে নতুন এক পথ বেছে নিয়েছেন মনিরুজ্জামান নামের এক উদ্যোগী ব্যক্তি। প্রথাগত ব্যবসার লাভজনক ক্ষেত্র ছেড়ে তিনি পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন কৃষিখাতে। মূলত কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি অনাবাদি ও পতিত জমিগুলোকে উৎপাদনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপে একসময় অবহেলিত পড়ে থাকা জমিগুলো এখন সবুজে শ্যামলে ভরে উঠেছে এবং দেশের কৃষিখাতে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি প্রায় ২৫ বিঘা জমির ওপর একটি সমন্বিত কৃষিখামার গড়ে তোলেন। এই বিশাল খামারে ঐতিহ্যবাহী ফসলের পাশাপাশি আধুনিক ও লাভজনক বিভিন্ন কৃষিপণ্যের চাষাবাদ করা হচ্ছে। জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি খামার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। এর ফলে প্রতি বিঘায় ফলন যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি উৎপাদনের মানও অনেক উন্নত হয়েছে।

সমন্বিত এই খামারটিতে ফসল চাষাবাদের পাশাপাশি মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু পালনের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একটি খাতের বর্জ্য অন্য খাতের সম্পূরক খাদ্য বা সার হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি এখানে চক্রাকার অর্থনীতির এক দারুণ উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। মাছ, হাঁস-মুরগি, গরু এবং বিভিন্ন শাকসবজির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই খামারটি অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এই খামারটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মনিরুজ্জামানের এই সফলতার গল্প আশপাশের এলাকার অনেক তরুণ ও উদ্যমী মানুষকে কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধ করছে। অনেকেই এখন তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে অনাবাদি জমিতে খামার গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে এ ধরনের সমন্বিত খামার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এমন উদ্যোগ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আরও বড় পরিসরে বিস্তার লাভ করতে পারবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

পাথরের ব্যবসা ছেড়ে কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান, অনাবাদি জমিতে গড়েছেন সমন্বিত খামার

error: Content is protected !!

পাথরের ব্যবসা ছেড়ে কৃষি উদ্যোক্তা মনিরুজ্জামান, অনাবাদি জমিতে গড়েছেন সমন্বিত খামার

আপডেট টাইম : ৯ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘদিন ধরে পাথরের ব্যবসা করে আসলেও সময়ের পরিবর্তনে নতুন এক পথ বেছে নিয়েছেন মনিরুজ্জামান নামের এক উদ্যোগী ব্যক্তি। প্রথাগত ব্যবসার লাভজনক ক্ষেত্র ছেড়ে তিনি পুরোপুরি মনোনিবেশ করেন কৃষিখাতে। মূলত কোনো ধরনের পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি অনাবাদি ও পতিত জমিগুলোকে উৎপাদনের আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেন। তাঁর এই সাহসী পদক্ষেপে একসময় অবহেলিত পড়ে থাকা জমিগুলো এখন সবুজে শ্যামলে ভরে উঠেছে এবং দেশের কৃষিখাতে এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।

প্রাথমিক পর্যায়ে বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে তিনি প্রায় ২৫ বিঘা জমির ওপর একটি সমন্বিত কৃষিখামার গড়ে তোলেন। এই বিশাল খামারে ঐতিহ্যবাহী ফসলের পাশাপাশি আধুনিক ও লাভজনক বিভিন্ন কৃষিপণ্যের চাষাবাদ করা হচ্ছে। জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে তিনি খামার ব্যবস্থাপনায় আধুনিক কৃষিপ্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি প্রয়োগ করেছেন। এর ফলে প্রতি বিঘায় ফলন যেমন বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি উৎপাদনের মানও অনেক উন্নত হয়েছে।

সমন্বিত এই খামারটিতে ফসল চাষাবাদের পাশাপাশি মৎস্য চাষ এবং গবাদিপশু পালনের সুব্যবস্থা রাখা হয়েছে। একটি খাতের বর্জ্য অন্য খাতের সম্পূরক খাদ্য বা সার হিসেবে ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি এখানে চক্রাকার অর্থনীতির এক দারুণ উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। মাছ, হাঁস-মুরগি, গরু এবং বিভিন্ন শাকসবজির সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই খামারটি অল্প সময়ের মধ্যেই এলাকার মানুষের নজর কাড়তে সক্ষম হয়েছে। স্থানীয় বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির মাধ্যমে এই খামারটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

মনিরুজ্জামানের এই সফলতার গল্প আশপাশের এলাকার অনেক তরুণ ও উদ্যমী মানুষকে কৃষিকাজে উদ্বুদ্ধ করছে। অনেকেই এখন তাঁর কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে অনাবাদি জমিতে খামার গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং আমদানি নির্ভরতা কমাতে এ ধরনের সমন্বিত খামার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সরকারি ও বেসরকারি সহযোগিতা পেলে এমন উদ্যোগ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আরও বড় পরিসরে বিস্তার লাভ করতে পারবে।