ঢাকা , সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

দৌলতপুরে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ঃ ১১ পদের ৯টি শূন্য, দুজনের একজন ছুটিতে, ভোগান্তি

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও পশু হাসপাতাল চরম জনবলের সংকটে ভুগছে। ফলে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার খামারি ও কয়েক লাখ কৃষক মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে জনবলের সংকটে থাকা এই কার্যালয়ের অবস্থা আরও নাজুক আকার ধারণ করেছে মাসখানেক আগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর।

 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১১টি পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন ড্রেসার ও একজন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণিস্বাস্থ্য)। বাকি ৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। তার মধ্যে একমাত্র উপসহকারী কর্মকর্তা বর্তমানে অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় কার্যত পুরো অফিসের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে।

 

মাসখানেক আগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বদলি হওয়ায় দৌলতপুরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পার্শ্ববর্তী মিরপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে। কিন্তু নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় দৌলতপুরে নিয়মিত উপস্থিত হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্থানীয় খামারিরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

প্রায় ৮ লাখ মানুষের বসবাসের এই বৃহৎ উপজেলায় সাড়ে ৩ লাখের বেশি গবাদিপশু ও ১০ লাখের বেশি হাঁস-মুরগি রয়েছে। কৃষি ও পশুপালন এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার অন্যতম উৎস। কিন্তু চিকিৎসকের সংকটে পশুগুলো সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। এতে খামারিরা বাধ্য হচ্ছেন গ্রাম্য পশু চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে। ফলে পশু মৃত্যুর হার ও খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

 

দপ্তর সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে দৌলতপুরে প্রকল্পভিত্তিক আরও পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। তবে তাঁদের নিয়োগের মেয়াদ চলতি বছরের শেষ দিকে ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ শেষ হবে। এর মধ্যে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের চারজন এবং উন্নত জাতের ঘাস চাষ প্রকল্পের একজন দায়িত্বে রয়েছেন।

 

হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাদিপুর এলাকার এনএসআর অ্যাগ্রো ফার্ম অ্যান্ড ফিশারিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাইম ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে জনবলের সংকটের কারণে আমরা সঠিক সময়ে পশুগুলোর চিকিৎসা করাতে পারি না। এখন তো কোনো স্থায়ী ডাক্তার নেই। ডাকলেও আসেন না, এলেও টাকা দাবি করেন। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের পশু চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হচ্ছি। আমাদের খামারে ৮০টির মতো গরু-মহিষ রয়েছে। তাদের সেবা দেওয়া এখন খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

একই অভিযোগ করেন পশুপালক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, তিন দিন ধরে আমার দুটি গরু অসুস্থ। হাসপাতালে কোনো ডাক্তার না থাকায় গ্রামের চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। এতে পশুর মৃত্যুঝুঁকি থেকে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা নিরুপায়।

 

মিরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও দৌলতপুরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, ‘বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলায় মাত্র দুজন দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া প্রকল্পের অধীনে আরও পাঁচজন আছেন। আমরা নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে আসছি। সংকটের কারণে খামারি ও চাষিরা সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। অনেকে গ্রাম্য চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘জেলার প্রায় সব উপজেলায় জনবলের সংকট রয়েছে। তবে দৌলতপুরের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। সেখানে বর্তমানে কোনো সার্জন বা স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। মিরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কাজ করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।

 

 

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা-মা ও শিক্ষকদের অবাধ্য হয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছানো যায় না: সেলিমুজ্জামান সেলিম এমপি

error: Content is protected !!

দৌলতপুরে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ঃ ১১ পদের ৯টি শূন্য, দুজনের একজন ছুটিতে, ভোগান্তি

আপডেট টাইম : ০৭:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ অক্টোবর ২০২৫
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হোসেন বাবুঃ

 

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় ও পশু হাসপাতাল চরম জনবলের সংকটে ভুগছে। ফলে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার খামারি ও কয়েক লাখ কৃষক মারাত্মক বিপাকে পড়েছেন।

 

দীর্ঘদিন ধরে জনবলের সংকটে থাকা এই কার্যালয়ের অবস্থা আরও নাজুক আকার ধারণ করেছে মাসখানেক আগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বদলি হওয়ার পর।

 

উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, ১১টি পদে কর্মকর্তা-কর্মচারী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র একজন ড্রেসার ও একজন উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (প্রাণিস্বাস্থ্য)। বাকি ৯টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য। তার মধ্যে একমাত্র উপসহকারী কর্মকর্তা বর্তমানে অসুস্থতার কারণে ছুটিতে থাকায় কার্যত পুরো অফিসের কার্যক্রম অচল হয়ে পড়েছে।

 

মাসখানেক আগে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বদলি হওয়ায় দৌলতপুরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পার্শ্ববর্তী মিরপুর উপজেলার প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাকে। কিন্তু নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করায় দৌলতপুরে নিয়মিত উপস্থিত হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। ফলে স্থানীয় খামারিরা প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরামর্শ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

 

প্রায় ৮ লাখ মানুষের বসবাসের এই বৃহৎ উপজেলায় সাড়ে ৩ লাখের বেশি গবাদিপশু ও ১০ লাখের বেশি হাঁস-মুরগি রয়েছে। কৃষি ও পশুপালন এখানকার মানুষের অর্থনৈতিক সচ্ছলতার অন্যতম উৎস। কিন্তু চিকিৎসকের সংকটে পশুগুলো সময়মতো সঠিক চিকিৎসা পাচ্ছে না। এতে খামারিরা বাধ্য হচ্ছেন গ্রাম্য পশু চিকিৎসকদের শরণাপন্ন হতে। ফলে পশু মৃত্যুর হার ও খরচ বেড়ে যাচ্ছে।

 

দপ্তর সূত্র আরও জানায়, বর্তমানে দৌলতপুরে প্রকল্পভিত্তিক আরও পাঁচজন কর্মকর্তা-কর্মচারী কাজ করছেন। তবে তাঁদের নিয়োগের মেয়াদ চলতি বছরের শেষ দিকে ও ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি নাগাদ শেষ হবে। এর মধ্যে প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন প্রকল্পের চারজন এবং উন্নত জাতের ঘাস চাষ প্রকল্পের একজন দায়িত্বে রয়েছেন।

 

হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের সাদিপুর এলাকার এনএসআর অ্যাগ্রো ফার্ম অ্যান্ড ফিশারিজের দায়িত্বপ্রাপ্ত নাইম ইসলাম বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসে জনবলের সংকটের কারণে আমরা সঠিক সময়ে পশুগুলোর চিকিৎসা করাতে পারি না। এখন তো কোনো স্থায়ী ডাক্তার নেই। ডাকলেও আসেন না, এলেও টাকা দাবি করেন। তাই বাধ্য হয়ে গ্রামের পশু চিকিৎসকদের দ্বারস্থ হচ্ছি। আমাদের খামারে ৮০টির মতো গরু-মহিষ রয়েছে। তাদের সেবা দেওয়া এখন খুব কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

একই অভিযোগ করেন পশুপালক দেলোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, তিন দিন ধরে আমার দুটি গরু অসুস্থ। হাসপাতালে কোনো ডাক্তার না থাকায় গ্রামের চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করাতে হচ্ছে। এতে পশুর মৃত্যুঝুঁকি থেকে যাচ্ছে, কিন্তু আমরা নিরুপায়।

 

মিরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও দৌলতপুরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত আব্দুল্লাহিল কাফি বলেন, ‘বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলায় মাত্র দুজন দায়িত্ব পালন করছেন। এ ছাড়া প্রকল্পের অধীনে আরও পাঁচজন আছেন। আমরা নিয়মিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়ে আসছি। সংকটের কারণে খামারি ও চাষিরা সঠিক সেবা পাচ্ছেন না। অনেকে গ্রাম্য চিকিৎসকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন।

 

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মামুন হোসেন মণ্ডল বলেন, ‘জেলার প্রায় সব উপজেলায় জনবলের সংকট রয়েছে। তবে দৌলতপুরের পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপ। সেখানে বর্তমানে কোনো সার্জন বা স্থায়ী কর্মকর্তা নেই। মিরপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে কাজ করছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত সমাধান হবে।