ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

জাতীয় নিরাপত্তায় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

জাতীয় ডেস্ক: উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কৌশলগত নেতৃত্ব ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সর্বদা বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সম্প্রতি বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন এবং বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে তাদের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানকারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অবদান এবং সামরিক শিক্ষার প্রসারে তার দূরদর্শী ভূমিকার কথা সশ্রদ্ধচিত্তে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, গত বছর সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা, সমাজে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ দেন তিনি। তিনি মনে করেন, একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিকল্প নেই। দেশের তরুণ ও দক্ষ নেতৃত্বকে এই যাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বর্তমান যুগের বহুমুখী নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন যে, আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেবল সামরিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হামলা, আন্তদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলো এখন নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে নীতিনির্ধাতকদের অধিকতর সতর্ক ও দূরদর্শী হতে হবে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে সৃষ্ট অপপ্রচার জাতীয় নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন, বিশ্লেষণক্ষম এবং উদার মানসিকতার নেতৃত্ব গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সমন্বয় এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এসব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন যে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সবকিছুর ওপরে স্থান দিতে হবে। সততা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং জবাবদিহি বজায় রেখে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখতে হবে। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, এই প্রতিষ্ঠানটি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিদেশি প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশে অর্জিত এই অভিজ্ঞতা তাদের নিজ নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সাহায্য করবে। সবশেষে, সংঘাত ও দূরত্ব পরিহার করে সংলাপ এবং শান্তির পথ অনুসরণের মাধ্যমে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপ্রধান। এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

২ থেকে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে এইচএসসিতে অকৃতকার্যদের পরীক্ষা ও ফল প্রকাশ

error: Content is protected !!

জাতীয় নিরাপত্তায় ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি অনুসরণের আহ্বান রাষ্ট্রপতির

আপডেট টাইম : ৫২ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

জাতীয় ডেস্ক: উদীয়মান নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবিলা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কৌশলগত নেতৃত্ব ও সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে সর্বদা বাংলাদেশ ফার্স্ট নীতিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। দেশের স্বাধীনতা, মর্যাদা এবং জনগণের সামগ্রিক কল্যাণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। সম্প্রতি বঙ্গভবনে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স এবং আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্সের প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এই দিকনির্দেশনা প্রদান করেন। একই সঙ্গে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সুবিধার ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বন্ধুভাবাপন্ন সম্পর্ক বজায় রাখার ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক প্রশাসন এবং বিভিন্ন বন্ধুপ্রতিম দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বক্তব্যের শুরুতে রাষ্ট্রপতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং স্বাধীন বাংলাদেশ অর্জনে তাদের ঐতিহাসিক আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। এ সময় তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা প্রদানকারী শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অবদান এবং সামরিক শিক্ষার প্রসারে তার দূরদর্শী ভূমিকার কথা সশ্রদ্ধচিত্তে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি, গত বছর সংঘটিত গণঅভ্যুত্থান এবং দীর্ঘ সময় ধরে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামে যাঁরা জীবন উৎসর্গ করেছেন, তাঁদের প্রতিও শ্রদ্ধা জানান তিনি। জনগণের মৌলিক অধিকার রক্ষা, সমাজে ন্যায়বিচার ও জবাবদিহি প্রতিষ্ঠা এবং গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে আরও সুদৃঢ় করার তাগিদ দেন তিনি। তিনি মনে করেন, একটি স্থিতিশীল ও সমৃদ্ধ রাষ্ট্র গঠনে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর বিকল্প নেই। দেশের তরুণ ও দক্ষ নেতৃত্বকে এই যাত্রায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

বর্তমান যুগের বহুমুখী নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন যে, আধুনিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেবল সামরিক সক্ষমতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হামলা, আন্তদেশীয় অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মতো বিষয়গুলো এখন নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের কৌশলগত ভূরাজনৈতিক অবস্থানের কারণে নীতিনির্ধাতকদের অধিকতর সতর্ক ও দূরদর্শী হতে হবে। এছাড়া কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তির অপব্যবহারের ফলে সৃষ্ট অপপ্রচার জাতীয় নিরাপত্তা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ধরনের বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় আধুনিক জ্ঞানসম্পন্ন, বিশ্লেষণক্ষম এবং উদার মানসিকতার নেতৃত্ব গড়ে তোলার তাগিদ দেন তিনি। বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক সমন্বয় এবং সময়োপযোগী পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমেই কেবল এসব চ্যালেঞ্জ সফলভাবে মোকাবেলা করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি বলেন যে, পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় দেশ ও জনগণের স্বার্থকে সবকিছুর ওপরে স্থান দিতে হবে। সততা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব এবং জবাবদিহি বজায় রেখে তাদের নিজ নিজ ক্ষেত্রে অবদান রাখতে হবে। ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের ভূয়সী প্রশংসা করে তিনি বলেন যে, এই প্রতিষ্ঠানটি সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বিদেশি প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিদেশি অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, বাংলাদেশে অর্জিত এই অভিজ্ঞতা তাদের নিজ নিজ দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে সাহায্য করবে। সবশেষে, সংঘাত ও দূরত্ব পরিহার করে সংলাপ এবং শান্তির পথ অনুসরণের মাধ্যমে একটি সৌহার্দ্যপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলার ওপর জোর দেন রাষ্ট্রপ্রধান। এর আগে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের কমান্ড্যান্ট লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. ফয়জুর রহমান।