ঢাকা , রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ১৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

চুয়াডাঙ্গার ভালাইপুরে সার পাচার চেষ্টা ভেস্তে দিল জনতাঃ দুই ভ্যানে ২০ বস্তা সার জব্দ

হুমায়ন আহমেদঃ
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ভালাইপুর মোড়ের সার ডিলার দিশা এন্টারপ্রাইজ থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া সার স্থানীয়দের সন্দেহে আটক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে গোকুলখালী বাজারে সাধারণ মানুষ দুটি ভ্যান থামিয়ে তল্লাশি করলে বেরিয়ে আসে পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ভ্যান দুটিতে মোট ১০ বস্তা ইউরিয়া ও ১০ বস্তা ডিএপি সার পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি—এই সারগুলো দিশা এন্টারপ্রাইজ থেকে মেহেরপুরের দরবেশপুর এবং দামুড়হুদার দলিয়ারপুর গ্রামের দিকে পাচার করা হচ্ছিল। কাগজপত্র ও উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিটন আহম্মেদ, আফজাল মাহমুদ এবং আরিফুর রহমান। তারা সারগুলো জব্দ করে উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশের নির্দেশনায় ন্যায্যমূল্যে ১৯ জন স্থানীয় কৃষকের কাছে বিক্রি করেন। পরে সার বিক্রির পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে নির্দিষ্ট কোডে আলমডাঙ্গা সোনালী ব্যাংক শাখায় জমা দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি জামাল সাদিক, কাইফ আহম্মেদ, মোক্তার হোসেন, সজল হোসেনসহ আরও অনেকে অভিযোগ করে বলেন- “দিশা এন্টারপ্রাইজ থেকে প্রায়ই এইভাবে সার পাচার করা হয়। বেশিরভাগ সময়ই তা ধরা পড়ে না। সরকারি দামের সার বেশি লাভের আশায় অন্য এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক জামিরুল ইসলাম ও আনিছুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- “আমরা সারের জন্য হাহাকার করি, কিন্তু এরা নিয়মিতভাবে লুকিয়ে সার বাইরে পাঠায়। প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি জরুরি।”
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কৃষক ও সাধারণ মানুষের দাবি সরকারি বরাদ্দের সার যেন প্রকৃত কৃষকদের হাতেই পৌঁছায় এবং সার পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সারা দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের কর্মসূচি গ্রহণ করেছে প্রধানমন্ত্রীঃ -এম.পি বাবুল

error: Content is protected !!

চুয়াডাঙ্গার ভালাইপুরে সার পাচার চেষ্টা ভেস্তে দিল জনতাঃ দুই ভ্যানে ২০ বস্তা সার জব্দ

আপডেট টাইম : ১০:০২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ ডিসেম্বর ২০২৫
হুমায়ন আহমেদ, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি :
হুমায়ন আহমেদঃ
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার ভালাইপুর মোড়ের সার ডিলার দিশা এন্টারপ্রাইজ থেকে পাচারের উদ্দেশ্যে নেওয়া সার স্থানীয়দের সন্দেহে আটক হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে গোকুলখালী বাজারে সাধারণ মানুষ দুটি ভ্যান থামিয়ে তল্লাশি করলে বেরিয়ে আসে পাচারের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
ভ্যান দুটিতে মোট ১০ বস্তা ইউরিয়া ও ১০ বস্তা ডিএপি সার পাওয়া যায়। স্থানীয়দের দাবি—এই সারগুলো দিশা এন্টারপ্রাইজ থেকে মেহেরপুরের দরবেশপুর এবং দামুড়হুদার দলিয়ারপুর গ্রামের দিকে পাচার করা হচ্ছিল। কাগজপত্র ও উদ্দেশ্য অস্পষ্ট হওয়ায় জিজ্ঞাসাবাদে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লিটন আহম্মেদ, আফজাল মাহমুদ এবং আরিফুর রহমান। তারা সারগুলো জব্দ করে উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুদ হোসেন পলাশের নির্দেশনায় ন্যায্যমূল্যে ১৯ জন স্থানীয় কৃষকের কাছে বিক্রি করেন। পরে সার বিক্রির পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে নির্দিষ্ট কোডে আলমডাঙ্গা সোনালী ব্যাংক শাখায় জমা দেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি জামাল সাদিক, কাইফ আহম্মেদ, মোক্তার হোসেন, সজল হোসেনসহ আরও অনেকে অভিযোগ করে বলেন- “দিশা এন্টারপ্রাইজ থেকে প্রায়ই এইভাবে সার পাচার করা হয়। বেশিরভাগ সময়ই তা ধরা পড়ে না। সরকারি দামের সার বেশি লাভের আশায় অন্য এলাকায় পাঠানো হচ্ছে।”
অন্যদিকে স্থানীয় কৃষক জামিরুল ইসলাম ও আনিছুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন- “আমরা সারের জন্য হাহাকার করি, কিন্তু এরা নিয়মিতভাবে লুকিয়ে সার বাইরে পাঠায়। প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি জরুরি।”
ঘটনাটি এলাকায় তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। কৃষক ও সাধারণ মানুষের দাবি সরকারি বরাদ্দের সার যেন প্রকৃত কৃষকদের হাতেই পৌঁছায় এবং সার পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়।