হুমায়ন আহমেদ, আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি
চুয়াডাঙ্গায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশ সুরক্ষায় করণীয় বিষয়ে কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গতকাল বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে পিএসইউএসের ট্রেনিং রুমে প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার আয়োজনে এবং ব্রেক ফ্রি ফ্রম প্লাস্টিকের সহযোগিতায় এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মো. বিল্লাল হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তিথি মিত্র।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিথি মিত্র বলেন, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও প্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে পরিবেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। যত্রতত্র বর্জ্য ফেলা, অপরিকল্পিতভাবে প্লাস্টিক ব্যবহার এবং একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করছে। প্লাস্টিক বর্জ্য ড্রেন, খাল ও জলাশয়ে জমে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করছে এবং মাটি ও পানিদূষণ বাড়াচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; এ জন্য মানুষের আচরণ ও অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে। পলিথিন ও একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পুনর্ব্যবহারযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব উপকরণ ব্যবহারে সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে ফেলা, বর্জ্য পৃথকীকরণ এবং পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যবহারে জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
এ ধরনের কর্মশালার মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়ায় তিনি প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থাকে ধন্যবাদ জানান।
কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গা পৌর ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বিশ্বাস, কলেজটির প্রভাষক হেলেনা নাসরীন, ব্র্যাক চুয়াডাঙ্গার রিজিওনাল ম্যানেজার নাহিদ উজ্জামান, বিশিষ্ট সমাজসেবক লিটু বিশ্বাস এবং অন্বেষা নারী কল্যাণ সংস্থার নির্বাহী পরিচালক লিজা হোসাইন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার সমন্বয়কারী সাইদুর রহমান।
বক্তারা বলেন, পরিবেশ সুরক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং প্লাস্টিক দূষণ নিয়ন্ত্রণের বিকল্প নেই। এ জন্য সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। বর্জ্যকে ফেলে দেওয়ার উপকরণ হিসেবে না দেখে পুনর্ব্যবহার ও পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তাঁরা আরও বলেন, বাড়ি, বাজার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে উৎপন্ন বর্জ্য সঠিকভাবে সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনা করা গেলে পরিবেশদূষণ কমানোর পাশাপাশি জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন প্রত্যাশা সামাজিক উন্নয়ন সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার আরিফুর রহমান। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আসাদুজ্জামান, মহিবুল হাবীব ও হামিদুল ইসলাম।

কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন 
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : 




















