ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, দেওয়া হবে মোবাইল বিলও

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের তৃণমূল স্তরের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন ও নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের এক ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো জানান। এর আগে নির্ধারিত দিনে বেলা পৌনে বারোটার দিকে সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশে যোগ দেন। সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো গ্রাম পুলিশ বাহিনীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের পেশাগত মর্যাদার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটানো।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন সাত হাজার পাঁচশত টাকা থেকে বাড়িয়ে দশ হাজার পাঁচশত টাকা করা হয়েছে এবং প্রধানদের বেতন আট হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে এগারো হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের অবসরকালীন আর্থিক সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে সাধারণ সদস্যরা এখন থেকে অবসরকালীন আনুতোষিক হিসেবে আশির হাজার টাকা এবং প্রধানরা এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাবেন। তাছাড়া কাজের সুবিধার্থে তাদের যাতায়াত ভাতা সাপ্তাহিক ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সদস্যদের জন্য পাঁচশত টাকা এবং প্রধানদের জন্য ছয়শত টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি দাপ্তরিক যোগাযোগ সহজ করার জন্য প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে একশত পঞ্চাশ টাকা করে বিশেষ মোবাইল বিল দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে সরকার।

বেতন ও ভাতার বাইরে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর পরিচিতি ও সম্মান বাড়াতে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে প্রশাসন। এখন থেকে প্রথাগত ‘মহল্লাদার’ ও ‘দফাদার’ পদের পরিবর্তে তাদের যথাক্রমে ‘গ্রাম পুলিশ সদস্য’ ও ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ হিসেবে অভিহিত করা হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে দুজন করে নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, নারী কর্মীদের কাজের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশের গাছ বিক্রির লভ্যাংশ তাদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গ্রাম পুলিশদের কর্মতৎপরতা ও যাতায়াত সুগম করতে বাইসাইকেল দেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর অপেক্ষা না করে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন বছর অন্তর তাদের নতুন বাইসাইকেল দেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা এই সমস্ত কল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম পুলিশের কাজের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং গ্রামীণ জনপদে জনসেবার পরিধি আরও প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, দেওয়া হবে মোবাইল বিলও

error: Content is protected !!

গ্রাম পুলিশের বেতন বাড়ানোর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর, দেওয়া হবে মোবাইল বিলও

আপডেট টাইম : ১৪ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

জাতীয় ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের তৃণমূল স্তরের আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে গ্রাম পুলিশ সদস্যদের বেতন ও নানা সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি রাজধানীর জাতীয় প্যারেড গ্রাউন্ডে আয়োজিত গ্রাম পুলিশদের এক ঐতিহাসিক মহাসমাবেশে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো জানান। এর আগে নির্ধারিত দিনে বেলা পৌনে বারোটার দিকে সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হন এবং জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই সমাবেশে যোগ দেন। সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া এসব পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো গ্রাম পুলিশ বাহিনীর আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং তাদের পেশাগত মর্যাদার কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন ঘটানো।

নতুন ঘোষণা অনুযায়ী, সাধারণ গ্রাম পুলিশ সদস্যদের মাসিক বেতন সাত হাজার পাঁচশত টাকা থেকে বাড়িয়ে দশ হাজার পাঁচশত টাকা করা হয়েছে এবং প্রধানদের বেতন আট হাজার টাকা থেকে বৃদ্ধি করে এগারো হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের অবসরকালীন আর্থিক সুবিধাও বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে সাধারণ সদস্যরা এখন থেকে অবসরকালীন আনুতোষিক হিসেবে আশির হাজার টাকা এবং প্রধানরা এক লক্ষ টাকা পর্যন্ত পাবেন। তাছাড়া কাজের সুবিধার্থে তাদের যাতায়াত ভাতা সাপ্তাহিক ৩০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে সদস্যদের জন্য পাঁচশত টাকা এবং প্রধানদের জন্য ছয়শত টাকা করা হয়েছে। পাশাপাশি দাপ্তরিক যোগাযোগ সহজ করার জন্য প্রত্যেক সদস্যকে প্রতি মাসে একশত পঞ্চাশ টাকা করে বিশেষ মোবাইল বিল দেওয়ার ব্যবস্থাও করেছে সরকার।

বেতন ও ভাতার বাইরে গ্রাম পুলিশ বাহিনীর পরিচিতি ও সম্মান বাড়াতে বেশ কিছু যুগান্তকারী পরিবর্তন এনেছে প্রশাসন। এখন থেকে প্রথাগত ‘মহল্লাদার’ ও ‘দফাদার’ পদের পরিবর্তে তাদের যথাক্রমে ‘গ্রাম পুলিশ সদস্য’ ও ‘গ্রাম পুলিশ প্রধান’ হিসেবে অভিহিত করা হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্দেশ্যে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নতুন করে দুজন করে নারী গ্রাম পুলিশ নিয়োগ দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। শুধু তাই নয়, নারী কর্মীদের কাজের অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে তাদের মাতৃত্বকালীন ছুটির মেয়াদ বাড়িয়ে ছয় মাস করা হয়েছে। মাঠপর্যায়ের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের একটি দীর্ঘ সড়ক গ্রাম পুলিশের নামে নামকরণের পাশাপাশি সড়কের দুই পাশের গাছ বিক্রির লভ্যাংশ তাদের মধ্যে বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গ্রাম পুলিশদের কর্মতৎপরতা ও যাতায়াত সুগম করতে বাইসাইকেল দেওয়ার নিয়মেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। এখন থেকে দীর্ঘ পাঁচ বছর অপেক্ষা না করে মাত্র তিন থেকে সাড়ে তিন বছর অন্তর তাদের নতুন বাইসাইকেল দেওয়া হবে এবং এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা এই সমস্ত কল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে। এই উদ্যোগগুলো বাস্তবায়িত হলে তৃণমূল পর্যায়ে গ্রাম পুলিশের কাজের মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে এবং গ্রামীণ জনপদে জনসেবার পরিধি আরও প্রসারিত হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করছেন।