ঢাকা , বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

গোয়ালন্দে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগ অর্থ দিয়ে রফাদফার চেষ্টা

অভিযোগ দিলেও থানায় মামলা রেকর্ড হয়নি, হয়নি ছাত্রীর স্বাস্থ্য পরীক্ষা

-ছবি প্রতীকী।

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত পঞ্চাশোর্ধ ব্যাক্তি গোয়ালন্দ বাজারের একজন ব্যবসায়ী। তিনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছেন।
টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মিমাংসায় দেন-দরবার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর স্বীকার করেছেন। রফাদফার মাঝেই তিনদিন পর শিশুটিকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনরা।
সেখান থেকে পুলিশকে অবগত করে অধিকতর পরিক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় শিশুটিকে। পুলিশ ভিকটিম ও তার পরিবারকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি অভিযোগ গ্রহন করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মামলা রেকর্ড, আসামি গ্রেফতার এমনকি সদর হাসপাতালে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর স্বাস্থ্য পরিক্ষাও করা হয়নি।
গত ১১ জুন মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকায়  এ ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন বাড়ির পাশের পাটক্ষেতের পাশ দিয়ে ওই ছাত্রী স্থানীয় এক পুকুরে কাপড়-চোপর ধুতে যায়। এ সময় সিরাজ খাঁ (৫৫) নামের এক ব্যাক্তি সেখানে ঘাস কাটাতেছিল। সে সুযোগ বুঝে শিশুটির গলায় ঘাস কাটার কাঁচি ঠেকিয়ে পাট ক্ষেতের ভিতরে নিয়ে ধর্ষন করে।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সরেজমিন আলাপকালে শিশুটির মা জানান, তার মেয়ে অনেকটা এলোমেলো অবস্থায় বাড়ি ফিরে এলে আমি তাকে কি হয়েছে জানতে চাই। ভয়ে প্রথমদিকে কিছু না বললেও পরে সে সব জানায়। এরপর আমি বিষয়টি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, বাড়ির পাশের একজন গন্যমান্য ব্যাক্তি ও তার ভাইকে জানাই। তারা বিষয়টি দেখবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করে। ওইদিন সন্ধ্যায় অপরাধী সিরাজের সাথে আমার দেখা হলে সে বিষয়টি চেপে গিয়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ আমাকে ৫০ হাজার টাকা দিতে চায়।
রাতে ওই ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিও আমাকে  বুঝায় মামলা করলে মেয়েকে আর বিয়ে দিতে পারবেনা। তারচেয়ে আমরা তোমার ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেই। কিন্তু তারা সবাই আমার সাথে মূলত তালবাহানা করে সময় পার করে। এর মধ্যে তার মেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ঘটনার দুইদিন পর ১৩ জুন সকাল ১০ টার দিকে তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  নিয়ে যান। সেখানে এক মহিলা ডাক্তার তার মেয়েকে পরিক্ষা করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে এবং থানার পুলিশকে খবর দেয়।
পুলিশ এসে তাদেরকে হাসপাতাল হতে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে ওসি, এলাকার কাউন্সিলর ও আরো অফিসার ছিল। ওসি তাদের কাছ থেকে  ঘটনা শুনে একটি লিখিত অভিযোগও নেন। পরে বেলা ৩ টার দিকে আমাদের ছেড়ে দিলে আমরা বাড়িতে চলে আসি।
থানায় অভিযোগ দেয়া শিশুটির বড় বোন জানান, আমরা লোক লজ্জার ভয় এবং ছোট বোনের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে অনেকটা চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সিরাজ ও তার লোকজন আমাদের সাথে প্রতারনা করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রানবন্ধু চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়ে আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভিকটিমের পরিবার হতেই আমাদের বাঁধা দেয়া হয়। তারা মামলা রুজু করায় আগ্রহী নয়। শুনলাম তারা  ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরন দাবি করেছে। অভিযুক্ত সিরাজ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে চেয়েছে। এ নিয়ে দেনদরবার চলছে। তবে ভিকটিমের পরিবার চাইলে আমরা মামলা রুজু ও আসামি গ্রেফতার করব।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবেশী দেশের ভরসায় ক্ষমতায় থাকার রাজনীতি আমরা বিশ্বাস করি না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

error: Content is protected !!

গোয়ালন্দে স্কুল ছাত্রীকে ধর্ষনের অভিযোগ অর্থ দিয়ে রফাদফার চেষ্টা

আপডেট টাইম : ০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ জুন ২০২৪
আবুল হোসেন, রাজবাড়ী জেলা প্রতিনিধি :
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে ৬ষ্ঠ শ্রেনীর এক স্কুল ছাত্রীকে (১৩) ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত পঞ্চাশোর্ধ ব্যাক্তি গোয়ালন্দ বাজারের একজন ব্যবসায়ী। তিনি আর্থিক ক্ষতিপূরণ দিয়ে ঘটনা ধামাচাপা দিতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে চেষ্টা চালাচ্ছেন।
টাকার বিনিময়ে ঘটনাটি মিমাংসায় দেন-দরবার করা হচ্ছে বলে স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর স্বীকার করেছেন। রফাদফার মাঝেই তিনদিন পর শিশুটিকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান স্বজনরা।
সেখান থেকে পুলিশকে অবগত করে অধিকতর পরিক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয় শিশুটিকে। পুলিশ ভিকটিম ও তার পরিবারকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি অভিযোগ গ্রহন করে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মামলা রেকর্ড, আসামি গ্রেফতার এমনকি সদর হাসপাতালে নিয়ে ভুক্তভোগী শিশুর স্বাস্থ্য পরিক্ষাও করা হয়নি।
গত ১১ জুন মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে গোয়ালন্দ পৌরসভা এলাকায়  এ ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, ঘটনার দিন বাড়ির পাশের পাটক্ষেতের পাশ দিয়ে ওই ছাত্রী স্থানীয় এক পুকুরে কাপড়-চোপর ধুতে যায়। এ সময় সিরাজ খাঁ (৫৫) নামের এক ব্যাক্তি সেখানে ঘাস কাটাতেছিল। সে সুযোগ বুঝে শিশুটির গলায় ঘাস কাটার কাঁচি ঠেকিয়ে পাট ক্ষেতের ভিতরে নিয়ে ধর্ষন করে।
বৃহস্পতিবার (২০ জুন) সরেজমিন আলাপকালে শিশুটির মা জানান, তার মেয়ে অনেকটা এলোমেলো অবস্থায় বাড়ি ফিরে এলে আমি তাকে কি হয়েছে জানতে চাই। ভয়ে প্রথমদিকে কিছু না বললেও পরে সে সব জানায়। এরপর আমি বিষয়টি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর, বাড়ির পাশের একজন গন্যমান্য ব্যাক্তি ও তার ভাইকে জানাই। তারা বিষয়টি দেখবেন বলে আমাকে আশ্বস্ত করে। ওইদিন সন্ধ্যায় অপরাধী সিরাজের সাথে আমার দেখা হলে সে বিষয়টি চেপে গিয়ে ক্ষতিপূরণ বাবদ আমাকে ৫০ হাজার টাকা দিতে চায়।
রাতে ওই ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও বিশিষ্ট ব্যাক্তিও আমাকে  বুঝায় মামলা করলে মেয়েকে আর বিয়ে দিতে পারবেনা। তারচেয়ে আমরা তোমার ক্ষতিপূরণ আদায় করে দেই। কিন্তু তারা সবাই আমার সাথে মূলত তালবাহানা করে সময় পার করে। এর মধ্যে তার মেয়ে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে ঘটনার দুইদিন পর ১৩ জুন সকাল ১০ টার দিকে তাকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স  নিয়ে যান। সেখানে এক মহিলা ডাক্তার তার মেয়েকে পরিক্ষা করে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে যাওয়ার কথা বলে এবং থানার পুলিশকে খবর দেয়।
পুলিশ এসে তাদেরকে হাসপাতাল হতে থানায় নিয়ে যায়। সেখানে ওসি, এলাকার কাউন্সিলর ও আরো অফিসার ছিল। ওসি তাদের কাছ থেকে  ঘটনা শুনে একটি লিখিত অভিযোগও নেন। পরে বেলা ৩ টার দিকে আমাদের ছেড়ে দিলে আমরা বাড়িতে চলে আসি।
থানায় অভিযোগ দেয়া শিশুটির বড় বোন জানান, আমরা লোক লজ্জার ভয় এবং ছোট বোনের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে অনেকটা চুপচাপ হয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সিরাজ ও তার লোকজন আমাদের সাথে প্রতারনা করেছে। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
এ প্রসঙ্গে গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রানবন্ধু চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, আমরা অভিযোগ পেয়ে আসামিকে গ্রেফতার করতে গিয়েছিলাম। কিন্তু ভিকটিমের পরিবার হতেই আমাদের বাঁধা দেয়া হয়। তারা মামলা রুজু করায় আগ্রহী নয়। শুনলাম তারা  ৫ লাখ টাকা ক্ষতিপূরন দাবি করেছে। অভিযুক্ত সিরাজ ৭০ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে চেয়েছে। এ নিয়ে দেনদরবার চলছে। তবে ভিকটিমের পরিবার চাইলে আমরা মামলা রুজু ও আসামি গ্রেফতার করব।