ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাবা-ছেলের ৭০ বিঘা জমিতে মিশ্র ফলের বাগান

ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়ার স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মিশ্র ফল বাগান করে সাফল্যের মুখ দেখছেন হযরত আলী ও তাঁর ছেলে রাসেল হোসেন। উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ আওড়ের বিলের মাঠের ব্রিজ সংলগ্ন কৃষি জমিতে ২০১৪ সালে পাঁচ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ দিয়ে শুরু তাঁদের পথচলা। কয়েক বছরের পরিকল্পিত পরিচর্যা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই বাগানের আয়তন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ বিঘায়।

ইন্টারনেটে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন ভিডিও দেখে আধুনিক ফল চাষ, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, সেচ ও সার প্রয়োগের বিভিন্ন কৌশল শিখে সেগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে শুরু করেন হযরত আলী ও তাঁর ছেলে রাসেল হোসেন। বর্তমানে তাঁদের ৩০ বিঘা জমিতে রয়েছে উন্নত জাতের পেয়ারা বাগান। বাকি জমির মধ্যে মাল্টা ও কমলা রয়েছে ১৪ বিঘা জমিতে, ড্রাগন রয়েছে ৭ বিঘা জমিতে, কলার গাছ রয়েছে ৫ বিঘায়। এ ছাড়া, আঙ্গুর এক বিঘা, স্ট্রবেরি এক বিঘা, সফেদা ও লেবু ৫ বিঘা এবং কুল ৭ বিঘা জমিতে চাষ করছেন তাঁরা।

রাসেল হোসেন জানান, সমন্বিত বাগানের প্রতিটি গাছ নিয়মিত ছাঁটাই, সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচর্যা করা হয়। এর ফলে ফলের উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি গুণগত মানও উন্নত হয়েছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক পরিচর্যার কারণে পেয়ারার ফলন আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। আকারে বড়, স্বাদে মিষ্টি ও মানসম্মত হওয়ায় বাজারে পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

হযরত আলী জানান, বর্তমানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ ক্রেতারাও সরাসরি বাগানে এসে গাছ থেকে পছন্দমতো ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে ক্রেতারা তাজা ও নিরাপদ ফল পাচ্ছেন, অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন তাঁরা।

হযরত আলী জানান, বর্তমানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ ক্রেতারাও সরাসরি বাগানে এসে গাছ থেকে পছন্দমতো ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে ক্রেতারা তাজা ও নিরাপদ ফল পাচ্ছেন, অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন তাঁরা। তিনি জানান, প্রতি মণ পেয়ারা ২ হাজার থেকে ২৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভেড়ামারার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. রবিউল ইসলাম জানান, তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষিতে আগ্রহী করে তুলতে কৃষি বিভাগও নানা ধরনের সহযোগিতা করছে। বাবা-ছেলের উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে যে, আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটাতে পারলে কৃষিও হতে পারে একটি লাভজনক ও সম্মানজনক পেশা। নিজের মাটিতে থেকেই সফল হওয়ার যে সম্ভাবনা রয়েছে, হযরত ও রাসেলের সাফল্য তারই বাস্তব প্রতিচ্ছবি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

সার সংকটে ১১ দলীয় জোটের এমপিদের লোকজনের হাত থাকতে পারে: প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাবা-ছেলের ৭০ বিঘা জমিতে মিশ্র ফলের বাগান

আপডেট টাইম : ২ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়ার স্টাফ রিপোর্টার

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় মিশ্র ফল বাগান করে সাফল্যের মুখ দেখছেন হযরত আলী ও তাঁর ছেলে রাসেল হোসেন। উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ আওড়ের বিলের মাঠের ব্রিজ সংলগ্ন কৃষি জমিতে ২০১৪ সালে পাঁচ বিঘা জমিতে পেয়ারা চাষ দিয়ে শুরু তাঁদের পথচলা। কয়েক বছরের পরিকল্পিত পরিচর্যা, আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তির ব্যবহারের মাধ্যমে এই বাগানের আয়তন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭০ বিঘায়।

ইন্টারনেটে কৃষিভিত্তিক বিভিন্ন ভিডিও দেখে আধুনিক ফল চাষ, রোগবালাই ব্যবস্থাপনা, সেচ ও সার প্রয়োগের বিভিন্ন কৌশল শিখে সেগুলো বাস্তবে প্রয়োগ করতে শুরু করেন হযরত আলী ও তাঁর ছেলে রাসেল হোসেন। বর্তমানে তাঁদের ৩০ বিঘা জমিতে রয়েছে উন্নত জাতের পেয়ারা বাগান। বাকি জমির মধ্যে মাল্টা ও কমলা রয়েছে ১৪ বিঘা জমিতে, ড্রাগন রয়েছে ৭ বিঘা জমিতে, কলার গাছ রয়েছে ৫ বিঘায়। এ ছাড়া, আঙ্গুর এক বিঘা, স্ট্রবেরি এক বিঘা, সফেদা ও লেবু ৫ বিঘা এবং কুল ৭ বিঘা জমিতে চাষ করছেন তাঁরা।

রাসেল হোসেন জানান, সমন্বিত বাগানের প্রতিটি গাছ নিয়মিত ছাঁটাই, সুষম সার প্রয়োগ, সেচ ব্যবস্থাপনা এবং রোগবালাই নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে পরিচর্যা করা হয়। এর ফলে ফলের উৎপাদন যেমন বেড়েছে, তেমনি গুণগত মানও উন্নত হয়েছে। চলতি মৌসুমে অনুকূল আবহাওয়া এবং আধুনিক পরিচর্যার কারণে পেয়ারার ফলন আগের বছরের তুলনায় অনেক বেশি হয়েছে। আকারে বড়, স্বাদে মিষ্টি ও মানসম্মত হওয়ায় বাজারে পেয়ারার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।

হযরত আলী জানান, বর্তমানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ ক্রেতারাও সরাসরি বাগানে এসে গাছ থেকে পছন্দমতো ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে ক্রেতারা তাজা ও নিরাপদ ফল পাচ্ছেন, অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন তাঁরা।

হযরত আলী জানান, বর্তমানে পাইকারি ব্যবসায়ীদের পাশাপাশি প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে সাধারণ ক্রেতারাও সরাসরি বাগানে এসে গাছ থেকে পছন্দমতো ফল সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছেন। এতে একদিকে ক্রেতারা তাজা ও নিরাপদ ফল পাচ্ছেন, অন্যদিকে মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন তাঁরা। তিনি জানান, প্রতি মণ পেয়ারা ২ হাজার থেকে ২৪০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

ভেড়ামারার উপ-সহকারী কৃষি অফিসার মো. রবিউল ইসলাম জানান, তরুণ উদ্যোক্তাদের কৃষিতে আগ্রহী করে তুলতে কৃষি বিভাগও নানা ধরনের সহযোগিতা করছে। বাবা-ছেলের উদ্যোগ দেখিয়ে দিয়েছে যে, আধুনিক প্রযুক্তি, পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা ও কঠোর পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটাতে পারলে কৃষিও হতে পারে একটি লাভজনক ও সম্মানজনক পেশা। নিজের মাটিতে থেকেই সফল হওয়ার যে সম্ভাবনা রয়েছে, হযরত ও রাসেলের সাফল্য তারই বাস্তব প্রতিচ্ছবি।