ঢাকা , মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

১৫ বছর বেতন তার ১৫০০ টাকা!

কাঁদতে কাঁদতে সুফিয়া বললেন বেতন বাড়লে খেয়েপরে বাঁচতে পারতাম

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ায় মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি পাঠাগার ও অডিটোরিয়ামের ঝাড়ুদার কাঁদতে কাঁদতে সুফিয়া খাতুন বললেন,১৫ বছর আগে চাকরি শুরু করেছি। মাসিক বেতন ছিল ১৫০০ টাকা। এখনও সেই ১৫০০ টাকাই আছে। এই টাকায় সংসার চলে না। অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটে। টাকার অভাবে অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা করাতে পারি না। নাতিপুতিরা স্কুলে পড়ে, তাদের অনেক কষ্ট, খাতা-কলম কিনে দিতে পারি না।বেতন বাড়লে খেয়েপরে বাঁচতে পারতাম।

 

সুফিয়া খাতুন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া গ্রামের মৃত সুলতান আলী শেখের স্ত্রী। ৭ সদস্যের পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী তিনি।

 

সুফিয়া খাতুন বলেন, ২৫ বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছে। আমার এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেটা অসুস্থ। কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। যা ছিল সব বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছি। বর্তমানে অর্থের অভাবে ওষুধ কিনতেও পারি না। ডাক্তার বলেছে ১০ লাখ টাকা লাগবে।

 

সরকারের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে সুফিয়া খাতুন আরো বলেন, ১৫ বছর বেতন বাড়ছে না। বেতনটাও যদি বাড়ত ছেলে-নাতিপুতিদের নিয়ে খেয়েপরে বাঁচতে পারতাম। শুনি অনেকে ভাতা পায়, আমি তাও পাই না।

 

কত স্যারের কাছে কাগজপত্র নিয়ে গেলাম বেতনটা বাড়ানোর জন্য, কিন্তু স্যাররা তাকিয়েও দেখলো না, কিছু বলেও না। কত লোককে বললাম, আমার ছেলের কার্ড করে দাও। কেউ তাকিয়েও দেখে না, বলেন এই অসহায় বৃদ্ধা।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুন খুব কষ্ট করে জীবন কাটাচ্ছেন। অর্থের অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

 

প্রতিবেশী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন,সুফিয়া খাতুনের ছেলে সোহেল অনেক অসুস্থ। কাজ করতে পারে না। টাকার অভাবে তাদের অর্ধাহারে দিন কাটে। সরকার বা বিত্তবানরা সহযোগিতা করলে তারা উপকৃত হবে। সাহায্য ছাড়া চিকিৎসা করানোর সমর্থা তাদের নেই।

 

এ বিষয়ে মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি পাঠাগার ও অডিটোরিয়ামের কেয়ার টেকার সৈয়দা আশেকুন নাহার বলেন, সুফিয়া খাতুন ১৫ বছর ধরে ঝাড়ুদার পদে চাকরি করছেন। বেতন পান ১৫০০ টাকা। এটা কীভাবে হয়? এই টাকায় আজকাল দুদিন চলাও সম্ভব নয়!

 

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র বলেন, সুফিয়া খাতুনের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। আগামী মাস থেকে তার বেতন বৃদ্ধি করা হবে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

চা–বাগানের শিশুদের স্কুলব্যাগ-খাতা-পেনসিল উপহার

error: Content is protected !!

১৫ বছর বেতন তার ১৫০০ টাকা!

কাঁদতে কাঁদতে সুফিয়া বললেন বেতন বাড়লে খেয়েপরে বাঁচতে পারতাম

আপডেট টাইম : ০৪:৫৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ জুলাই ২০২৫
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র ষ্টাফ রিপোর্টার :

ইসমাইল হােসেন বাবুঃ

কুষ্টিয়ায় মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি পাঠাগার ও অডিটোরিয়ামের ঝাড়ুদার কাঁদতে কাঁদতে সুফিয়া খাতুন বললেন,১৫ বছর আগে চাকরি শুরু করেছি। মাসিক বেতন ছিল ১৫০০ টাকা। এখনও সেই ১৫০০ টাকাই আছে। এই টাকায় সংসার চলে না। অনাহারে অর্ধাহারে দিন কাটে। টাকার অভাবে অসুস্থ ছেলের চিকিৎসা করাতে পারি না। নাতিপুতিরা স্কুলে পড়ে, তাদের অনেক কষ্ট, খাতা-কলম কিনে দিতে পারি না।বেতন বাড়লে খেয়েপরে বাঁচতে পারতাম।

 

সুফিয়া খাতুন কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার লাহিনীপাড়া গ্রামের মৃত সুলতান আলী শেখের স্ত্রী। ৭ সদস্যের পরিবারে একমাত্র উপার্জনকারী তিনি।

 

সুফিয়া খাতুন বলেন, ২৫ বছর আগে আমার স্বামী মারা গেছে। আমার এক ছেলে এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেটা অসুস্থ। কিডনি নষ্ট হয়ে গেছে। যা ছিল সব বিক্রি করে চিকিৎসা করিয়েছি। বর্তমানে অর্থের অভাবে ওষুধ কিনতেও পারি না। ডাক্তার বলেছে ১০ লাখ টাকা লাগবে।

 

সরকারের কাছে ছেলের চিকিৎসার জন্য সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে সুফিয়া খাতুন আরো বলেন, ১৫ বছর বেতন বাড়ছে না। বেতনটাও যদি বাড়ত ছেলে-নাতিপুতিদের নিয়ে খেয়েপরে বাঁচতে পারতাম। শুনি অনেকে ভাতা পায়, আমি তাও পাই না।

 

কত স্যারের কাছে কাগজপত্র নিয়ে গেলাম বেতনটা বাড়ানোর জন্য, কিন্তু স্যাররা তাকিয়েও দেখলো না, কিছু বলেও না। কত লোককে বললাম, আমার ছেলের কার্ড করে দাও। কেউ তাকিয়েও দেখে না, বলেন এই অসহায় বৃদ্ধা।

 

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৃদ্ধা সুফিয়া খাতুন খুব কষ্ট করে জীবন কাটাচ্ছেন। অর্থের অভাবে ছেলের চিকিৎসা করাতে পারছেন না।

 

প্রতিবেশী আয়েশা সিদ্দিকা বলেন,সুফিয়া খাতুনের ছেলে সোহেল অনেক অসুস্থ। কাজ করতে পারে না। টাকার অভাবে তাদের অর্ধাহারে দিন কাটে। সরকার বা বিত্তবানরা সহযোগিতা করলে তারা উপকৃত হবে। সাহায্য ছাড়া চিকিৎসা করানোর সমর্থা তাদের নেই।

 

এ বিষয়ে মীর মশাররফ হোসেন স্মৃতি পাঠাগার ও অডিটোরিয়ামের কেয়ার টেকার সৈয়দা আশেকুন নাহার বলেন, সুফিয়া খাতুন ১৫ বছর ধরে ঝাড়ুদার পদে চাকরি করছেন। বেতন পান ১৫০০ টাকা। এটা কীভাবে হয়? এই টাকায় আজকাল দুদিন চলাও সম্ভব নয়!

 

কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র বলেন, সুফিয়া খাতুনের বেতন বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখব। আগামী মাস থেকে তার বেতন বৃদ্ধি করা হবে।