ঢাকা , সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬, ৭ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

কবি বুনো নাজমুলের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

কাজী নূর, যশোর জেলা প্রতিনিধি

মানস হৃদয়ের তুমি ওগো মানসী আমার/ক্ষণেক দাঁড়াও ফিরে রেখ মিনতি আমার। বিরহের গাঁথা মালা প্রিয়া পরাব কার গলে/কেঁদেও কাঁদাবো না আর জ্বলে আঁখি জলে। আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি এভাবেই কবিতায় ব্যক্ত করেছিলেন কবি বুনো নাজমুল যশোরী। বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এম নাজমুল হক (কবি বুনো নাজমুল যশোরী) এর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। কবিতা ছাড়াও অসংখ্য গান, গল্প ও প্রবন্ধ লিখে গেছেন তিনি। কবি বুনো নাজমুল যশোরীর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পান্ডুলিপি থেকে সাহিত্যকর্ম সমাজের কাছে তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করছেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র কবি নাঈম নাজমুল।

 

কবি বুনো নাজমুল যশোরী ১৯৪৭ সালের ১ মে তৎকালীন যশোর জেলার নড়াইল মহকুমার ১২ নম্বর বিছালী ইউনিয়নের চাকই গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা এম জিতু মোল্লা এবং মাতার নাম বড়ু বিবি। তিনি ১৯৬২ সালে খুলনার ফুলতলার পায়গ্রাম কসবা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৬৪ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ হতে আইএসসি। ১৯৬৭ সালে যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে অভয়নগরের নওয়াপাড়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ অধ্যয়ন করেন তিনি।

 

বুনো নাজমুল যশোরী দেশমাতৃকার জন্য ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। তিনি অভয়নগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে কবি বুনো নাজমুল স্থায়ীভাবে গুয়াখোলা গ্রামে বসবাস করতেন। তিনি জেজে আই জুটমিলের সুপারভাইজার ছিলেন। নওয়াপাড়া এবং ফুলতলা কলেজে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন তিনি। কবি বুনো নাজমুল মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে ১৯৯১ সালের ২ ডিসেম্বর হতে দায়িত্ব পালন করেন।

 

কবি বুনো নাজমুল যশোরীর উল্লেখযোগ্য দুটি কাব্য গ্রন্থ ‘মুক্তিবীণা’ ও ‘হৃদয়লীনা’। ২০১৪ সালে বাংলা একাডেমি অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় বুনো নাজমুল যশোরীর ‘নির্বাচিত কবিতা’ প্রকাশিত হয়েছে। বুনো নাজমুল যশোরী ১৯৯৪ সালের ২৫ নভেম্বর শুক্রবার বিকালে নওয়াপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে দুই স্ত্রী, চার পুত্র, দুই কন্যাসহ অনেক শুভাকাঙ্খী রেখে যান তিনি।


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

নাটোরের সিংড়ায় এক রাতে চুরি হলো সেচ মোটরের ৬টি ট্রান্সফরমার

error: Content is protected !!

কবি বুনো নাজমুলের ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আপডেট টাইম : ১২:০৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৫ নভেম্বর ২০২৪
কাজী নূর, যশোর জেলা প্রতিনিধি :

কাজী নূর, যশোর জেলা প্রতিনিধি

মানস হৃদয়ের তুমি ওগো মানসী আমার/ক্ষণেক দাঁড়াও ফিরে রেখ মিনতি আমার। বিরহের গাঁথা মালা প্রিয়া পরাব কার গলে/কেঁদেও কাঁদাবো না আর জ্বলে আঁখি জলে। আকাঙ্ক্ষার প্রতিচ্ছবি এভাবেই কবিতায় ব্যক্ত করেছিলেন কবি বুনো নাজমুল যশোরী। বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক এম এম নাজমুল হক (কবি বুনো নাজমুল যশোরী) এর ৩০তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। কবিতা ছাড়াও অসংখ্য গান, গল্প ও প্রবন্ধ লিখে গেছেন তিনি। কবি বুনো নাজমুল যশোরীর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা পান্ডুলিপি থেকে সাহিত্যকর্ম সমাজের কাছে তুলে ধরার জন্য চেষ্টা করছেন তার জ্যেষ্ঠ পুত্র কবি নাঈম নাজমুল।

 

কবি বুনো নাজমুল যশোরী ১৯৪৭ সালের ১ মে তৎকালীন যশোর জেলার নড়াইল মহকুমার ১২ নম্বর বিছালী ইউনিয়নের চাকই গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা এম জিতু মোল্লা এবং মাতার নাম বড়ু বিবি। তিনি ১৯৬২ সালে খুলনার ফুলতলার পায়গ্রাম কসবা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিক পাস করেন। ১৯৬৪ সালে নড়াইল ভিক্টোরিয়া কলেজ হতে আইএসসি। ১৯৬৭ সালে যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। ১৯৭২ সালে অভয়নগরের নওয়াপাড়া কলেজ থেকে বিএ ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্যে এমএ অধ্যয়ন করেন তিনি।

 

বুনো নাজমুল যশোরী দেশমাতৃকার জন্য ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ঝাপিয়ে পড়েন। তিনি অভয়নগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার ছিলেন। স্বাধীনতার পর থেকে কবি বুনো নাজমুল স্থায়ীভাবে গুয়াখোলা গ্রামে বসবাস করতেন। তিনি জেজে আই জুটমিলের সুপারভাইজার ছিলেন। নওয়াপাড়া এবং ফুলতলা কলেজে ইংরেজি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন তিনি। কবি বুনো নাজমুল মির্জাপুর ইউনাইটেড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসেবে ১৯৯১ সালের ২ ডিসেম্বর হতে দায়িত্ব পালন করেন।

 

কবি বুনো নাজমুল যশোরীর উল্লেখযোগ্য দুটি কাব্য গ্রন্থ ‘মুক্তিবীণা’ ও ‘হৃদয়লীনা’। ২০১৪ সালে বাংলা একাডেমি অমর একুশে গ্রন্থ মেলায় বুনো নাজমুল যশোরীর ‘নির্বাচিত কবিতা’ প্রকাশিত হয়েছে। বুনো নাজমুল যশোরী ১৯৯৪ সালের ২৫ নভেম্বর শুক্রবার বিকালে নওয়াপাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মৃত্যুবরণ করেন। মৃত্যুকালে দুই স্ত্রী, চার পুত্র, দুই কন্যাসহ অনেক শুভাকাঙ্খী রেখে যান তিনি।


প্রিন্ট