ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

তানোরে প্রবেশপত্র আটকে টাকা আদায়

আলিফ হোসেন:

 

রাজশাহীর তানোরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (১৯এপ্রিল) বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা টাকা ফেরত ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে স্কুল চত্ত্বরে অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

 

জানা যায়, উপজেলার কলমা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর নিয়মিত মোট ২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে আদায় করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। টাকা না দিলে তাদের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রাখা হচ্ছে।

 

পরীক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন, ফরম পুরুণে ২৭০০ টাকা, কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা ও প্রবেশপত্র নিতে ৪০০ টাকা নেয়া হয়েছে।

 

আনোয়ার হোসেন বলেন, ফরম পুরুণে ২৭০০ টাকা ও কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা নেয়া হয়েছে। কিন্ত্ত প্রবেশপত্র নিতে আরো ৫০০ টাকা চেয়েছে, না দেয়ায় তাকে প্রবেশপত্র দেয়া হয়নি।

 

মিনহাজুল ইসলাম বলেন, গতকাল রবিবার সকালে প্রবেশপত্র আনার জন্য স্কুলে যাই। আমাদের সহকারী শিক্ষক স্যার এ সময় ৫০০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আমার প্রবেশপত্র আটক করে রাখেন। তিনি আরও বলেন, ৫০০ টাকা না দিলে কাউকে এবার প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না।

 

আমার পিতা একজন কৃষক মানুষ। এর আগে অনেক কষ্ট করে ৭ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ এবং কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা দিয়েছেন। এখন ৫০০ টাকা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই খালি হাতে চলে আসছি। পরীক্ষা দিতে পারবো কি না এটা ভেবে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ,ন,ম মোফাখখারুল বলেন, প্রবেশপত্র দিতে টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নাই। তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, কোথায় কত ফি নিতে হবে তা বোর্ড র্তৃক নির্ধারিত। বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার খরচ, কেন্দ্র ফি বোর্ড যা নির্ধারণ করে দেবে এর বাইরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

 

এ বিষয়ে কলমা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, কোচিং ক্লাসের টাকা অভিভাবকগণের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোচিং ক্লাসের এক হাজার টাকা ও প্রবেশপত্র বাবদ নেয়া টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে স্কুলের সাবেক সভাপতি মানিরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ভারতে বিক্ষোভে ‘গোদি মিডিয়ার’ সাংবাদিকেরা কেন তোপের মুখে

error: Content is protected !!

তানোরে প্রবেশপত্র আটকে টাকা আদায়

আপডেট টাইম : ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেন:

 

রাজশাহীর তানোরে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের প্রবেশপত্র আটকে প্রতি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার (১৯এপ্রিল) বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা টাকা ফেরত ও প্রধান শিক্ষকের অপসারণ দাবি করে স্কুল চত্ত্বরে অবস্থান নিয়ে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

 

জানা যায়, উপজেলার কলমা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর নিয়মিত মোট ২৩ জন পরীক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে। তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ৫০০ টাকা করে আদায় করছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। টাকা না দিলে তাদের এসএসসি পরীক্ষার প্রবেশপত্র আটকে রাখা হচ্ছে।

 

পরীক্ষার্থী হাসিবুল ইসলাম বলেন, ফরম পুরুণে ২৭০০ টাকা, কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা ও প্রবেশপত্র নিতে ৪০০ টাকা নেয়া হয়েছে।

 

আনোয়ার হোসেন বলেন, ফরম পুরুণে ২৭০০ টাকা ও কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা নেয়া হয়েছে। কিন্ত্ত প্রবেশপত্র নিতে আরো ৫০০ টাকা চেয়েছে, না দেয়ায় তাকে প্রবেশপত্র দেয়া হয়নি।

 

মিনহাজুল ইসলাম বলেন, গতকাল রবিবার সকালে প্রবেশপত্র আনার জন্য স্কুলে যাই। আমাদের সহকারী শিক্ষক স্যার এ সময় ৫০০ টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় আমার প্রবেশপত্র আটক করে রাখেন। তিনি আরও বলেন, ৫০০ টাকা না দিলে কাউকে এবার প্রবেশপত্র দেওয়া হবে না।

 

আমার পিতা একজন কৃষক মানুষ। এর আগে অনেক কষ্ট করে ৭ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে ফরম ফিলাপ এবং কোচিং ক্লাসের জন্য ২০০০ টাকা দিয়েছেন। এখন ৫০০ টাকা দেওয়ার ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই খালি হাতে চলে আসছি। পরীক্ষা দিতে পারবো কি না এটা ভেবে অনেক কষ্ট হচ্ছে।

 

এ বিষয়ে রাজশাহী শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর আ,ন,ম মোফাখখারুল বলেন, প্রবেশপত্র দিতে টাকা নেয়ার কোনো সুযোগ নাই। তিনি বলেন, কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমানিত হলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 

এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, কোথায় কত ফি নিতে হবে তা বোর্ড র্তৃক নির্ধারিত। বোর্ডের নির্দেশনার বাইরে কোনো ফি নেওয়ার সুযোগ নেই। পরীক্ষার খরচ, কেন্দ্র ফি বোর্ড যা নির্ধারণ করে দেবে এর বাইরে নেওয়ার সুযোগ নেই।

 

এ বিষয়ে কলমা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিরুল ইসলাম বলেন, কোচিং ক্লাসের টাকা অভিভাবকগণের সঙ্গে আলোচনা করে নেয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কোচিং ক্লাসের এক হাজার টাকা ও প্রবেশপত্র বাবদ নেয়া টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।

 

এ বিষয়ে স্কুলের সাবেক সভাপতি মানিরুল ইসলাম বলেন, স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মিমাংসা করে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেয়া হয়েছে।