ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

এক্স-রে ফিল্ম সংকট ও জনবল স্বল্পতায় ধুঁকছে রংপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতাল

মোঃ নাঈমুল ইসলাম, রংপুর সদর উপজেলা প্রতিনিধি

উপাত্ত ও প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র সংকটে ধুঁকছে রংপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার যক্ষ্মা রোগীদের প্রধান ভরসাস্থল ‘রংপুর বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসপাতাল’। আধুনিক অবকাঠামো ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র থাকলেও দুই মাস ধরে নেই এক্স-রে ফিল্ম। ফলে রোগ নির্ণয়ের অন্যতম মাধ্যম ‘বুকের এক্স-রে’ করার পর রোগীদের কোনো প্রিন্টেড ফিল্ম দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে চিকিৎসকরা কম্পিউটারের মনিটরে ছবি দেখে কিংবা প্রেসক্রিপশনে নোট লিখে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকায় ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের প্রধান অভিযোগ এক্স-রে ফিল্ম না পাওয়া নিয়ে। বক্ষব্যাধি ও যক্ষ্মা চিকিৎসার ক্ষেত্রে বুকের এক্স-রে কপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা না পাওয়ায় পরবর্তীতে অন্য কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানোর সুযোগ থাকছে না।

ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনদের একজন জানান, কিছুদিন আগে শাশুড়িকে ক্লিনিকে এনে এক্স-রে করালেও ফিল্ম দেওয়া হয়নি। যক্ষ্মা ধরা না পড়লেও পরবর্তীতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানোর জন্য এক্স-রে কপিটি জরুরি ছিল, যা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে হাসপাতালে দুজন মেডিকেল অফিসার পদের বিপরীতে দুজনই রয়েছেন। তবে ছয়জন নার্সের বিপরীতে পাঁচজন নার্স, তিনজন ওয়ার্ডবয় থাকার কথা হলেও একজন আউটসোর্সিংয়েরসহ দুজন ওয়ার্ডবয় ও একজন মশালচি কর্মরত। ফাঁকা রয়েছে বাবুর্চির পদ। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী দুজনের জায়গায় রয়েছে একজন, নেই ফার্মাসিস্ট। ক্লিনিকে (বহির্বিভাগ) একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন কনসালটেন্টের পদ থাকলেও একমাস ধরে তা শূন্য রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০ শয্যার এই হাসপাতালে মাত্র ৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ভর্তি রোগীদের অনেকেই দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার কারণে মানসিকভাবেও কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তবে হাসপাতালের পরিবেশ ও খাবারের মান নিয়ে রোগীদের বড় কোনো অভিযোগ নেই। চিকিৎসকরা জানান, সচেতনতা বৃদ্ধি ও বাড়িতে থেকে নিয়মিত ওষুধ সেবনের সুযোগ থাকায় এখন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা আগের চেয়ে কমেছে।

এ বিষয়ে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, “কনসালটেন্ট না থাকায় অতিরিক্ত রোগী সামলাতে হচ্ছে। এক্স-রে ফিল্ম না থাকলেও রোগীদের মনিটরে ছবি দেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীদের রিপোর্ট ডিজিটাল গ্রুপে সংরক্ষণ করা হচ্ছে যাতে পরবর্তী ফলোআপে সমস্যা না হয়। দ্রুত ফিল্ম পাওয়ার জন্য ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।”

সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে রংপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ হাসান খান জানান, “বাজেট বরাদ্দ ও সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার কারণে ফিল্ম সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত বিকল্প উপায়ে বা বাইরে থেকে ফিল্ম কিনে সাময়িক সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে শূন্য পদগুলোর বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

গোপালগঞ্জে টাকার বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিকে টিসিবির ডিলার পুনঃনিয়োগের অভিযোগ

error: Content is protected !!

এক্স-রে ফিল্ম সংকট ও জনবল স্বল্পতায় ধুঁকছে রংপুর বক্ষব্যাধি হাসপাতাল

আপডেট টাইম : ৪৮ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

মোঃ নাঈমুল ইসলাম, রংপুর সদর উপজেলা প্রতিনিধি

উপাত্ত ও প্রয়োজনীয় জনবলের তীব্র সংকটে ধুঁকছে রংপুরসহ আশপাশের কয়েকটি জেলার যক্ষ্মা রোগীদের প্রধান ভরসাস্থল ‘রংপুর বক্ষব্যাধি ক্লিনিক ও হাসপাতাল’। আধুনিক অবকাঠামো ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার যন্ত্র থাকলেও দুই মাস ধরে নেই এক্স-রে ফিল্ম। ফলে রোগ নির্ণয়ের অন্যতম মাধ্যম ‘বুকের এক্স-রে’ করার পর রোগীদের কোনো প্রিন্টেড ফিল্ম দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে চিকিৎসকরা কম্পিউটারের মনিটরে ছবি দেখে কিংবা প্রেসক্রিপশনে নোট লিখে চিকিৎসা কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

রংপুর নগরীর তাজহাট এলাকায় ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই হাসপাতালটিতে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনদের প্রধান অভিযোগ এক্স-রে ফিল্ম না পাওয়া নিয়ে। বক্ষব্যাধি ও যক্ষ্মা চিকিৎসার ক্ষেত্রে বুকের এক্স-রে কপি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা না পাওয়ায় পরবর্তীতে অন্য কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানোর সুযোগ থাকছে না।

ভুক্তভোগী রোগীর স্বজনদের একজন জানান, কিছুদিন আগে শাশুড়িকে ক্লিনিকে এনে এক্স-রে করালেও ফিল্ম দেওয়া হয়নি। যক্ষ্মা ধরা না পড়লেও পরবর্তীতে কোনো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসককে দেখানোর জন্য এক্স-রে কপিটি জরুরি ছিল, যা না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন তারা।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, বর্তমানে হাসপাতালে দুজন মেডিকেল অফিসার পদের বিপরীতে দুজনই রয়েছেন। তবে ছয়জন নার্সের বিপরীতে পাঁচজন নার্স, তিনজন ওয়ার্ডবয় থাকার কথা হলেও একজন আউটসোর্সিংয়েরসহ দুজন ওয়ার্ডবয় ও একজন মশালচি কর্মরত। ফাঁকা রয়েছে বাবুর্চির পদ। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মী দুজনের জায়গায় রয়েছে একজন, নেই ফার্মাসিস্ট। ক্লিনিকে (বহির্বিভাগ) একজন মেডিকেল অফিসার ও একজন কনসালটেন্টের পদ থাকলেও একমাস ধরে তা শূন্য রয়েছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ২০ শয্যার এই হাসপাতালে মাত্র ৬ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ভর্তি রোগীদের অনেকেই দীর্ঘদিন চিকিৎসা নেওয়ার কারণে মানসিকভাবেও কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। তবে হাসপাতালের পরিবেশ ও খাবারের মান নিয়ে রোগীদের বড় কোনো অভিযোগ নেই। চিকিৎসকরা জানান, সচেতনতা বৃদ্ধি ও বাড়িতে থেকে নিয়মিত ওষুধ সেবনের সুযোগ থাকায় এখন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নেওয়ার প্রবণতা আগের চেয়ে কমেছে।

এ বিষয়ে বক্ষব্যাধি ক্লিনিকের মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান জানান, “কনসালটেন্ট না থাকায় অতিরিক্ত রোগী সামলাতে হচ্ছে। এক্স-রে ফিল্ম না থাকলেও রোগীদের মনিটরে ছবি দেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। যক্ষ্মা আক্রান্ত রোগীদের রিপোর্ট ডিজিটাল গ্রুপে সংরক্ষণ করা হচ্ছে যাতে পরবর্তী ফলোআপে সমস্যা না হয়। দ্রুত ফিল্ম পাওয়ার জন্য ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।”

সংকটের বিষয়টি স্বীকার করে রংপুরের ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. ফিরোজ হাসান খান জানান, “বাজেট বরাদ্দ ও সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ার কারণে ফিল্ম সরবরাহে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। তবে সরকারিভাবে বরাদ্দ না পাওয়া পর্যন্ত বিকল্প উপায়ে বা বাইরে থেকে ফিল্ম কিনে সাময়িক সংকট নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেই সাথে শূন্য পদগুলোর বিষয়েও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।”