আলীম আল মুনিমঃ
আমরা যখন ব্যাথিত হই,কষ্ট পাই অনেক সময় তা প্রকাশ করতে পারলে বুকটা একটু হালকা হয়।বিগত ২৮ মার্চ ২০২৬ ইং আন্তর্জাতিক মিডিয়া কিংবা ফেইসবুকে বারবার ভেসে আসে একটি সংবাদ যে হৃদয়কে ক্ষতবিক্ষত করেছে।লিবিয়া থেকে গ্রিসে যাওয়ার পথে ১৮ জন বাংলাদেশী প্রাণ হারিয়েছে। যাদের মধ্যে ১০ জনই সুনামগঞ্জ জেলার। উন্নত জীবনের স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়ে যাওয়া কিছু তরুণের অকাল মুত্যৃ ভূমধ্য সাগরের জলে।এই ১৮ টি স্বপ্নের মুত্যৃ যেন ১৮ টি পরিবারের ভবিষ্য ভেঙ্গে পড়ার গল্প।
উন্নত জীবনের সন্ধানে ঘর ছেড়েছিল তারা।পরিবার পরিজনের মুখে হাসি ফোটাতে, নিদারুন অভাবের সংসারে কিছুটা স্বস্তি আনতে,নিজের জীবনের নিরাপত্তার জন্য কিংবা বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে দাঁড়াতে – এটাই ছিল তাদের অপরাধ। কিন্তু চোখের পলকে সেই স্বপ্নই পরিণত হলো দুংস্বপ্ন।দালালদের প্রলোভনে পড়ে তারা পাড়ি জমিয়েছিলেন এক অনিশ্চিত পথে – যেখানে প্রতিটি ধাপে মৃত্যু হাতছানি দেয়।
কেউ ভিটামাটি বিক্রি করেছে,কেউ ব্যাংক থেকে ঋন নিয়েছেন,সুদে টাকা এনেছে কিংবা পরিবারে শেষ সম্বলটুকু পযর্ন্ত বিসজর্ন দিয়েছেন।
প্রত্যেকই মানবপাচারকারী চক্রকে ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা করে দিয়েছেন। তারা কি জানতো- তাদের যাত্রা শেষ হবে এক অচেনা সাগরের বুকে? লিবিয়া নিয়ে অমানবিক বন্দিশালায় মাসের পর মাসে আটকে রেখে তাদের তুলে দেওয়া হয় সময় বুঝে ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায়।
এখন থেকে শুরু হয় তাদের মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই।যে দিকে চোখ যায় শুধু পানি – অসীম জলরাশি। কিন্তু এক ফোটা পানযোগ্য নয়, খাবার নেই,বিশুদ্ধ পানি নেই,নেই কোন নিরাপত্তা। কয়েকদিন টানা সমুদ্রে ভাসতে ভাসতে ক্লান্তি, ক্ষুধা আর তৃষ্ণায় নিভে যায় একেকটা জীবন প্রদীপ।পরিশেষে এই নিথর দেহগুলো আর সম্মান পায় না- ফেলে দেওয়া হয় অথৈ জলে – দালালদের নিদের্শেই।
এই দ্বায় কি শুধু তাদের – না এটি আমাদের সমাজের,আমাদের রাষ্ট্রের ব্যর্থতার প্রতিছবি।এই দ্বায় কোন ভাবে রাষ্ট্র এড়িয়ে যেতে পারে না।কেন আমাদের তরুণরা জীবনবাজি রেখে অবৈধ পথে বিদেশ যেতে হয়?কেন সে জেনেবুঝে মৃত্যুর পথ বেঁচে নেয়?এর উত্তর খুঁজতে গেলে আমরা দেখতে পাই- অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, বেকারত্ব, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার, জীবনের নিরাপত্তার অভাব কিংবা বিদেশে উন্নত জীবনের আশায় তাকে ঠেলে দেয় এই অন্ধকার পথে।
কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন ইউরোপ পৌঁছালেই জীবন বদলে যায় না।বৈধ কাগজপত্র ছাড়া একজন অভিবাসীর জীবন হয় আর কঠিন।বছরের পর বছর অনিশ্চয়তা, শোষণ আর অবহেলায় মধ্য দিয়ে দিন কাটাতে হয়।আমরা শুধু সফলতার গল্প শুনি,ব্যর্থতার আর্তনাদ আমাদের কানে পৌঁছায় না।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝকঝক ছবি দেখে আমরা বিশ্বাস করি বিদেশ মানেই সাফল্য। আর এই সুযোগে দালালচক্র ভুল ধারনাকে পুঁজি করে সক্রিয় থাকে।
রাষ্ট্রযন্ত্রের উচিত রাষ্ট্রে প্রত্যেক নাগরিক কে তাহার মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা,তার জীবনের নিরাপত্তার নিশ্চিত করা,এবং এই সব পাচার কারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।যারা মানুষের স্বপ্নকে মৃত্যুদিকে টেলে দেয় তাদের এমন শাস্তির বিধান করতে হবে,যাতে আর কেউ এই ধরনের অপরাধের সাহস না পায়।
একই সঙ্গে মানুষের মধ্য ব্যাপক সচেতনতা তৈরী করতে হবে,গ্রাম থেকে শহর সবজায়গায় মানুষকে বুঝাতে হবে অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার ভয়াবহতা। অবৈধ পথে বিদেশ মানেই অনিশ্চিত জীবন,প্রায় সময় নিশ্চিত মৃত্যু এই বার্তা সবার কানে পৌঁছাতে হবে।সরকারি পর্যায়ে বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজ ও স্বচ্ছ করতে হবে।তরুণদের জন্য প্রশিক্ষণ, তথ্যসেবা এবং সহায়তা বাড়াতে হবে।
পরিশেষে এই ঘটনাগুলোর আলোকে মনের মধ্যে প্রশ্ন দাঁড়ায় – একটি মানুষের জীবনের মূল্য কি এতটাই কম?
এই মৃত্যু কারও কাম্য নায়, আর কোন মায়ের কোল খালি না হয়- এই হোক আমাদের প্রত্যয়।
প্রিন্ট

বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে 
আলীম আল মুনিম, প্যারিস (ফ্রান্স) প্রতিনিধি 


















