রনি আহমেদ রাজুঃ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দখলবাজ আখ্যা দিয়ে তাঁর বাংলাদেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাশেদ খান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের নেতারা এতটাই শক্তিশালী হলে তাঁদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হতো না। একই সঙ্গে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের কাছে ফেরত পাঠানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশাকে উপেক্ষা করে ভারতের পক্ষে একদিকে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা কঠিন হবে।
শুক্রবার ( ০৯ অক্টোবর ) সকাল ১১ টায় বৈষম্য ছাত্র আন্দোলনের শহীদ মেহেদী হাসান সাব্বির পরিবারের খোঁজখবর নিতে মাগুরায় এসে কবরের পাশে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন রাশেদ খান।
শেখ রেহানার সাম্প্রতিক ফেসবুক পোস্ট এবং আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফিরবেন-এমন বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে রাশেদ খান বলেন, আওয়ামী লীগ একটি পলাতক সরকার। শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা এতটাই শক্তিশালী হলে তাঁদের দেশ ছেড়ে পালিয়ে যেতে হতো না। দেশে ফিরলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আশঙ্কা থাকলেও তিনি ফিরবেন কি না, সে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কি তাঁকে ছেড়ে দেবে?
ভারতের বিভিন্ন বক্তব্যে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে উল্লেখ করার প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, ভারত বাংলাদেশের নিকটতম প্রতিবেশী। দুই দেশের মধ্যে সুসম্পর্ক থাকা জরুরি। তবে বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা উপেক্ষা করে ভারতের দুই নৌকায় পা দিয়ে চলার নীতি গ্রহণ করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ভারত সরকার একদিকে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেবে, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চাইবে-এটি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদেরসহ ভারতে অবস্থানরত আওয়ামী লীগ নেতাদের বিষয়ে বাংলাদেশের জনগণের প্রত্যাশার প্রতি সম্মান জানাতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
রাশেদ খান বলেন, শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে হবে। অন্যথায় ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠা কঠিন হবে। বাংলাদেশের জনগণ বিষয়টি মেনে নেবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর আমিরের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাশেদ খান অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগকে সাধারণ ক্ষমা ঘোষণার বক্তব্য দিয়ে জামায়াতের আমির মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছেন। এ সময় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীরও সমালোচনা করেন তিনি।
রাশেদ খান বলেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এমন কোনো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি নন যে তাঁকে নিয়ে কথা বলতে হবে। তবে তিনি যেভাবে সম্মানিত ব্যক্তিদের নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন এবং তাঁদের হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করছেন, তা গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, জামায়াত ও এনসিপির উচিত নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্যের লাগাম টেনে ধরা। অন্যথায় জনগণই তাঁর লাগাম টেনে ধরবে।
বৈষম্য ছাত্র আন্দোলনের শহীদ মেহেদী হাসান রাব্বির বিচার নিশ্চিতে পুলিশ সুপারকে ফোন, খোঁজখবর নেওয়ার প্রসঙ্গে রাশেদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে শহীদ পরিবারগুলোর খোঁজখবর নেওয়ার দায়িত্ব দিয়েছেন। এ সময় তিনি মাগুরার পুলিশ সুপার মোল্লা আজাদ হোসেনকে তাৎক্ষণিক ফোন করে সংশ্লিষ্ট মামলার মেডিকেল রিপোর্ট ও অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিলে দীর্ঘসূত্রতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
জবাবে পুলিশ সুপার জানান, তিনি ছয় মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছেন। এ সময় রাশেদ খান আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করতে বলেন। পাশাপাশি জামিনে থাকা আসামিদের জামিন বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া এবং এখনো গ্রেপ্তার না হওয়া আসামিদের গ্রেপ্তারের ব্যবস্থার বিষয়েও কথা বলেন তিনি। শহীদ পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে মামলার তদন্ত ও বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাশেদ খান।

ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান 
রনি আহমেদ রাজু, নিজস্ব প্রতিনিধি 




















