ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬, ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুরে ‘শ্মশান বন্ধু’ কানু সেন অনেকটাই সুস্থ Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

আইজি প্রিজনের দূরদর্শী নেতৃত্ব দেশের কারাগারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

আলিফ হোসেনঃ

 

‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের কারাগারগুলোকে কেবল বন্দিশালা নয়, প্রকৃত অর্থেই সংশোধনাগারে রূপান্তরের লক্ষ্যে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোঃ মোতাহের হোসেন।

বর্তমান কারা মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে কারা প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং বন্দিদের জীবনমান উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর উদ্যোগে কারাগারের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে বন্দিদের পুষ্টি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

কারাগারের আবাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার এবং আধুনিক কারাগার নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিত করা হয়েছে। বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কারাব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর এনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ই-প্রিজন ব্যবস্থা এবং বন্দিদের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ। এর ফলে কারাব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও জনবান্ধব হয়েছে। পাশাপাশি বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ সহজ করতে ভিডিও কল ও বিশেষ টেলিফোন সেবাও চালু করা হয়েছে, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশংসিত হচ্ছে।

বন্দিদের দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন্দিদের হস্তশিল্প, সেলাই ও কৃষিকাজে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। কিছু কারাগারে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির অর্থ বন্দিদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে জমা রাখার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে, যা তাদের মুক্তির পর স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে।

এছাড়া বন্দিদের শিক্ষা কার্যক্রম, মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার সংযোজন এবং কারা হাসপাতালের আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।

কারাগারের শুদ্ধাচার ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে গ্রহণ করা হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। সন্দেহভাজনদের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদকাসক্তি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ফলে কারাগারে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়ম রোধে ইতিবাচক ফল মিলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান কারা মহাপরিদর্শকের উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর উদ্যোগের ফলে দেশের কারাগারগুলো ধীরে ধীরে অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর এই নেতৃত্ব ভবিষ্যতে দেশের কারাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

কালবৈশাখীর তাণ্ডবে হরিপুরে বিদ্যুৎ বিপর্যয়

error: Content is protected !!

আইজি প্রিজনের দূরদর্শী নেতৃত্ব দেশের কারাগারে বৈপ্লবিক পরিবর্তন

আপডেট টাইম : ৯ ঘন্টা আগে
আলিফ হোসেন, তানোর (রাজশাহী) প্রতিনিধি :

আলিফ হোসেনঃ

 

‘রাখিব নিরাপদ, দেখাব আলোর পথ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে দেশের কারাগারগুলোকে কেবল বন্দিশালা নয়, প্রকৃত অর্থেই সংশোধনাগারে রূপান্তরের লক্ষ্যে বহুমুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ মোঃ মোতাহের হোসেন।

বর্তমান কারা মহাপরিদর্শকের নেতৃত্বে কারা প্রশাসনের আধুনিকায়ন এবং বন্দিদের জীবনমান উন্নয়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তাঁর উদ্যোগে কারাগারের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষা থেকে শুরু করে বন্দিদের পুষ্টি, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন ব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

কারাগারের আবাসন ও অবকাঠামোগত উন্নয়নে নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জরাজীর্ণ ভবন সংস্কার এবং আধুনিক কারাগার নির্মাণ কাজ ত্বরান্বিত করা হয়েছে। বন্দিদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও পর্যাপ্ত জায়গা নিশ্চিত করতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে কারাব্যবস্থায় ডিজিটাল রূপান্তর এনে স্বচ্ছতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ই-প্রিজন ব্যবস্থা এবং বন্দিদের তথ্যভিত্তিক ডাটাবেজ। এর ফলে কারাব্যবস্থাপনা আরও আধুনিক ও জনবান্ধব হয়েছে। পাশাপাশি বন্দিদের সঙ্গে স্বজনদের যোগাযোগ সহজ করতে ভিডিও কল ও বিশেষ টেলিফোন সেবাও চালু করা হয়েছে, যা মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রশংসিত হচ্ছে।

বন্দিদের দক্ষতা উন্নয়নেও গুরুত্ব দিচ্ছে কারা কর্তৃপক্ষ। বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বন্দিদের হস্তশিল্প, সেলাই ও কৃষিকাজে দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। কিছু কারাগারে উৎপাদিত পণ্য বিক্রির অর্থ বন্দিদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে জমা রাখার ব্যবস্থাও চালু হয়েছে, যা তাদের মুক্তির পর স্বাবলম্বী হতে সহায়তা করবে।

এছাড়া বন্দিদের শিক্ষা কার্যক্রম, মানসম্মত খাদ্য সরবরাহ এবং উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করতে নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। খাদ্যতালিকায় পুষ্টিকর খাবার সংযোজন এবং কারা হাসপাতালের আধুনিকায়নের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে।

কারাগারের শুদ্ধাচার ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করতে গ্রহণ করা হয়েছে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি। সন্দেহভাজনদের ডোপ টেস্টের মাধ্যমে মাদকাসক্তি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, ফলে কারাগারে মাদক নিয়ন্ত্রণ ও অনিয়ম রোধে ইতিবাচক ফল মিলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমান কারা মহাপরিদর্শকের উন্নয়নমুখী দৃষ্টিভঙ্গি ও কার্যকর উদ্যোগের ফলে দেশের কারাগারগুলো ধীরে ধীরে অন্ধকার থেকে আলোর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। তাঁর এই নেতৃত্ব ভবিষ্যতে দেশের কারাব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

 


প্রিন্ট