ঢাকা , রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

অর্থাভাবে হচ্ছে না উন্নত চিকিৎসা শিকলে বাধা শিশু রাকিব

পাঁচ বছর ধরে  শিকলে বেঁধে রাখা হচ্ছে শিশু রাকিব হোসেনকে। কুড়িগ্রাম জেলার  ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা গ্রামে শিকলে বাঁধা রয়েছে ১১ বছর বয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন শিশু রাকিব হোসেন।
দূর্ঘটনা বা হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে ছেলেকে শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে প্রতিদিন কাজে যান দিনমজুর বাবা রুহুল আমিন (৪৫)। আর এভাভেই পাঁচ বছর ধরে  শিকলবন্দী রাকিব।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা গ্রামে শিশু রাকিবের বাড়ি। অন্যের জমিতে চাষাবাদ ও দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালায় রুহুল আমিন।  অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় দিন দিন ছেলের অবস্থা খারাপ হচ্ছে, এমনটাই বললেন রুহুল আমিন ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় শিশু রাকিবের পায়ে লোহার শিকল ও তালা লাগিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা। প্রচণ্ড শীতে কাঁপতে কাঁপতে সে শিকলে বাঁধা গাছটির চারদিকে ঘুরছে। হঠাৎ পাশ দিয়ে কোনো পথচারীকে যেতে দেখলেই ইশারায় কাছে ডেকে পায়ের শিকল খুলে দিতে বলে।
রাকিবের বাবা রুহুল আমিন বলেন, অভাবের সংসার তার। এক দিন কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। প্রতিদিন সকালে ছেলেকে শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে কাজে যান। বিকেলে কাজ থেকে ফিরে ছেলেকে ঘরে নিয়ে আসেন। উন্নত চিকিৎসা পেলে ছেলেটা হয়তো ভালো হবে। কিন্তু সেই টাকা তার নেই।
পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে বাড়ির সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় ভটভটির ধাক্কায় রাকিব হোসেন গুরুতর আহত হয়। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ভর্তি করান। চিকিৎসায় রাকিব প্রাণে বেঁচে গেলেও সে বাক্‌প্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
পরিবারে সৎমা থাকলেও রাকিবের দেখাশুনা করেন বাবা রুহুল আমিন। রাকিবের দাদি রহিমা বেগম বলেন, দুর্ঘটনার পর রাকিব হঠাৎ হঠাৎ হারিয়ে যেত, অন্যের ক্ষতি করত। পরে এলাকাবাসীর অনুরোধে তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়।
শিশু রাকিবের বাবা রহুল আমিন বলেন সমাজের বিত্তবানরা যদি শিশুটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন, ছেলেটাকে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি তাহলে হয়তো আমার ছেলে আবার সাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।
পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার  বলেন, শিশুটির নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেওয়া হয়েছে।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দ্রুত বিয়ে হওয়ার ৫ আমল ও দোয়া

error: Content is protected !!

অর্থাভাবে হচ্ছে না উন্নত চিকিৎসা শিকলে বাধা শিশু রাকিব

আপডেট টাইম : ০৩:৩৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৪
আরিফুল ইসলাম জয়, ভুরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
পাঁচ বছর ধরে  শিকলে বেঁধে রাখা হচ্ছে শিশু রাকিব হোসেনকে। কুড়িগ্রাম জেলার  ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা গ্রামে শিকলে বাঁধা রয়েছে ১১ বছর বয়সী মানসিক ভারসাম্যহীন শিশু রাকিব হোসেন।
দূর্ঘটনা বা হারিয়ে যাওয়ার ভয়ে ছেলেকে শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে প্রতিদিন কাজে যান দিনমজুর বাবা রুহুল আমিন (৪৫)। আর এভাভেই পাঁচ বছর ধরে  শিকলবন্দী রাকিব।
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের গছিডাঙ্গা গ্রামে শিশু রাকিবের বাড়ি। অন্যের জমিতে চাষাবাদ ও দিনমজুরি করে কোনোমতে সংসার চালায় রুহুল আমিন।  অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় দিন দিন ছেলের অবস্থা খারাপ হচ্ছে, এমনটাই বললেন রুহুল আমিন ।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় শিশু রাকিবের পায়ে লোহার শিকল ও তালা লাগিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখা। প্রচণ্ড শীতে কাঁপতে কাঁপতে সে শিকলে বাঁধা গাছটির চারদিকে ঘুরছে। হঠাৎ পাশ দিয়ে কোনো পথচারীকে যেতে দেখলেই ইশারায় কাছে ডেকে পায়ের শিকল খুলে দিতে বলে।
রাকিবের বাবা রুহুল আমিন বলেন, অভাবের সংসার তার। এক দিন কাজ না করলে পেটে ভাত জোটে না। প্রতিদিন সকালে ছেলেকে শিকল দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে কাজে যান। বিকেলে কাজ থেকে ফিরে ছেলেকে ঘরে নিয়ে আসেন। উন্নত চিকিৎসা পেলে ছেলেটা হয়তো ভালো হবে। কিন্তু সেই টাকা তার নেই।
পরিবার ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর আগে বাড়ির সামনে রাস্তা পার হওয়ার সময় ভটভটির ধাক্কায় রাকিব হোসেন গুরুতর আহত হয়। আশপাশের লোকজন তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  ভর্তি করান। চিকিৎসায় রাকিব প্রাণে বেঁচে গেলেও সে বাক্‌প্রতিবন্ধী ও মানসিক ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
পরিবারে সৎমা থাকলেও রাকিবের দেখাশুনা করেন বাবা রুহুল আমিন। রাকিবের দাদি রহিমা বেগম বলেন, দুর্ঘটনার পর রাকিব হঠাৎ হঠাৎ হারিয়ে যেত, অন্যের ক্ষতি করত। পরে এলাকাবাসীর অনুরোধে তাকে শিকলে বেঁধে রাখা হয়।
শিশু রাকিবের বাবা রহুল আমিন বলেন সমাজের বিত্তবানরা যদি শিশুটির চিকিৎসায় এগিয়ে আসেন, ছেলেটাকে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারি তাহলে হয়তো আমার ছেলে আবার সাভাবিক জীবনে ফিরে আসবে।
পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার  বলেন, শিশুটির নামে একটি প্রতিবন্ধী ভাতা কার্ড করে দেওয়া হয়েছে।