ঢাকা , বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 1728311111

অর্থনীতির বিপদ ক্ষমতাসীনরা টের পেতে শুরু করেছেন

অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশের অর্থনীতি ইতিমধ্যেই গভীর সংকটের মুখে পড়েছিল। বিগত সরকারের আমলে মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এর ফলে মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি লাভবান হলেও দেশে কোনো টেকসই কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তি উপেক্ষা করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে অর্থ তছরুপ করা হয়, যার ফলে অর্থনীতি মারাত্মক এক ভঙ্গুর অবস্থার দিকে ধাবিত হয়েছিল।

তৎকালীন সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র সবার সামনে এসেছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক খাত থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া এবং তা পরিশোধ না করার প্রবণতা অর্থনীতিকে আরও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের প্রায় ডজনখানেক সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক লুটপাটের শিকার হয়ে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পরিণতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনক হারে কমে গিয়ে দেশ এক চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড়ায়।

এমন এক ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির হাল ধরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর্থিক খাতের বিভিন্ন অনিয়ম দূর করার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। তাদের সুনির্দিষ্ট কিছু নীতির ফলে রিজার্ভের পরিমাণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং ব্যাংকিং খাতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে আসে। নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল, যা নতুন সরকারের জন্য দেশ পরিচালনার পথ কিছুটা সহজ করে দিয়েছিল।

তবে সম্প্রতি বর্তমান প্রশাসনের কোনো কোনো মন্ত্রীর বক্তব্যে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের বক্তব্য এবং অর্থনীতির প্রকৃত সংকট আড়াল করার প্রবণতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী জমানার পর একটি বিপর্যস্ত রাষ্ট্র ও অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা যে কতটা জটিল প্রক্রিয়া, তা বর্তমান শাসকরা এখন বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই উপলব্ধি করতে পারছেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

Ishtiaque Ahmed

জনপ্রিয় সংবাদ

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ উন্নয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: প্রধানমন্ত্রী

error: Content is protected !!

অর্থনীতির বিপদ ক্ষমতাসীনরা টের পেতে শুরু করেছেন

আপডেট টাইম : ৪৯ মিনিট আগে
সময়ের প্রত্যাশা ডেস্ক : :

অর্থনীতি ডেস্ক: দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনের কারণে দেশের অর্থনীতি ইতিমধ্যেই গভীর সংকটের মুখে পড়েছিল। বিগত সরকারের আমলে মেগা প্রকল্পের নামে হাজার হাজার কোটি টাকা অপচয় করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের সমীক্ষা ছাড়াই বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা হয়েছিল। এর ফলে মুষ্টিমেয় কিছু ব্যক্তি লাভবান হলেও দেশে কোনো টেকসই কর্মসংস্থান তৈরি হয়নি। এছাড়া আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তি উপেক্ষা করে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ থেকে অর্থ তছরুপ করা হয়, যার ফলে অর্থনীতি মারাত্মক এক ভঙ্গুর অবস্থার দিকে ধাবিত হয়েছিল।

তৎকালীন সময়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে সীমাহীন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র সবার সামনে এসেছে। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ব্যাংক খাত থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে বিপুল পরিমাণ ঋণ নেওয়া এবং তা পরিশোধ না করার প্রবণতা অর্থনীতিকে আরও বিপদের মুখে ঠেলে দেয়। ইসলামী ব্যাংকসহ দেশের প্রায় ডজনখানেক সরকারি ও বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক লুটপাটের শিকার হয়ে দেউলিয়া হওয়ার উপক্রম হয়েছিল। পরিণতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আশঙ্কাজনক হারে কমে গিয়ে দেশ এক চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মুখোমুখি দাঁড়ায়।

এমন এক ধুঁকতে থাকা অর্থনীতির হাল ধরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আর্থিক খাতের বিভিন্ন অনিয়ম দূর করার ক্ষেত্রে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিল। তাদের সুনির্দিষ্ট কিছু নীতির ফলে রিজার্ভের পরিমাণ ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে এবং ব্যাংকিং খাতে কিছুটা শৃঙ্খলা ফিরে আসে। নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় অর্থনীতির মৌলিক সূচকগুলোতে ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গিয়েছিল, যা নতুন সরকারের জন্য দেশ পরিচালনার পথ কিছুটা সহজ করে দিয়েছিল।

তবে সম্প্রতি বর্তমান প্রশাসনের কোনো কোনো মন্ত্রীর বক্তব্যে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা গেছে। রাজনৈতিক অঙ্গনে এ ধরনের বক্তব্য এবং অর্থনীতির প্রকৃত সংকট আড়াল করার প্রবণতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে সমালোচনা তৈরি হয়েছে। অথচ দীর্ঘ ফ্যাসিবাদী জমানার পর একটি বিপর্যস্ত রাষ্ট্র ও অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধার করা যে কতটা জটিল প্রক্রিয়া, তা বর্তমান শাসকরা এখন বাস্তব অভিজ্ঞতার মাধ্যমেই উপলব্ধি করতে পারছেন।