ঢাকা , রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাঘায় সুষ্ঠ সুন্দর পরিবেশে প্রাথমিকের বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিতঃ উপস্থিতির হারে বালিকা এগিয়ে Logo নরসিংদীর শিবপুরে ২৬ মামলার আসামিসহ দুই ডাকাত গ্রেপ্তার Logo খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে পালিত হবে আগামীকাল Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মাদক উদ্ধার Logo সকল রাজনৈক দল, ধর্ম, বর্ণ ও শ্রেণী পেশার মানুষের সেবা করতে বিএনপি সরকার ওয়াদাবদ্ধ Logo সেনবাগে কাওমী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসায় ঈদ উপহার বিতরণ করলেন লায়ন শাহাদাত হোসেন Logo সিংড়ায় পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় মামলা, গ্রেপ্তার ১০ Logo কুষ্টিয়ায় মাদক সেবনের টাকা না পেয়ে বসতঘরে আগুন Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলে আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত Logo ফরিদপুরে যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিদেশি পিস্তল, গুলি ও ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

অফিসের আদেশ অমান্য করে নিজ কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন না সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি:

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিপত্র অনুসারে ডেপুটেশন বা অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর হলেও ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের ২৩ নং মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা উম্মে ফারজানা প্রায় দুই বছর ধরে সংযুক্তিতে রয়েছেন ৩০ নং রাজাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

 

এ নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গত ১১ আগস্ট ফারজানার সংযুক্তি বাতিল করে নিজ কর্মস্থলে যোগদানের জন্য একটি অফিস আদেশ জারি করেন। তবে চিঠিটি আমলে না নিয়ে ফারজানা এখনও ৩০ নং রাজাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন।

 

জানা গেছে, ২০২৩ সালে ২৩ নং মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হজ পালন উপলক্ষে মক্কা গমনের পর, ফারজানা ডেপুটেশনে ৩০ নং রাজাপুর মডেল বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে কাগজপত্র জমা দেন। দুই বিদ্যালয়ের দূরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার। প্রধান শিক্ষিকা বাধা দিতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাঁর অনুপস্থিতিতে ফারজানা এই কাজটি করেন। এরপর তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ফারজানার সংযুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফারজানার একাধিক সহকর্মী জানান, এত অল্প দূরত্বে সাধারণত সংযুক্তি হয় না। অনেক সময় শিক্ষক সংকট হলে অন্য বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু যে বিদ্যালয়ে ফারজানাকে সংযুক্ত করা হয়েছে, সেখানে চাহিদার তুলনায় শিক্ষক বেশি।

 

তারা অভিযোগ করেন, “মুনিব স্যার কেন বা কীভাবে ফারজানার জন্য এমন একটি অবৈধ কাজ করলেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। সংযুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র মহাপরিচালকের। অথচ মুনিবুর রহমান ০২/০৭/২০২৩ তারিখে নিজস্ব সইয়ে একটি মনগড়া অফিস আদেশ বানিয়ে ফারজানাকে সংযুক্ত করেন। পরে সেই সংযুক্তিকে বৈধ করতে ১৬ মে ২০২৪ তারিখে মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে নতুন একটি অফিস আদেশ জোগাড় করেন ফারজানা, যার মেয়াদ ছিল এক বছর।”

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের পরিপত্র অনুযায়ী, সংযুক্তির মেয়াদ এক বছরের বেশি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে মূল বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুসারে, ১৫ মে ২০২৫ তারিখে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর ফারজানার নিজ বিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিন মাস পার হলেও তিনি সেখানে যোগদান করেননি।

 

পরবর্তীতে ১১ আগস্ট জেলা শিক্ষা অফিস ফের এক অফিস আদেশে ফারজানাকে মূল কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি এখনও সংযুক্তি বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

৩০ নং রাজাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা খানম জানান, “গত পরশু আমি ফারজানার সংযুক্তি বাতিলের অফিস আদেশ পেয়েছি। তবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে ফোনে জানিয়েছেন, ফারজানা যেন আরও দু-একদিন আমাদের বিদ্যালয়ে থাকেন। এরপর তাঁরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

 

ফারজানার কর্মস্থল ২৩ নং মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালমা সুলতানা বলেন, “আমার বিদ্যালয়ে মোট পদ সংখ্যা ৫। একজন অবসরে এবং ফারজানা অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্ত থাকায় বর্তমানে মাত্র ৩ জন শিক্ষক আছেন। প্রধান শিক্ষক বাইরে দাপ্তরিক কাজে থাকলে অথবা একজন ছুটিতে গেলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফারজানা ফিরে এলে কিছুটা হলেও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।”

 

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা উম্মে ফারজানা বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না। ডিডি স্যার ও ডিজি স্যারের আদেশক্রমে আমি এখানে আছি। আপনি তাঁদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জেনে নিন।”

 

রাজাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন বলেন, “ফারজানার নিজ কর্মস্থলে যোগদানের অফিস আদেশ রয়েছে। কিন্তু উপরের মৌখিক নির্দেশে আমি তাঁকে দু-একদিন আরও সংযুক্তি বিদ্যালয়ে থাকতে বলেছি।” অফিস আদেশ ছাড়া তিনি কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিলেন জানতে চাইলে বলেন, “উপরের কর্মকর্তারা ফোন করে কিছু বললে আমাদের তা মানতেই হয়।”

 

ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর আলম মজুমদার বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আপনি ডিডি মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

তানোরে বেকারদের পকেট কাটা !

error: Content is protected !!

অফিসের আদেশ অমান্য করে নিজ কর্মস্থলে যোগ দিচ্ছেন না সহকারী শিক্ষিকা ফারজানা

আপডেট টাইম : ১২:০৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৫
মোঃ অহিদ সাইফুল, রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি :

রাজাপুর (ঝালকাঠি) প্রতিনিধি:

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিপত্র অনুসারে ডেপুটেশন বা অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্তির মেয়াদ সর্বোচ্চ এক বছর হলেও ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা সদরের ২৩ নং মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা উম্মে ফারজানা প্রায় দুই বছর ধরে সংযুক্তিতে রয়েছেন ৩০ নং রাজাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে।

 

এ নিয়ে জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা গত ১১ আগস্ট ফারজানার সংযুক্তি বাতিল করে নিজ কর্মস্থলে যোগদানের জন্য একটি অফিস আদেশ জারি করেন। তবে চিঠিটি আমলে না নিয়ে ফারজানা এখনও ৩০ নং রাজাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ক্লাস নিচ্ছেন।

 

জানা গেছে, ২০২৩ সালে ২৩ নং মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা হজ পালন উপলক্ষে মক্কা গমনের পর, ফারজানা ডেপুটেশনে ৩০ নং রাজাপুর মডেল বিদ্যালয়ে যোগদানের জন্য তৎকালীন শিক্ষা কর্মকর্তার যোগসাজশে কাগজপত্র জমা দেন। দুই বিদ্যালয়ের দূরত্ব মাত্র দেড় কিলোমিটার। প্রধান শিক্ষিকা বাধা দিতে পারেন—এমন আশঙ্কায় তাঁর অনুপস্থিতিতে ফারজানা এই কাজটি করেন। এরপর তৎকালীন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মুনিবুর রহমান সম্পূর্ণ অবৈধভাবে ফারজানার সংযুক্তির কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফারজানার একাধিক সহকর্মী জানান, এত অল্প দূরত্বে সাধারণত সংযুক্তি হয় না। অনেক সময় শিক্ষক সংকট হলে অন্য বিদ্যালয় থেকে শিক্ষক সংযুক্ত করা হয়। কিন্তু যে বিদ্যালয়ে ফারজানাকে সংযুক্ত করা হয়েছে, সেখানে চাহিদার তুলনায় শিক্ষক বেশি।

 

তারা অভিযোগ করেন, “মুনিব স্যার কেন বা কীভাবে ফারজানার জন্য এমন একটি অবৈধ কাজ করলেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। সংযুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার একমাত্র মহাপরিচালকের। অথচ মুনিবুর রহমান ০২/০৭/২০২৩ তারিখে নিজস্ব সইয়ে একটি মনগড়া অফিস আদেশ বানিয়ে ফারজানাকে সংযুক্ত করেন। পরে সেই সংযুক্তিকে বৈধ করতে ১৬ মে ২০২৪ তারিখে মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে নতুন একটি অফিস আদেশ জোগাড় করেন ফারজানা, যার মেয়াদ ছিল এক বছর।”

 

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ৫ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখের পরিপত্র অনুযায়ী, সংযুক্তির মেয়াদ এক বছরের বেশি হলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে মূল বিদ্যালয়ে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই অনুসারে, ১৫ মে ২০২৫ তারিখে এক বছর পূর্ণ হওয়ার পর ফারজানার নিজ বিদ্যালয়ে ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তিন মাস পার হলেও তিনি সেখানে যোগদান করেননি।

 

পরবর্তীতে ১১ আগস্ট জেলা শিক্ষা অফিস ফের এক অফিস আদেশে ফারজানাকে মূল কর্মস্থলে যোগদানের নির্দেশ দেয়। কিন্তু তিনি এখনও সংযুক্তি বিদ্যালয়ে শ্রেণি কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

৩০ নং রাজাপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মাহমুদা খানম জানান, “গত পরশু আমি ফারজানার সংযুক্তি বাতিলের অফিস আদেশ পেয়েছি। তবে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আমাকে ফোনে জানিয়েছেন, ফারজানা যেন আরও দু-একদিন আমাদের বিদ্যালয়ে থাকেন। এরপর তাঁরা এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

 

ফারজানার কর্মস্থল ২৩ নং মনোহরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা সালমা সুলতানা বলেন, “আমার বিদ্যালয়ে মোট পদ সংখ্যা ৫। একজন অবসরে এবং ফারজানা অন্য বিদ্যালয়ে সংযুক্ত থাকায় বর্তমানে মাত্র ৩ জন শিক্ষক আছেন। প্রধান শিক্ষক বাইরে দাপ্তরিক কাজে থাকলে অথবা একজন ছুটিতে গেলে বিদ্যালয়ের কার্যক্রম ব্যাহত হয়। ফারজানা ফিরে এলে কিছুটা হলেও শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।”

 

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষিকা উম্মে ফারজানা বলেন, “আমি এ বিষয়ে কোনো কথা বলব না। ডিডি স্যার ও ডিজি স্যারের আদেশক্রমে আমি এখানে আছি। আপনি তাঁদের সাথে কথা বলে বিস্তারিত জেনে নিন।”

 

রাজাপুর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আকতার হোসেন বলেন, “ফারজানার নিজ কর্মস্থলে যোগদানের অফিস আদেশ রয়েছে। কিন্তু উপরের মৌখিক নির্দেশে আমি তাঁকে দু-একদিন আরও সংযুক্তি বিদ্যালয়ে থাকতে বলেছি।” অফিস আদেশ ছাড়া তিনি কীভাবে এই সিদ্ধান্ত নিলেন জানতে চাইলে বলেন, “উপরের কর্মকর্তারা ফোন করে কিছু বললে আমাদের তা মানতেই হয়।”

 

ঝালকাঠি জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শাহিনুর আলম মজুমদার বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না। আপনি ডিডি মহোদয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।”


প্রিন্ট