ঢাকা , শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কুষ্টিয়া সীমান্তে বিএসএফের পুশইন চেষ্টা, বিজিবির বাধায় ফিরে গেল ৪ জন Logo ঠাকুরগাঁওয়ে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জেলা শিক্ষা অফিসের যৌথ পরিচ্ছন্নতা অভিযান Logo ১৫ বছর পর ভাঙ্গার কুমার নদে ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচঃ লাখো মানুষের ঢল। Logo আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবে লাইব্রেরি উদ্বোধন Logo রায়ের পর বদলে গেল গোগ্রামের পাঁচ বছরের নির্বাচনী হিসাব Logo শতবর্ষী সরকারি খাল দখলমুক্তে অভিযান, মালামাল স্পট নিলামে Logo মধুখালী থানার এএসআই শরীফুলের সাফল্য, ৬২ হারানো মোবাইল উদ্ধার Logo বিদ্যুৎ সংকটে গঙ্গাচড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সোলার-আইপিএস দিলেন জিওন Logo নরসিংদীর চরাঞ্চলে যৌথ অভিযান, অস্ত্র-গুলাবারুদ ও ১৩৬ ককটেলসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo সারাদেশে জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস-২০২৬ পালিত
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন। Hotline- +880 9617 179084

এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেইল, ভুক্তভোগীদের অভিযোগে তদন্তে পুলিশ

তরিকুল ইসলাম মোস্তফাঃ

 

​পটুয়াখালীর বাউফলে দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সাইবার বুলিং।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে প্রচার, আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি এবং মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার মতো নানা কৌশলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও গৃহবধূসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সচেতন মহল।

 

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একজনের ছবির সঙ্গে অন্যজনের ছবি জুড়ে দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিকৃত ও আপত্তিকর ছবি। কখনো তৈরি করা হচ্ছে ভিডিও বা নানা ধরনের কনটেন্ট। পরে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফেসবুক ও টেলিগ্রামে ভুয়া আইডি খুলে সেসব ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

​সম্প্রতি ‘বাউফল বার্তালয়’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে একজন নারী ও একজন পুরুষ চিকিৎসককে সাইবার বুলিং করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে। নতুন করে হয়রানির আশঙ্কায় ওই চিকিৎসকরা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তাঁদের মতো আরও অনেক ভুক্তভোগী সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

​বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জলিলুর রহমান বলেন, ‘সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে সাংবাদিক, শিক্ষক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ জনপ্রতিনিধিরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ফেক আইডি খুলে যারা এসব মানুষের চরিত্রহনন করছে, তাদের অচিরেই আইনের আওতায় আনা উচিত। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান থাকবে, দ্রুত এসব আইডি শনাক্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হোক।’
​বাউফল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা প্রফেসর মো. আবুল বাশার তালুকদার বলেন, ‘সাইবার বুলিং বর্তমানে একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে ব্যক্তি ও পরিবারকে নানা ধরনের সামাজিক ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

 

​বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান ডিউক বলেন, ‘একটি মিথ্যা পোস্ট, মিথ্যা বক্তব্য বা মিথ্যা ছবি ছড়িয়ে দিয়ে যেভাবে একজন মানুষকে হেয় করা হয়, তাতে একটি পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আমাকে নিয়েও এমন কিছু তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার কোনো সত্যতা নেই। প্রশাসন সঠিকভাবে এসব তথ্যের উৎস উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে আমি আশা প্রকাশ করছি।’

 

​বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক ব্যক্তির ছবির সঙ্গে অন্য ব্যক্তির ছবি যুক্ত করে তা প্রচার করা হচ্ছে। এসব প্রচারে ব্যবহৃত আইডির পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য অনেক সময় পাওয়া যায় না। তাঁর ধারণা, কখনো কখনো ভিউ বাড়ানোর জন্যও এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করা হয়। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দ্রুত এসব আইডি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।’

 

​বাউফল উপজেলা বিএনপির যুগ্মআহ্বায়ক সামুয়েল আহমেদ লেনিন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন ফেক আইডির মাধ্যমে নেতিবাচক ও মানহানিকর ছবি ও তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। সাবেক কয়েকজন চেয়ারম্যানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকেও এসব প্রচারণার শিকার হতে দেখা গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
​আরেকজন ভুক্তভোগী, বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সফল কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সম্প্রতি বাউফলের বেশ কিছু ফেক আইডি থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়ে একাধিক মিথ্যা স্ট্যাটাস ও এআই দিয়ে তৈরি বিকৃত ছবি প্রচার করা হয়েছে।

 

আইডিগুলোর সব নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না; এর মধ্যে একটি হলো “বাউফল পৌরসভার তাজা খবর” এবং অন্যটি “বাংলাদেশের রাজনীতি”। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের লেখা ও ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে, যা সমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ক্রাইম টিমকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার পাশাপাশি, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কীভাবে ভুয়া আইডি খোলার সুযোগ বন্ধ করতে পারে, সে বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

 

​এদিকে সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আগে সংবাদপত্রে ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুনের মাধ্যমে কাউকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো। বর্তমানে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় একটি অংশ ফেসবুক ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক হওয়ায় সেখানে ফেক আইডি খুলে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করার ঘটনা ঘটছে।’

 

​ওসি সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আইনের আওতায় যতটুকু ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। ফেক আইডির প্রকৃত ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়। কারণ দেশের বাইরে থেকেও কোনো ফেক আইডি পরিচালিত হতে পারে। ফলে বাউফলের নামে কোনো আইডি থাকলেই সেটি বাউফলের কারও—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।’
​তিনি বলেন, ‘আমাদের সাইবার ইউনিটও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এসব অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইডি ও ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’

 

​সচেতন মহলের দাবি, সাইবার বুলিং শুধু ব্যক্তির সম্মানহানিই করছে না, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সামাজিক জীবনেও। প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে দ্রুত ভুয়া আইডি শনাক্ত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা জরুরি।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশজুড়ে শুরু হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গোৎসব

error: Content is protected !!

এআই দিয়ে ছবি বিকৃত করে ব্ল্যাকমেইল, ভুক্তভোগীদের অভিযোগে তদন্তে পুলিশ

আপডেট টাইম : ০৩:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তরিকুল ইসলাম মোস্তফা, বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি :

তরিকুল ইসলাম মোস্তফাঃ

 

​পটুয়াখালীর বাউফলে দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে সাইবার বুলিং।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে ছবি ও ভিডিও বিকৃত করে প্রচার, আপত্তিকর কনটেন্ট তৈরি এবং মানহানিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়ার মতো নানা কৌশলে হয়রানির শিকার হচ্ছেন রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও গৃহবধূসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন সচেতন মহল।

 

​ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তির অপব্যবহার করে একজনের ছবির সঙ্গে অন্যজনের ছবি জুড়ে দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে বিকৃত ও আপত্তিকর ছবি। কখনো তৈরি করা হচ্ছে ভিডিও বা নানা ধরনের কনটেন্ট। পরে এসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে দাবি করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের টাকা। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ফেসবুক ও টেলিগ্রামে ভুয়া আইডি খুলে সেসব ছবি বা ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে।

 

​সম্প্রতি ‘বাউফল বার্তালয়’ নামে একটি ফেসবুক আইডি থেকে একজন নারী ও একজন পুরুষ চিকিৎসককে সাইবার বুলিং করার অভিযোগ ওঠে। বিষয়টি নিয়ে তাঁরা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে জানা গেছে। নতুন করে হয়রানির আশঙ্কায় ওই চিকিৎসকরা ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে তাঁদের মতো আরও অনেক ভুক্তভোগী সাইবার বুলিংয়ের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

 

​বাউফল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জলিলুর রহমান বলেন, ‘সাইবার ক্রাইমের মাধ্যমে সাংবাদিক, শিক্ষক, সামাজিক ব্যক্তিবর্গসহ জনপ্রতিনিধিরা প্রতিনিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ফেক আইডি খুলে যারা এসব মানুষের চরিত্রহনন করছে, তাদের অচিরেই আইনের আওতায় আনা উচিত। প্রশাসনের প্রতি আহ্বান থাকবে, দ্রুত এসব আইডি শনাক্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার করা হোক।’
​বাউফল সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা প্রফেসর মো. আবুল বাশার তালুকদার বলেন, ‘সাইবার বুলিং বর্তমানে একটি বড় সামাজিক সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহারের কারণে ব্যক্তি ও পরিবারকে নানা ধরনের সামাজিক ও মানসিক সংকটের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।’

 

​বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওহিদুজ্জামান ডিউক বলেন, ‘একটি মিথ্যা পোস্ট, মিথ্যা বক্তব্য বা মিথ্যা ছবি ছড়িয়ে দিয়ে যেভাবে একজন মানুষকে হেয় করা হয়, তাতে একটি পরিবার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিক সময়ে আমাকে নিয়েও এমন কিছু তথ্য ছড়ানো হয়েছে, যার কোনো সত্যতা নেই। প্রশাসন সঠিকভাবে এসব তথ্যের উৎস উদঘাটন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে বলে আমি আশা প্রকাশ করছি।’

 

​বাউফল প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কামরুজ্জামান বাচ্চু বলেন, ‘এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক ব্যক্তির ছবির সঙ্গে অন্য ব্যক্তির ছবি যুক্ত করে তা প্রচার করা হচ্ছে। এসব প্রচারে ব্যবহৃত আইডির পরিচয় বা বিস্তারিত তথ্য অনেক সময় পাওয়া যায় না। তাঁর ধারণা, কখনো কখনো ভিউ বাড়ানোর জন্যও এ ধরনের কনটেন্ট তৈরি করা হয়। তিনি আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে দ্রুত এসব আইডি শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।’

 

​বাউফল উপজেলা বিএনপির যুগ্মআহ্বায়ক সামুয়েল আহমেদ লেনিন বলেন, ‘বেশ কিছুদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি, সম্ভাব্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থী, চিকিৎসক, ব্যবসায়ী ও সরকারি কর্মকর্তাদের নিয়ে বিভিন্ন ফেক আইডির মাধ্যমে নেতিবাচক ও মানহানিকর ছবি ও তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। সাবেক কয়েকজন চেয়ারম্যানসহ বিএনপির কয়েকজন নেতাকেও এসব প্রচারণার শিকার হতে দেখা গেছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
​আরেকজন ভুক্তভোগী, বাউফল পৌর বিএনপির সভাপতি ও সাবেক সফল কাউন্সিলর হুমায়ুন কবির বলেন, ‘সম্প্রতি বাউফলের বেশ কিছু ফেক আইডি থেকে আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়ে একাধিক মিথ্যা স্ট্যাটাস ও এআই দিয়ে তৈরি বিকৃত ছবি প্রচার করা হয়েছে।

 

আইডিগুলোর সব নাম এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না; এর মধ্যে একটি হলো “বাউফল পৌরসভার তাজা খবর” এবং অন্যটি “বাংলাদেশের রাজনীতি”। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে এ ধরনের লেখা ও ছবি প্রকাশ করা হচ্ছে, যা সমাজের অবক্ষয়ের অন্যতম কারণ। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাইবার ক্রাইম টিমকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখার পাশাপাশি, ফেসবুক কর্তৃপক্ষ কীভাবে ভুয়া আইডি খোলার সুযোগ বন্ধ করতে পারে, সে বিষয়েও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’

 

​এদিকে সাইবার বুলিংয়ের ঘটনায় থানায় সাধারণ ডায়েরি ও অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়েছেন বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘আগে সংবাদপত্রে ব্যঙ্গচিত্র বা কার্টুনের মাধ্যমে কাউকে নিয়ে ব্যঙ্গ করা হতো। বর্তমানে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বড় একটি অংশ ফেসবুক ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মকেন্দ্রিক হওয়ায় সেখানে ফেক আইডি খুলে কাউকে হেয়প্রতিপন্ন করার ঘটনা ঘটছে।’

 

​ওসি সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘আইনের আওতায় যতটুকু ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ আছে, আমরা সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি। ফেক আইডির প্রকৃত ব্যবহারকারীকে শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়। কারণ দেশের বাইরে থেকেও কোনো ফেক আইডি পরিচালিত হতে পারে। ফলে বাউফলের নামে কোনো আইডি থাকলেই সেটি বাউফলের কারও—এমনটা নিশ্চিতভাবে বলা যায় না।’
​তিনি বলেন, ‘আমাদের সাইবার ইউনিটও বিষয়টি নিয়ে কাজ করছে। প্রযুক্তির উন্নতির সঙ্গে সঙ্গে এসব অপরাধের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আইডি ও ব্যবহারকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।’

 

​সচেতন মহলের দাবি, সাইবার বুলিং শুধু ব্যক্তির সম্মানহানিই করছে না, এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে পরিবার ও সামাজিক জীবনেও। প্রযুক্তির অপব্যবহার ঠেকাতে দ্রুত ভুয়া আইডি শনাক্ত করা, অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের জন্য কার্যকর প্রতিকার নিশ্চিত করা জরুরি।