ঢাকা , শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ২১ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

গোপালগঞ্জে শিক্ষার্থীদের যাদু বিদ্যার বই কিনতে বাধ্য করলো প্রধান শিক্ষক

শাহীন মুন্সী, গোপালগঞ্জ ব্যুরো প্রধান

গোপালগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাদু বিদ্যার বই কিনতে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাহাবুব মুন্সী এই অনৈতিক কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শহর জুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

 

ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী এস.এম. মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টিতে ১ হাজার ১২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে।

 

সংক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলেন, গত সাপ্তাহে অ্যাসেম্বলি চলাকালীন সময় শিক্ষকরা ভারতীয় এক নাগরিককে ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের রোদে ভিতরে বসিয়ে ম্যাজিক দেখান। পরে যাদু বিদ্যার বই ক্রয়ের জন্য প্রলুব্ধ করেন এবং পরবর্তী দিনে বাসা থেকে ৪০ টাকা করে এনে স্কুলে জমা করতে নির্দেশ দেন।

 

অভিভাবকরা আরো জানান, শিক্ষকদের কথা মত শিক্ষার্থীরা টাকা জমা দিলেও আজকে পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থী বই পাইনি। না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী অভিভাবক বলেন, “আমরা দরিদ্র মানুষ, মন চাইলেই বাড়তি খরচ করতে পারি না, গত বৃহস্পতিবার আমার বাচ্চা বাড়িতে এসে কান্না করছে। বলেছে স্যার ম্যাজিক বই কেনার টাকা নিয়ে স্কুলে যেতে বলেছে, আমি ধার করে টাকা দিয়েছি, তবে এখনো বাচ্চাকে স্কুল থেকে বই দেয়নি।”

 

বিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোঃ বাসার হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষক মাহাবুব মুন্সীর স্ত্রী সহকারী শিক্ষক রুকসানা আক্তার লিরা পরিচালিত রাইজ এডুকেশন কেয়ার নামের একটি কোচিং এ শিক্ষার্থীদের পড়তে বাধ্য করতেন। তার কোচিং এ না পড়লে বাচ্চাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার সহ ক্লাসে ফেল করানোর ভয় দেখানো হতো। এই অনিয়ম অব্যবস্থাপনা দেখে আমার বাচ্চাকে অনির্বাণ স্কুলে ভর্তি করি। শুনেছি, ওই সহকারী শিক্ষক এখনো শিক্ষার্থীদের তার পরিচালিত কোচিং এ ভর্তি করতে বাধ্য করছে।

 

অভিভাবকদের এসব অভিযোগের সূত্র ধরে এস.এম. মডেল সঃ প্রঃ বিঃ ও রাইজ এডুকেশন কেয়ার কোচিং এ সরেজমিন পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। কোচিং টিতে প্রধান শিক্ষক মাহাবুব মুন্সীর স্ত্রী সহকারী শিক্ষক রুকসানা আক্তার লিরাকে মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়াতে ও কোচিং পরিচালনা করতে দেখা গেছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের একটি গোপন সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মাহাবুব মুন্সী গত ২০২৪ শিক্ষা বর্ষ এবং বর্তমান ২০২৫ শিক্ষা বর্ষে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়ে বেশ কয়েকটি শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে।

 

এ সকল অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মাহাবুব মুন্সী বলেন, “আমরা যাদু বিদ্যা (ম্যাজিক) বই কেনার জন্য কোন শিক্ষার্থীকে চাপ দেয়নি। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা নিজের ইচ্ছায় বই কিনেছে।”

 

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার পলাশ সর্দার জানান, “এ ধরনের কোন ম্যাজিক বই শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করার সুযোগ নেই। যদি বিদ্যালয়টির শিক্ষকদের দ্বারা এমন অপরাধমূলক কাজ হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


প্রিন্ট
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

error: Content is protected !!

গোপালগঞ্জে শিক্ষার্থীদের যাদু বিদ্যার বই কিনতে বাধ্য করলো প্রধান শিক্ষক

আপডেট টাইম : ০৪:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
মুন্সী সাদেকুর রহমান শাহিন, গোপালগঞ্জ ব্যুরো প্রধান :

শাহীন মুন্সী, গোপালগঞ্জ ব্যুরো প্রধান

গোপালগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাদু বিদ্যার বই কিনতে বাধ্য করার ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক মাহাবুব মুন্সী এই অনৈতিক কাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

 

এ ঘটনায় শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শহর জুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা।

 

ঘটনাটি ঘটেছে গোপালগঞ্জ পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী এস.এম. মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। বিদ্যালয়টিতে ১ হাজার ১২ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত আছে।

 

সংক্ষুব্ধ অভিভাবকরা বলেন, গত সাপ্তাহে অ্যাসেম্বলি চলাকালীন সময় শিক্ষকরা ভারতীয় এক নাগরিককে ডেকে এনে শিক্ষার্থীদের রোদে ভিতরে বসিয়ে ম্যাজিক দেখান। পরে যাদু বিদ্যার বই ক্রয়ের জন্য প্রলুব্ধ করেন এবং পরবর্তী দিনে বাসা থেকে ৪০ টাকা করে এনে স্কুলে জমা করতে নির্দেশ দেন।

 

অভিভাবকরা আরো জানান, শিক্ষকদের কথা মত শিক্ষার্থীরা টাকা জমা দিলেও আজকে পর্যন্ত সকল শিক্ষার্থী বই পাইনি। না প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী অভিভাবক বলেন, “আমরা দরিদ্র মানুষ, মন চাইলেই বাড়তি খরচ করতে পারি না, গত বৃহস্পতিবার আমার বাচ্চা বাড়িতে এসে কান্না করছে। বলেছে স্যার ম্যাজিক বই কেনার টাকা নিয়ে স্কুলে যেতে বলেছে, আমি ধার করে টাকা দিয়েছি, তবে এখনো বাচ্চাকে স্কুল থেকে বই দেয়নি।”

 

বিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীর অভিভাবক মোঃ বাসার হোসেন জানান, প্রধান শিক্ষক মাহাবুব মুন্সীর স্ত্রী সহকারী শিক্ষক রুকসানা আক্তার লিরা পরিচালিত রাইজ এডুকেশন কেয়ার নামের একটি কোচিং এ শিক্ষার্থীদের পড়তে বাধ্য করতেন। তার কোচিং এ না পড়লে বাচ্চাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার সহ ক্লাসে ফেল করানোর ভয় দেখানো হতো। এই অনিয়ম অব্যবস্থাপনা দেখে আমার বাচ্চাকে অনির্বাণ স্কুলে ভর্তি করি। শুনেছি, ওই সহকারী শিক্ষক এখনো শিক্ষার্থীদের তার পরিচালিত কোচিং এ ভর্তি করতে বাধ্য করছে।

 

অভিভাবকদের এসব অভিযোগের সূত্র ধরে এস.এম. মডেল সঃ প্রঃ বিঃ ও রাইজ এডুকেশন কেয়ার কোচিং এ সরেজমিন পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। কোচিং টিতে প্রধান শিক্ষক মাহাবুব মুন্সীর স্ত্রী সহকারী শিক্ষক রুকসানা আক্তার লিরাকে মডেল স্কুলের শিক্ষার্থীদের পড়াতে ও কোচিং পরিচালনা করতে দেখা গেছে। এছাড়াও বিদ্যালয়ের একটি গোপন সূত্রে জানা গেছে, প্রধান শিক্ষক মাহাবুব মুন্সী গত ২০২৪ শিক্ষা বর্ষ এবং বর্তমান ২০২৫ শিক্ষা বর্ষে ১০ হাজার টাকা করে ঘুষ নিয়ে বেশ কয়েকটি শিক্ষার্থী ভর্তি করেছে।

 

এ সকল অভিযোগের বিষয়ে প্রধান শিক্ষক মাহাবুব মুন্সী বলেন, “আমরা যাদু বিদ্যা (ম্যাজিক) বই কেনার জন্য কোন শিক্ষার্থীকে চাপ দেয়নি। আগ্রহী শিক্ষার্থীরা নিজের ইচ্ছায় বই কিনেছে।”

 

এ বিষয়ে সহকারী শিক্ষা অফিসার পলাশ সর্দার জানান, “এ ধরনের কোন ম্যাজিক বই শিক্ষার্থীদের কিনতে বাধ্য করার সুযোগ নেই। যদি বিদ্যালয়টির শিক্ষকদের দ্বারা এমন অপরাধমূলক কাজ হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”


প্রিন্ট