1. somoyerprotyasha@gmail.com : A.S.M. Murshid :
  2. letusikder@gmail.com : Litu Sikder : Litu Sikder
  3. mokterreporter@gmail.com : Mokter Hossain : Mokter Hossain
  4. tussharpress@gmail.com : Tusshar Bhattacharjee : Tusshar Bhattacharjee
মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুর; ভাতা পান মাহাবুর! - দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা ডটকম
সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ০৮:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
চরভদ্রাসনে শীতার্তদের মাঝে উপজেলা প্রশাসনের কম্বল বিতরন অব্যাহত নাট্যালোকের উদ্যোগে পাংশায় ইঞ্জিনিয়ার একেএম রফিক উদ্দিনকে সাহিত্যিক এয়াকুব আলী চৌধুরী স্মৃতি সম্মাননা পদক প্রদান মাগুরায় সমবায় সংগঠনের দিনব্যাপী ভ্রাম্যমাণ প্রশিক্ষণের আয়োজন  সকালেই চাঁপাইয়ে ঝরলো ৫ প্রাণ বোয়ালমারীতে শতাধিক শীতার্ত মানুষ পেল কম্বল কুষ্টিয়ায় ১৭ ইটভাটা মালিককে ৪২ লাখ টাকা জরিমানা ফরিদপুর কারিগরি প্রশিক্ষনকেন্দ্রে সনদপত্র বিতরন সদরপুরে ঘণ কুয়াশা ও দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় জনজীবন বির্পযস্থ ফরিদপুরের বিরোধপূর্ণ জমিতের আদালতের আদেশ উপেক্ষিত আলফাডাঙ্গায় গ্রাহকের টাকা প্রতারণা করায় ডাচ-বাংলার ‘রকেট’ এজেন্ট গ্রেপ্তার

মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুর; ভাতা পান মাহাবুর!

লিংকন সরদার, কাশিয়ানী (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২২ জুন, ২০২১
  • ৫৫ বার পঠিত
-বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুর রহমান।

প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা শাহাবুর রহমান। কিন্তু নামের বানান ‘শ’ এর স্থলে ভুলে ‘ম’ হওয়ার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অবৈধভাবে ভাতা ভোগ করছেন শাহাবুর রহমানের আপন বড় ভাই মাহাবুর রহমানের পরিবার। এমন ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল ইউনিয়নের পাথরঘাটা গ্রামে।

তবে দুই ভাইয়ের কেউ জীবিত নেই। শাহাবুর দেশের জন্য জীবন বাজি রেখে একাত্তরে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করলেও স্ত্রী ও সন্তানরা দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন স্বীকৃতির দাবিতে। এ ঘটনায় স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা গেছে, উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের শাহাবুর রহমান ১৯৬৯ সালে তৎকালীন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর চাকরিতে যোগদান করেন। ৭১ সালে পাকিস্তানের করাচি থেকে পূর্বপাকিস্তানে ছুটিতে এসে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। যুদ্ধ শেষে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দেন তিনি। ১৯৭৪ সালে সেনাবাহিনী থেকে চাকরি ছেড়ে পালিয়ে আসেন।

সেনা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অর্ন্তভূক্তির জন্য ১৯৯৯ সালে ঘাটাইল সেনানিবাস থেকে তাঁকে পরপর তিনটি চিঠি পাঠানো হয়। এরই মধ্যে তাঁর নাম সেনাবাহিনী উল্লেখ করে লাল মুক্তিবার্তার তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়। যার গেজেট নম্বর ৩২৩৯, মুক্তিবার্তা লাল বই নম্বর ০১০৯০৪০৭৭৬, সনদ নম্বর ম ১৭৯৬২২।

কিন্তু মুক্তিবার্তায় শাহাবুর রহমানের স্থলে একটি আক্ষরিক ভুল মাহাবুর রহমান লেখা হয়। এ সুযোগকে কাজে লাগিয়ে শাহাবুরের বড় ভাই শেখ মাহাবুবুর রহমান ২০১০ সালে নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেন। এ অবস্থায় গেজেট সংশোধনের জন্য মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দু’দফা আবেদন করেন শাহাবুর রহমান।

আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০১০ সালে মন্ত্রণালয় থেকে তদন্তের নির্দেশ দেন কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে। ওই তদন্ত প্রতিবেদনের আলোকে গেজেট সংশোধন হয়ে মাহাবুর রহমানের স্থানে শাহাবুর লিপিবদ্ধ হয়ে গেজেট প্রকাশিত হয়।

পরবর্তীতে ২০১৭ সালে মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছায়ের সময় তৎকালীন ইউনিয়ন কমান্ডার মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেন। ঘুষ না দেওয়ায় শাহাবুর রহমানের পরিবর্তে মাহাবুর রহমানের নাম তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করেন। এরপর থেকে শেখ মাহাবুর রহমানের নামে ভাতা চালু হলেও শাহাবুরের ভাতা বন্ধ হয়ে যায়।

পুনরায় শাহাবুর রহমানের ছেলে নাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে কাশিয়ানী ইউএনওর নির্দেশে সহকারী কমিশনার (ভূমি) উভয়পক্ষের উপস্থিতিতে সাক্ষী গণের সাক্ষ্য ও সরেজমিনে তদন্তপূর্বক শাহাবুর রহমানের স্বপক্ষে প্রতিবেদন দাখিল করেন।

এদিকে, মাহাবুর রহমানের মুক্তিবার্তা লাল বইয়ে শেখ মাহবুর রহমান সেনাবাহিনী লেখা। কিন্তু তিনি কখনোই সেনাবাহিনীতে চাকরি করেননি। তিনি যুদ্ধকালীন সময়ে পুলিশ বাহিনীতে চাকরিরত ছিলেন। শাহাবুর রহমানের ৩৫ বছর চাকরি জীবনে তিনি কখন নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা দাবি করেননি। তার সার্ভিস বুকে কোথাও লেখা নেই তিনি যুদ্ধ করেছেন। এছাড়া তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও পুলিশে তার নাম শেখ মো. মাহাবুবুর রহমান লেখা রয়েছে।

কিন্তু তিনি শেখ মাহবুর রহমান (সেনাবাহিনী) নামে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পাচ্ছেন। যুদ্ধ না করেও তার নামে কিভাবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা হয়? এমনটাই প্রশ্ন এলাকার সাধারণ মানুষের। যুদ্ধকালীন কমান্ডার বীরমুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিস আলী মিয়া বলেন, ‘শাহাবুর রহমান ১৯৭১ সালে ফুকরা এলাকায় আমার অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছেন। আমি তাঁর যুদ্ধাকালীন কমান্ডার ছিলাম।’

মাহাবুবুর রহমানের স্ত্রী রেবেকা মাহাবুব বলেন, ‘আমার স্বামী পুলিশে চাকরি করতেন। তবে আমার স্বামীর নাম মুক্তিবার্তায় সঠিকভাবে অন্তর্ভূক্ত হয়েছে।’ কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রথীন্দ্রনাথ রায় বলেন, ‘এমন ঘটনা ঘটে থাকলে তা খুবই দুঃখজনক। এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

 

 

Copyright August, 2020-2022 @ somoyerprotyasha.com
Website Hosted by: Bdwebs.com
themesbazarsomoyerpr1
error: Content is protected !!