মাগুরার মহম্মদপুরের শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামটি সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটুপানি জমে খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। মাঠের রক্ষণাবেক্ষণে কর্তৃপক্ষের কোনো দৃষ্টি নেই। নালা (ড্রেনেজ) ব্যবস্থা না থাকায় অল্প বৃষ্টিতেই অথৈই পানিতে তলিয়ে থাকে মাঠ। মাঠটি এখন রাজহাঁসের বিচরণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। স্টেডিয়ামে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় নিয়মিত খেলা, অনুশীলন ও প্রশিক্ষণ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন খেলোয়াড়রা। এ নিয়ে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে উদীয়মান খেলোয়াড়, ফুটবল ও ক্রিকেট অনুরাগী মানুষের মধ্যে।
কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব গোল্ডকাপ অনূর্ধ্ব-১৭ ও বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব গোল্ডকাপ (মহিলা) অনূর্ধ্ব-১৭ খেলাটি স্থানান্তর করে আমিনুর রহমান কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়েছে।মহম্মদপুর উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সংশ্নিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চলতি অর্থবছরে স্টেডিয়ামটিকে খেলার উপযোগী করতে কয়েক দফা সংস্কার করা হয়েছে, কিন্তু নালা ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। তবে স্থানীয় সাবেক ফুটবলারদের দাবি, বারবার মাঠ সংস্কার না করে স্থায়ীভাবে নালা ব্যবস্থা না করলে স্টেডিয়ামটি কখনোই খেলার উপযোগী হবে না। মাঠের এই দুরবস্থার জন্য সংশ্নিষ্টদের গাফিলতি ও উদাসীনতা রয়েছে বলে অভিযোগ আছে।
খেলাধুলার প্রতি ছাত্রছাত্রীদের মনোযোগ বৃদ্ধি করতে ১৯৬৭ সালে উপজেলা সদরের আরএসকেএইচ ইনস্টিটিউশন স্থানীয় লোকজনের সহযোগিতায় এই ফুটবল মাঠটি নির্মাণ করেন। এই মাঠে ফুটবল অনুশীলন করে মহম্মদপুর উপজেলার অনেক খেলোয়াড় জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। বিভিন্ন সময়ে আবাহনী- মোহামেডানসহ বেশ কয়টি জাতীয় দল এই মাঠে লাখো দর্শকের উপস্থিতিতে ফুটবল খেলেছে। যে কারণে সব সময় মহম্মদপুরকে ফুটবলে সমৃদ্ধ বলা হয়। এই মাঠে অনুশীলন করেন জিল্লুর রহমান লাজুক, রহমত ও রয়েল ফুটবলের জাতীয় দলে খেলার সুযোগ পেয়েছেন। তাদের মধ্যে রহমত ও রয়েল বিশ্বকাপ বাছাই পর্বে এখন দেশের বাইরে খেলছেন।
এ ছাড়া এ মাঠে বাংলাদেশ ফেডারেশন, স্থানীয় লীগ এবং স্কুল ও কলেজ পর্যায়ের উপজেলা লিগের সব ক’টি খেলা এ মাঠে অনুষ্ঠিত হয়। বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠান এবং সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন মেলা এই মাঠে হয়ে থাকে। বর্তমানে মাঠের এমন অবস্থার জন্য অনুশীলন করতে না পারায় নতুন খেলোয়াড় তৈরিতে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে বলে কয়েকজন সাবেক ফুটবলার জানিয়েছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় উপজেলা ক্রীড়া সংস্থাকে দায়ী করেছেন ফুটবলপ্রেমীরা।
২০১৭ সালে এই ফুটবল মাঠটিকে এক কোটি ৫৯ লাখ টাকা ব্যয়ে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে উন্নীত করা হয়। মহম্মদপুর উপজেলার মানুষ ফুটবলপ্রিয় হওয়ায় এক সময় প্রায় প্রতিদিনই প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল খেলা এই মাঠে অনুষ্ঠিত হতো। তাই সময়ের বিবর্তনে এই খেলাকে ঘিরে বিভিন্ন সংগঠন গড়ে ওঠে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য আছাদুজ্জামান ফুটবল একাডেমি, খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতি, সূর্য সংঘ, একতা ক্লাব, বিপ্লব সংঘ ও স্পোর্টস একাডেমি।
সরেজমিন গতকাল শনিবার সকালে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম পরিদর্শনে দেখা গেছে, বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে অথৈই পানি। মাঠটিতে সাঁতার কাটছে রাজহাঁস। স্টেডিয়ামের পূর্বপাশে বালিকা বিদ্যালয়ের সীমানা, পশ্চিমে পোস্ট অফিসের সীমানা প্রাচীরে ঘেরা, দক্ষিণে বেড়িবাঁধ ও জেলা পরিষদ ডাকবাংলো, উত্তরে থানা সড়ক এবং মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানা প্রাচীরে ঘেরা। মাঝখানে খেলার মাঠটির অবস্থান। বৃষ্টি নামলে মাঠের পানি বের হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।
মহম্মদপুর আছাদুজ্জামান ফুটবল একাডেমির ক্যাপ্টেন মেহেদী হাসান সুজন বলেন, কয়েকদিনের বৃষ্টিতে মাঠে পানি জমে যাওয়ায় অনুশীলন বন্ধ রয়েছে।
সাবেক খেলোয়াড় ও উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাবেক সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান কাবুল বলেন, অযোগ্যরা ক্রীড়া সংস্থা দখল করে নেওয়ায় মাঠের দিকে কারো খেয়াল নেই।
মহম্মদপুর খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির সভাপতি ঈদুল শেখ বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামটি ক্রমাগত নষ্ট হয়ে যাওয়ায় খেলার মানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান মিলন বলেন, স্টেডিয়ামটির দুরবস্থা শুনে মাগুরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার ইঞ্জিনিয়ার এসে মাঠটি পরিদর্শন করে পানি নিস্কাশনের জন্য দ্রুত নালা ব্যবস্থা ও সংস্কারের জন্য আশস্ত করে গেছেন।
উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার আহ্বায়ক ইউএনও রামানন্দ পাল বলেন, শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামটির দুরবস্থা আমি দেখেছি। এ বিষয়ে স্থানীয় এমপি মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে মাঠটি দ্রুত সংস্কার করে খেলাধুলার উপযোগী করা হবে।
মাগুরা-২ আসনের সংসদ সদস্য ড. বীরেন শিকদার বলেন, মাঠটিতে পানি জমে থাকার বিষয়টি আমার কানে এসেছে। শিগগিরই নালা ব্যবস্থা ও মাটি ভরাটের কাজ করে সংস্কার করা হবে।
প্রিন্ট