ঢাকা , শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪, ২৮ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান Logo কোটা আন্দোলন : শিবগঞ্জে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ-সমাবেশ Logo মাগুরায় চাকরির প্রলোভনে টাকা হাতিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই মামলার অভিযোগ Logo খোকসায় উপজেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদ মেধাবী শিক্ষার্থী মারিয়াকে সংবর্ধনা প্রদান Logo চাঁপাইনবাবগঞ্জে বজ্রপাতে দুই কৃষক নিহত Logo কালুখালীতে ফুটবল টুর্ণামেন্টের ফাইনাল খেলা Logo ১২০ কেজি অবৈধ পলিথিন জব্দ, ১২ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমান আদালত Logo তানোরে সড়ক দূর্ঘটনায় শোডাউনের এক মাইক্রোবাস চালক নিহত Logo যৌতুকের দাবিতে কলেজছাত্রীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ Logo সদরপুরে ৪ কেজি গাঁজা সহ ব্যবসায়ী কে আটক করেছে ডি বি পুলিশ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

কুষ্টিয়ায় ভুয়া লে. কর্নেল প্রতারক সবুর ও লিমা এখন কারাগারে

ভুয়া লে. কর্নেল পরিচয়ে এতিমের সংসার ভেঙে, কাবিনের সাড়ে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক দম্পতি সবুর ও লিমা এখন কারাগারে।  আজ সােমবার কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি অন্তে তাদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিয়ে করা এবং এতিমের সাথে প্রতারণামূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে দেনমোহরের টাকা আত্মসাৎ, মারপিট ও ভীতি প্রদর্শন অপরাধে ভুয়া লে. কর্নেল আব্দুর সবুর (৪৫) ও তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার লিমা (৪০)’র বিরুদ্ধে এক ভুক্তভোগী মামলা করেছে।

বুধবার (২৬ জুন) কুষ্টিয়া মডেল থানায়  এই মামলাটি করেন ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী কলেজছাত্রী ও এতিম কন্যা ইশরাত জাহান প্রকৃতি (২৪) । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১ নং আসামি দৌলতপুর উপজেলার পূর্ব ফিলিপনগর গোয়ালবাড়ি এলাকার আত্তার উদ্দিনের (পেয়ারা) ছেলে আব্দুল সবুর সাদ্দাম (৪৫) ও ২নং আসামি তার স্ত্রী কুষ্টিয়া সদর থানার হাউজিং স্টেট ডি-৭১ ব্লকের রমজান আলির কন্যা (এডুকেয়ার স্কুলের শিক্ষিকা) নাসরিন আক্তার লিমা (৪০)’র বিরুদ্ধে কুমারগাড়া মধ্যপাড়ার মৃত রাশেদুল হাসানের কন্যা ইসরাত জাহান প্রকৃতি কুষ্টিয়া মডেল থানায় ধারা -৪১৯/৪২০/৪০৬/৩২৩/৫০৬ (২) দ্য পেনাল কোড ১৮৬০। মিথ্যা পরিচয় দিয়া বিবাহ করা এবং প্রতারণামূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করিয়া দেনমোহরের টাকা আত্মসাৎ ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ করেছে।

আত্মসাৎকৃত টাকা পরিমাণ ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মামলা করেন ভুক্তভোগী পরিবার। এজাহারে ইসরাত জাহান প্রকৃতি উল্লেখ করেন, আমার পিতা ২০০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। আমি কুষ্টিয়া গড়াই মহিলা কলেজ হইতে ২০২১ সালে এইচএসসি পাশ করি। আমি আমার মা ও সৎ পিতার সহ কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন সাদ্দাম বাজার (টুরিস্ট পুলিশ ভবনের) সামনে জনৈক দেলোয়ার হোসেনের ভাড়া বাসায় বসবাস করি। আমাকে বিবাহ দেওয়ার জন্য আমার মা বিভিন্ন আত্মীয় স্বজন ও ঘটকের মাধ্যমে ছেলে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে আমার প্রবাসী ভাই সনি বিশ্বাস জানান, ২নং আসামি নাসরিন আক্তার লিমা’র কাছে একটি ভালো ছেলের খোঁজ আছে।

পরবর্তীতে ২নং আসামি তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৭৬৪৯৬২৫২৫ হইতে আমার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৯৩১৫৫৫০৩৪ এ কল করিয়া বলে, আমার সাথে দেখা করো। ২০২৪ সালের মার্চ মাসের ১৫ তারিখে বিকাল আনুমানিক ৪টার সময় কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন মজমপুর পৌরসভা গেটের সামনে ২নং আসামির সাথে দেখা হয়। এই সময় ২নং আসামি আমাকে বলে, ঢাকা জেলার উত্তরা পূর্ব থানার বাসা নং -০৯,  রোড নং ১৪/বি, সেক্টর নং ০৪, ফ্ল্যাট নং ০৫ /এ নিবাসী মিজানুর রহমানের ছেলে  ওয়ালীউল রহমান খান (৩২) নামে একজন ব্যারিস্টার পাশ করেছে এবং সে তার পিতার সাথে যৌথভাবে অটোমোবাইল গাড়ি আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের এমডি হিসাবে চাকরি করেন এবং ২নং আসামি পরিচয় দেন সে একজন লেফটেনেন্ট কর্নেলের স্ত্রী। এরপর ২৪ সালের মে মাসে ১২ তারিখে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ১৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করে ওয়ালিউল রহমান খানের সাথে বিবাহ হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি আমার স্বামী ওয়ালিউর রহমান একজন ৫ বছর পূর্বে বিবাহিত সংসার ছিল তার। বিষয়টি ২নং আসামি আমার কাছে গোপন করেছে। তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করে। ১নং ও ২নং আসামি আগে থেকে জানতো আমার স্বামী বিবাহিতা। ২নং আসামি কোন কর্নেলের স্ত্রী নয়। ছেলে পক্ষের কাছে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তারা এ তথ্য আমার কাছে গোপন করে।

পরবর্তীতে আমি এই বিষয়টি ২নং আসামিকে জানালে সে আমাকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদান করে এবং এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করিলে আমার নামে মিথ্যা মামলা করবে বলে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে আমার স্বামী ওয়ালিউর রহমান আমাকে খোলা তালাক প্রদান করে। তালাকের পর দেনমোহর বাবদ নগদ ১০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ৫ লক্ষ টাকা এটি চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১নং ও ২নং আসামি আমাকে মামলার ভয়-ভীতি দেখিয়ে আমার দেনমোহরের গচ্ছিত টাকা হইতে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রতারণা করে নিয়ে যায় লিমা ও সবুর। পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণামূলক এবং বিশ্বাস ভঙ্গ করে আমার নিকট থেকে দেনমোহরের ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। টাকা প্রতারণা করে নেওয়ার পরেও বিভিন্ন লোককে শারীরিক ভাবে মনোরঞ্জন করতে হবে বলে কুপ্রস্তাব দেয় প্রতারক সবুর। আমি তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে ২নং আসামি আমাকে কিল, ঘুসি মারে। এ ঘটনায় থানা পুলিশকে অবগত করলে জানে মেরে ফেলবো এবং তোর পরিবারের লোকজনের বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে ভয়ভীতি দেখায়।

ঘটনার বিবরণে আরও জানা যায়, এই আব্দুর সবুরের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার ঘটনার বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। ইতিপূর্বে সবুর বিভিন্ন মামলায় র‌্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে এবং জেল হাজতও খেটেছে। প্রতারণায় আরও ভুক্তভোগী পরিবার মামলার প্রস্তুতি চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, আব্দুর সবুর সাদ্দাম ও তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার লিমার নামে প্রতারণার অভিযোগে ইসরাত জাহান প্রকৃতি নামে একজন ভুক্তভোগী থানায় এজহার দিয়েছে। যার মামলা নম্বর ৩০, তারিখ ২৬/৬/২০২৪। ধারা ৪১৯/৪২০/৪০৬/৩২৩/৫০৬ (২) পেনাল কোড রুজু হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই প্রতারক দম্পতিকে গ্রেফতারের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে।

 

আজ ৩০ জুন রবিবার কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন নিতে এলে বিজ্ঞ আদালত এই প্রতারক দম্পতির জামিন আবেদন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

ফরিদপুর জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়ায় ভুয়া লে. কর্নেল প্রতারক সবুর ও লিমা এখন কারাগারে

আপডেট টাইম : ০৬:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪

ভুয়া লে. কর্নেল পরিচয়ে এতিমের সংসার ভেঙে, কাবিনের সাড়ে ৭ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া প্রতারক দম্পতি সবুর ও লিমা এখন কারাগারে।  আজ সােমবার কুষ্টিয়ার সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন আবেদন করলে বিজ্ঞ আদালত দীর্ঘ শুনানি অন্তে তাদের জামিন না দিয়ে কারাগারে পাঠিয়েছেন।

উল্লেখ্য যে, মিথ্যা পরিচয় দিয়ে বিয়ে করা এবং এতিমের সাথে প্রতারণামূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করে দেনমোহরের টাকা আত্মসাৎ, মারপিট ও ভীতি প্রদর্শন অপরাধে ভুয়া লে. কর্নেল আব্দুর সবুর (৪৫) ও তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার লিমা (৪০)’র বিরুদ্ধে এক ভুক্তভোগী মামলা করেছে।

বুধবার (২৬ জুন) কুষ্টিয়া মডেল থানায়  এই মামলাটি করেন ভুক্তভোগী ও মামলার বাদী কলেজছাত্রী ও এতিম কন্যা ইশরাত জাহান প্রকৃতি (২৪) । বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ১ নং আসামি দৌলতপুর উপজেলার পূর্ব ফিলিপনগর গোয়ালবাড়ি এলাকার আত্তার উদ্দিনের (পেয়ারা) ছেলে আব্দুল সবুর সাদ্দাম (৪৫) ও ২নং আসামি তার স্ত্রী কুষ্টিয়া সদর থানার হাউজিং স্টেট ডি-৭১ ব্লকের রমজান আলির কন্যা (এডুকেয়ার স্কুলের শিক্ষিকা) নাসরিন আক্তার লিমা (৪০)’র বিরুদ্ধে কুমারগাড়া মধ্যপাড়ার মৃত রাশেদুল হাসানের কন্যা ইসরাত জাহান প্রকৃতি কুষ্টিয়া মডেল থানায় ধারা -৪১৯/৪২০/৪০৬/৩২৩/৫০৬ (২) দ্য পেনাল কোড ১৮৬০। মিথ্যা পরিচয় দিয়া বিবাহ করা এবং প্রতারণামূলক বিশ্বাস ভঙ্গ করিয়া দেনমোহরের টাকা আত্মসাৎ ও ভয়-ভীতি প্রদর্শনের অপরাধ করেছে।

আত্মসাৎকৃত টাকা পরিমাণ ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার মামলা করেন ভুক্তভোগী পরিবার। এজাহারে ইসরাত জাহান প্রকৃতি উল্লেখ করেন, আমার পিতা ২০০৬ সালে মৃত্যুবরণ করেন। আমি কুষ্টিয়া গড়াই মহিলা কলেজ হইতে ২০২১ সালে এইচএসসি পাশ করি। আমি আমার মা ও সৎ পিতার সহ কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন সাদ্দাম বাজার (টুরিস্ট পুলিশ ভবনের) সামনে জনৈক দেলোয়ার হোসেনের ভাড়া বাসায় বসবাস করি। আমাকে বিবাহ দেওয়ার জন্য আমার মা বিভিন্ন আত্মীয় স্বজন ও ঘটকের মাধ্যমে ছেলে খুঁজতে থাকেন। এক পর্যায়ে আমার প্রবাসী ভাই সনি বিশ্বাস জানান, ২নং আসামি নাসরিন আক্তার লিমা’র কাছে একটি ভালো ছেলের খোঁজ আছে।

পরবর্তীতে ২নং আসামি তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৭৬৪৯৬২৫২৫ হইতে আমার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ০১৯৩১৫৫৫০৩৪ এ কল করিয়া বলে, আমার সাথে দেখা করো। ২০২৪ সালের মার্চ মাসের ১৫ তারিখে বিকাল আনুমানিক ৪টার সময় কুষ্টিয়া মডেল থানাধীন মজমপুর পৌরসভা গেটের সামনে ২নং আসামির সাথে দেখা হয়। এই সময় ২নং আসামি আমাকে বলে, ঢাকা জেলার উত্তরা পূর্ব থানার বাসা নং -০৯,  রোড নং ১৪/বি, সেক্টর নং ০৪, ফ্ল্যাট নং ০৫ /এ নিবাসী মিজানুর রহমানের ছেলে  ওয়ালীউল রহমান খান (৩২) নামে একজন ব্যারিস্টার পাশ করেছে এবং সে তার পিতার সাথে যৌথভাবে অটোমোবাইল গাড়ি আমদানীকারক প্রতিষ্ঠানের এমডি হিসাবে চাকরি করেন এবং ২নং আসামি পরিচয় দেন সে একজন লেফটেনেন্ট কর্নেলের স্ত্রী। এরপর ২৪ সালের মে মাসে ১২ তারিখে ইসলামি শরিয়াহ মোতাবেক ১৫ লক্ষ টাকা দেনমোহর ধার্য করে ওয়ালিউল রহমান খানের সাথে বিবাহ হয়। কিন্তু পরবর্তীতে জানতে পারি আমার স্বামী ওয়ালিউর রহমান একজন ৫ বছর পূর্বে বিবাহিত সংসার ছিল তার। বিষয়টি ২নং আসামি আমার কাছে গোপন করেছে। তার স্ত্রীকে তালাক প্রদান করে। ১নং ও ২নং আসামি আগে থেকে জানতো আমার স্বামী বিবাহিতা। ২নং আসামি কোন কর্নেলের স্ত্রী নয়। ছেলে পক্ষের কাছে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে তারা এ তথ্য আমার কাছে গোপন করে।

পরবর্তীতে আমি এই বিষয়টি ২নং আসামিকে জানালে সে আমাকে বিভিন্ন ভয়-ভীতি প্রদান করে এবং এ বিষয় নিয়ে বাড়াবাড়ি করিলে আমার নামে মিথ্যা মামলা করবে বলে হুমকি দেয়। পরবর্তীতে আমার স্বামী ওয়ালিউর রহমান আমাকে খোলা তালাক প্রদান করে। তালাকের পর দেনমোহর বাবদ নগদ ১০ লক্ষ টাকা নগদ এবং ৫ লক্ষ টাকা এটি চেক প্রদান করেন। পরবর্তীতে ১নং ও ২নং আসামি আমাকে মামলার ভয়-ভীতি দেখিয়ে আমার দেনমোহরের গচ্ছিত টাকা হইতে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা প্রতারণা করে নিয়ে যায় লিমা ও সবুর। পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণামূলক এবং বিশ্বাস ভঙ্গ করে আমার নিকট থেকে দেনমোহরের ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাৎ করে। টাকা প্রতারণা করে নেওয়ার পরেও বিভিন্ন লোককে শারীরিক ভাবে মনোরঞ্জন করতে হবে বলে কুপ্রস্তাব দেয় প্রতারক সবুর। আমি তাদের কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে ২নং আসামি আমাকে কিল, ঘুসি মারে। এ ঘটনায় থানা পুলিশকে অবগত করলে জানে মেরে ফেলবো এবং তোর পরিবারের লোকজনের বড় ধরনের ক্ষতি করবে বলে ভয়ভীতি দেখায়।

ঘটনার বিবরণে আরও জানা যায়, এই আব্দুর সবুরের বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার ঘটনার বিভিন্ন থানায় মামলা রয়েছে। ইতিপূর্বে সবুর বিভিন্ন মামলায় র‌্যাব ও পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে এবং জেল হাজতও খেটেছে। প্রতারণায় আরও ভুক্তভোগী পরিবার মামলার প্রস্তুতি চালাচ্ছে।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, আব্দুর সবুর সাদ্দাম ও তার স্ত্রী নাসরিন আক্তার লিমার নামে প্রতারণার অভিযোগে ইসরাত জাহান প্রকৃতি নামে একজন ভুক্তভোগী থানায় এজহার দিয়েছে। যার মামলা নম্বর ৩০, তারিখ ২৬/৬/২০২৪। ধারা ৪১৯/৪২০/৪০৬/৩২৩/৫০৬ (২) পেনাল কোড রুজু হয়েছে। তাকে গ্রেফতারের জন্য একাধিক আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এই প্রতারক দম্পতিকে গ্রেফতারের জন্য দেশের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে।

 

আজ ৩০ জুন রবিবার কুষ্টিয়ার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে জামিন নিতে এলে বিজ্ঞ আদালত এই প্রতারক দম্পতির জামিন আবেদন বাতিল করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।