ঢাকা , শুক্রবার, ১৪ জুন ২০২৪, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

নাটোরের লালপুরে সাবেক এমপি শহীদ মমতাজ উদ্দিনের ২১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন

নাটোরের লালপুরে জনপ্রিয় বর্ষীয়ান আ.লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ মমতাজ উদ্দিনের ২১ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে সকালে শহীদ মমতাজ উদ্দিন চিরঞ্জীব শহীদ মমতাজ উদ্দিন স্মৃতি সৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ মমতাজ উদ্দিন ও সাবেক নারী সংসদ সদস্য শেফালী মমতাজ এর সন্তান, লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ শামীম আহমেদ সাগর, সহ-সভাপতি আসম মাহামুদুল হক মুকুল, বদিউর রহমান বদর, গোলাম মোর্শেদ, ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নূরে আলম সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম বাঘা, ইলিয়াস হোসেন, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রমজান আলী, প্রভাষক সাইফুল ইসলাম, ইউসুফ হোসেন, সদস্য আলতাফ হোসেন কুটি, আবুল কালাম, আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিন্টু, মোঃ গোলাম মোস্তফা, দুয়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম লাভলু, কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছারুল ইসলাম, এবি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আসলাম হোসেন, সন্মানিত সদস্য, ইব্রাহিম হোসেন মানিক, ইকবাল হোসেন, শ্রমিক লীগের সভাপতি  সাইদুর রহমান সহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে লালপুর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফুর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, গোপালপুর পৌর মেয়র রোকসানা মোর্তজা লিলি, লালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক পলাশ, চংধুপইল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম, অধ্যাপক মোঃ আমজাদ হোসেন আলাদা ভাবে স্মৃতি সৌধ প্রাঙ্গনে পুস্পস্তব অর্পন, উপজেলা অডিটোরিয়ামে মমতাজ উদ্দিন স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
উল্লেখ্য, লালপুরের ইতিহাসে ৬ জুন এক শোকের দিন। এই দিনটি লালপুরের মানুষের নিকট শোকাহত রক্তাক্ত ৬ জুন হিসেবে পরিচিত। ২০০৩ সালের ৬ জুন রাত ১০টার দিকে গোপালপুর থেকে নিজবাড়ি মিল্কিপাড়ায় ফিরার পথে গোপালপুর-সালামপুর সড়কের দাইঁড়পাড়া নামক এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ উদ্দিনকে কিছু দুস্কৃতিকারীরা কুপিয়ে হত্যা করে। তার এই অকাল মৃত্যুতে লালপুরের আ.লীগ নেতৃত্বশূণ্য হয়ে পড়ে। জনপ্রিয় এই বর্ষিয়ান নেতাকে হারিয়ে আ.লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে নেমে আসে এক অন্ধকারের ঘনঘটা। পরে ২০০৩ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শহীদ জননেতা মমতাজ উদ্দিনের স্মরণে করিমপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে এক স্মরণ সভা করেন। পরে যে স্থানে শহীদ মমতাজ উদ্দিন কে হত্যা করা হয় সেই স্থানে তার স্মৃতির স্মরণে চিরঞ্জিব শহীদ মমতাজ উদ্দিন নামে একটি স্মরণ সৌধ তৈরী করা হয়।
তৎকালীন ২০০৪ সালের ৬ জুন বাংলাদেশ আ.লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল স্মরণ সৌধটি উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে প্রতিবছর ৬ জুুন লালপুর-বাগাতিপাড়া উপজেলার আ.লীগ ও তার সহযোগি সংগঠন ও মমতাজ উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত, স্মরণ সভার মধ্য দিয়ে এই দিনটি পালন করে আসছে। মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০২৩ সালে মুক্তিযুদ্ধে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করে।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

নাটোরের লালপুরে সাবেক এমপি শহীদ মমতাজ উদ্দিনের ২১তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালন

আপডেট টাইম : ০৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ জুন ২০২৪
নাটোরের লালপুরে জনপ্রিয় বর্ষীয়ান আ.লীগ নেতা ও সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ মমতাজ উদ্দিনের ২১ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী পালিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ জুন) উপজেলা আওয়ামী লীগের আয়োজনে সকালে শহীদ মমতাজ উদ্দিন চিরঞ্জীব শহীদ মমতাজ উদ্দিন স্মৃতি সৌধে পুস্পস্তবক অর্পণ করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, সাবেক সংসদ সদস্য শহীদ মমতাজ উদ্দিন ও সাবেক নারী সংসদ সদস্য শেফালী মমতাজ এর সন্তান, লালপুর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান মোঃ শামীম আহমেদ সাগর, সহ-সভাপতি আসম মাহামুদুল হক মুকুল, বদিউর রহমান বদর, গোলাম মোর্শেদ, ওয়ালিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নূরে আলম সিদ্দিকী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলতাফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম বাঘা, ইলিয়াস হোসেন, উপ প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রমজান আলী, প্রভাষক সাইফুল ইসলাম, ইউসুফ হোসেন, সদস্য আলতাফ হোসেন কুটি, আবুল কালাম, আড়বাব ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোখলেছুর রহমান, সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিন্টু, মোঃ গোলাম মোস্তফা, দুয়ারিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নুরুল ইসলাম লাভলু, কদিমচিলান ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছারুল ইসলাম, এবি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ আসলাম হোসেন, সন্মানিত সদস্য, ইব্রাহিম হোসেন মানিক, ইকবাল হোসেন, শ্রমিক লীগের সভাপতি  সাইদুর রহমান সহ অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
অন্যদিকে লালপুর উপজেলা আ.লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফুর সভাপতিত্বে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, গোপালপুর পৌর মেয়র রোকসানা মোর্তজা লিলি, লালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু বক্কর সিদ্দিক পলাশ, চংধুপইল ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মোঃ রেজাউল করিম, অধ্যাপক মোঃ আমজাদ হোসেন আলাদা ভাবে স্মৃতি সৌধ প্রাঙ্গনে পুস্পস্তব অর্পন, উপজেলা অডিটোরিয়ামে মমতাজ উদ্দিন স্মরণ সভা ও মিলাদ মাহফিলসহ নানা কর্মসূচি পালন করে।
উল্লেখ্য, লালপুরের ইতিহাসে ৬ জুন এক শোকের দিন। এই দিনটি লালপুরের মানুষের নিকট শোকাহত রক্তাক্ত ৬ জুন হিসেবে পরিচিত। ২০০৩ সালের ৬ জুন রাত ১০টার দিকে গোপালপুর থেকে নিজবাড়ি মিল্কিপাড়ায় ফিরার পথে গোপালপুর-সালামপুর সড়কের দাইঁড়পাড়া নামক এলাকায় বীর মুক্তিযোদ্ধা নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মমতাজ উদ্দিনকে কিছু দুস্কৃতিকারীরা কুপিয়ে হত্যা করে। তার এই অকাল মৃত্যুতে লালপুরের আ.লীগ নেতৃত্বশূণ্য হয়ে পড়ে। জনপ্রিয় এই বর্ষিয়ান নেতাকে হারিয়ে আ.লীগ ও তার সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে নেমে আসে এক অন্ধকারের ঘনঘটা। পরে ২০০৩ সালের ৭ জুলাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা শহীদ জননেতা মমতাজ উদ্দিনের স্মরণে করিমপুর সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ে মাঠে এক স্মরণ সভা করেন। পরে যে স্থানে শহীদ মমতাজ উদ্দিন কে হত্যা করা হয় সেই স্থানে তার স্মৃতির স্মরণে চিরঞ্জিব শহীদ মমতাজ উদ্দিন নামে একটি স্মরণ সৌধ তৈরী করা হয়।
তৎকালীন ২০০৪ সালের ৬ জুন বাংলাদেশ আ.লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল জলিল স্মরণ সৌধটি উদ্বোধন করেন। এর পর থেকে প্রতিবছর ৬ জুুন লালপুর-বাগাতিপাড়া উপজেলার আ.লীগ ও তার সহযোগি সংগঠন ও মমতাজ উদ্দিনের পরিবারের পক্ষ থেকে পুস্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ মাহফিল, বিশেষ মোনাজাত, স্মরণ সভার মধ্য দিয়ে এই দিনটি পালন করে আসছে। মুক্তিযুদ্ধে অসাধারণ অবদানের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০২৩ সালে মুক্তিযুদ্ধে একুশে পদক (মরণোত্তর) প্রদান করে।