ঢাকা , বুধবার, ২২ মে ২০২৪, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পূর্বভাটদী মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বহাল রাখার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন Logo বিভিন্ন অভিযোগ এনে ভোট বর্জন করলেন চেয়ারম্যান প্রার্থী Logo সালথা ও নগরকান্দা উপজেলা নির্বাচনী কেন্দ্র পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার Logo ভোটার ২৪৮০, এক ঘণ্টায় ভোট পড়েছে ১২টি, একটি বুথে শূন্য ভোট Logo নিরবছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিতে বিদ্যুৎ বিভাগের অনলাইন কর্মশালা Logo প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগঃ শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্রের বড় ব্যবধানে জয়লাভ Logo আলিপুরে আরসিসি ড্রেন নির্মাণ প্রকল্পের উদ্বোধন করলেন পৌর মেয়র Logo কেন্দ্রে শুধু ভোটার নেই, অন্য সব ঠিক আছে Logo নাটোরে চেয়ারম্যান প্রার্থীর প্রধান সমন্বয়কারীকে হাতুড়িপেটার অভিযোগ Logo ভূরুঙ্গামারীতে স্মার্টফোন কিনে না দেওয়ায় মাদ্রাসা ছাত্রীর আত্মহত্যা
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

কুষ্টিয়া হাসপাতালে লাশ রেখে পালালেন শাশুড়ি-ননদ, স্বজনদের দাবি হত্যা

কুমারখালীতে এক গৃহবধূর লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছেন শাশুড়ি ও ননদ। থানা চত্বরে স্বজনদের আহাজারি। যৌতুক না পেয়ে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার পর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লাশ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে থানায় এনে রেখেছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূর নাম বিনা খাতুন (২২)। তিনি উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের মাঠপাড়া এলাকার আমিন হোসেনের স্ত্রী ও যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামের বিল্লাল শেখের মেয়ে। স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা না পেয়ে শাশুড়ি শিল্পী খাতুন (৪৫) ও ননদ মুক্তা খাতুন (২৫) মিলে ওই গৃহবধূকে মারধরের পর শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছেন। হত্যার পর হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে নন্দলালপুর গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেনের কলা ব্যবসায়ী ছেলে আমিনের সঙ্গে বিনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য বিনাকে মারধর করতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। মারধর সইতে না পেরে বিয়ের পর প্রায় এক বছর বাবার বাড়িতে থাকেন বিনা। এ নিয়ে একাধিকবার শালিসও হয়েছে। একপর্যায়ে এক ছেলে সন্তানের (৭ মাস) জন্ম হলে ২৫ হাজার টাকা যৌতুকসহ সন্তানটিকে নিয়ে গত শুক্রবার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে যান বিনা। এরপর আজ দুপুরে তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

বিকেলে কুমারখালী থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানার বারান্দায় একটি বেঞ্চে প্যাকেটে মোড়ানো একটি লাশ। থানার বাইরে স্বজনেরা আহাজারি করছেন। নিহত নারীর বাবা বিল্লাল শেখ বলেন, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও ননদ ১০ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেলের জন্য তার মেয়েকে নির্যাতন করতেন। তিনি গরিব মানুষ, টাকা দিতে পারেননি। মেয়ে নির্যাতন সইতে না পেরে প্রায় এক বছর তার বাড়িতেই ছিল। শুক্রবার ২৫ হাজার টাকা দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়েছিলেন। এরপরও শাশুড়ি ও ননদ মিলে হত্যা করে হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়েছেন। তিনি থানায় মামলা করবেন।

বিনার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড পাকা বাড়িতে সুনসান নীরবতা। দরজায় তালা ঝুলছে। দরজার পাশে ইটের দেয়াল একটুখানি ভাঙা। ঘরের ভেতরে ওড়নার কয়েক টুকরা কাটা অংশ পড়ে আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিবেশী বলেন, বেলা ১১টার দিকে গৃহবধূ বিনাকে বাড়ির বাইরে বসে কাঁদতে দেখেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে বিনা বলেন, ‘শাশুড়ি-ননদ মারধর করেছে।’ আরেক নারী জানান, দুপুরে ভ্যানে করে বিনাকে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যান শাশুড়ি ও ননদ। কিন্তু তারা আর ফিরে আসেননি।

কুমারখালী থানার উপ-পরিদর্শক দিবাকর হালদার বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি থানায় এনে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। তবে হাসপাতালে শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

পূর্বভাটদী মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন বহাল রাখার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

error: Content is protected !!

কুষ্টিয়া হাসপাতালে লাশ রেখে পালালেন শাশুড়ি-ননদ, স্বজনদের দাবি হত্যা

আপডেট টাইম : ১১:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ মে ২০২৪
কুমারখালীতে এক গৃহবধূর লাশ হাসপাতালে ফেলে পালিয়েছেন শাশুড়ি ও ননদ। থানা চত্বরে স্বজনদের আহাজারি। যৌতুক না পেয়ে এক গৃহবধূকে নির্যাতন করে হত্যার পর কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে লাশ ফেলে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে। আজ বুধবার বেলা দুইটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উদ্ধার করে থানায় এনে রেখেছে পুলিশ।

নিহত গৃহবধূর নাম বিনা খাতুন (২২)। তিনি উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের নন্দলালপুর গ্রামের মাঠপাড়া এলাকার আমিন হোসেনের স্ত্রী ও যদুবয়রা ইউনিয়নের উত্তর চাঁদপুর গ্রামের বিল্লাল শেখের মেয়ে। স্বজনদের অভিযোগ, যৌতুকের টাকা না পেয়ে শাশুড়ি শিল্পী খাতুন (৪৫) ও ননদ মুক্তা খাতুন (২৫) মিলে ওই গৃহবধূকে মারধরের পর শ্বাস রোধ করে হত্যা করেছেন। হত্যার পর হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই বছর আগে পারিবারিকভাবে নন্দলালপুর গ্রামের মোফাজ্জেল হোসেনের কলা ব্যবসায়ী ছেলে আমিনের সঙ্গে বিনা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে শ্বশুরবাড়ির লোকজন যৌতুকের জন্য বিনাকে মারধর করতে থাকেন বলে অভিযোগ ওঠে। মারধর সইতে না পেরে বিয়ের পর প্রায় এক বছর বাবার বাড়িতে থাকেন বিনা। এ নিয়ে একাধিকবার শালিসও হয়েছে। একপর্যায়ে এক ছেলে সন্তানের (৭ মাস) জন্ম হলে ২৫ হাজার টাকা যৌতুকসহ সন্তানটিকে নিয়ে গত শুক্রবার বাবার বাড়ি থেকে শ্বশুরবাড়িতে যান বিনা। এরপর আজ দুপুরে তাকে শ্বাস রোধ করে হত্যা করে শাশুড়ি ও ননদের বিরুদ্ধে হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে।

বিকেলে কুমারখালী থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানার বারান্দায় একটি বেঞ্চে প্যাকেটে মোড়ানো একটি লাশ। থানার বাইরে স্বজনেরা আহাজারি করছেন। নিহত নারীর বাবা বিল্লাল শেখ বলেন, বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি ও ননদ ১০ লাখ টাকা ও একটি মোটরসাইকেলের জন্য তার মেয়েকে নির্যাতন করতেন। তিনি গরিব মানুষ, টাকা দিতে পারেননি। মেয়ে নির্যাতন সইতে না পেরে প্রায় এক বছর তার বাড়িতেই ছিল। শুক্রবার ২৫ হাজার টাকা দিয়ে শ্বশুরবাড়িতে পাঠিয়েছিলেন। এরপরও শাশুড়ি ও ননদ মিলে হত্যা করে হাসপাতালে লাশ রেখে পালিয়েছেন। তিনি থানায় মামলা করবেন।

বিনার শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, টিনশেড পাকা বাড়িতে সুনসান নীরবতা। দরজায় তালা ঝুলছে। দরজার পাশে ইটের দেয়াল একটুখানি ভাঙা। ঘরের ভেতরে ওড়নার কয়েক টুকরা কাটা অংশ পড়ে আছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক প্রতিবেশী বলেন, বেলা ১১টার দিকে গৃহবধূ বিনাকে বাড়ির বাইরে বসে কাঁদতে দেখেন। কান্নার কারণ জিজ্ঞেস করলে বিনা বলেন, ‘শাশুড়ি-ননদ মারধর করেছে।’ আরেক নারী জানান, দুপুরে ভ্যানে করে বিনাকে হাসপাতালের দিকে নিয়ে যান শাশুড়ি ও ননদ। কিন্তু তারা আর ফিরে আসেননি।

কুমারখালী থানার উপ-পরিদর্শক দিবাকর হালদার বলেন, খবর পেয়ে হাসপাতাল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি থানায় এনে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। তবে হাসপাতালে শ্বশুরবাড়ির কাউকে পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।