ঢাকা , সোমবার, ২৭ মে ২০২৪, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ফরিদপুর সদর উপজেলার শিবরামপুর এলাকায় অনুমোদনহীন ভেজাল গুড় কারখানায় অভিযান Logo কুমারখালীতে ভোটের দিনে প্রতিপক্ষের হামলা, আহত ব্যাক্তির মৃত্যু Logo কুষ্টিয়ায় হাতের রগ কাটা যুবকের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার Logo ফরিদপুরে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ‌১২৫ তম জন্মবার্ষিকী পালিত Logo কুষ্টিয়ায় শ্যালকের বিয়েতে গিয়ে দুলাভাইয়ের কারাদণ্ড Logo তানোরে কনিষ্ঠ প্রার্থীর সর্ববৃহৎ জয়, রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য Logo যশোরে পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত Logo আমতলী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে জনপ্রিয়তায় এগিয়ে যুথী Logo হাতিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ওয়ালী উল্যাহর মৃত্যুতে স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত Logo সুন্দরবন, বেনাপুল ও চিত্রা বন্ধ ট্রেন চালুর দাবিতে ভেড়ামারায় মানববন্ধন
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

বন্ধাত্বসহ সর্বরোগের চিকিৎসা করেন

কালুখালীর প্রতারক কবিরাজ লাইলী

রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় এক প্রতারক কবিরাজের সন্ধান পাওয়া গেছে। কালুখালীর বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে ওই প্রতারক কবিরাজের আস্তানা। প্রতারক কবিরাজের নাম লাইলী বেগম। সে ভবানীপুরের মিরাজ আলীর স্ত্রী।

সপ্তাহের দু’দিন, শনি ও মঙ্গলবার কবিরাজ লাইলী রোগী দেখেন। রোগ ভেদে তাকে দিতে হয় চিকিৎসার ফি।বন্ধাত্ব, জ্বীনেধরা, বশিকরন, গ্যাস্টিক, আলসার, জাদু, বান, টোনা এসব চিকিৎসার জন্য লাইলী কবিরাজের ফি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। এছাড়া ১ কেজি সরিসার তেল, ১ কেজি চিনি, ১ টি মোড়গ, ২’শ গ্রাম জিরা, আধা কেজি মরিচ, আধা কেজি লবন, ২ কেজি দুধসহ ২৫ প্রকার উপকরন লাগে লাইলীর চিকিৎসা ব্যয়। এছাড়া গরু, ছাগল, ভেড়াও দিতে হয় ওরশের নামে। তবে লাইলী বেগমের এসব চিকিৎসায় কারো কোন উপকার হয় না। এটা এক ধরনের প্রতারনা।
কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘরিয়া থেকে আসা স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া সিমু। টিকটক করার অপরাধে তার নানী কুলসুম তাকে কবিরাজের কাছে আনে। কবিরাজ লাইলী বলেছে ওকে জ্বীনে ধরেছে। ৩ হাজার টাকা আর লাল মোড়গ দিলেই জ্বীন ছাড়িয়ে দিবো।
বালিয়াকান্দি উপজেলার আনন্দবাজার থেকে আসা ছকিনা জানায়, গ্যাষ্টিক চিকিৎসার জন্য কবিরাজ লাইলী বেগমকে ১৫ দিন আগে ২ হাজার টাকা দিয়েছি। রোগ ভালো হয়নি। টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।
চরচিলকা গ্রামের রুবিনা জানায়, বন্ধাত্ব ভালো করার জন্য কবিরাজ আমার ৫ হাজার টাকা নিয়েছে ৭ মাস আগে কিন্তু কাজ হয়নি।
কবিরাজী বিদ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে লাইলী বেগম জানায়, আমার কোন শক্তি নেই। জ্বীনে ভালো করে তাই ভালো হয়। অনেক ডিসি, এসপি, মিলিটারী আমার দরবারের চিকিৎসা নিতে আসে।
মানুষ প্রতারিত হলেও এই প্রতারনা চিকিৎসার অর্থদিয়ে লাইলী বেগম গড়ে তুলেছে একতলা ভবন। এ নিয়ে কেউ কিছু লেখালেখি করলে পুড়ে ছারখার হবে। গোখরা সাপে কামড় দিবে বলে সংবাদকর্মীদের ভয় দেখায় লাইলী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশরাত জাহান উম্মন জানান, এ ধরনের চিকিৎসা অবৈজ্ঞানিক। মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে কেউ এ ধরনের প্রতারনা করলে তা বন্ধ করতে হবে।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

ফরিদপুর সদর উপজেলার শিবরামপুর এলাকায় অনুমোদনহীন ভেজাল গুড় কারখানায় অভিযান

error: Content is protected !!

বন্ধাত্বসহ সর্বরোগের চিকিৎসা করেন

কালুখালীর প্রতারক কবিরাজ লাইলী

আপডেট টাইম : ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৪
রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলায় এক প্রতারক কবিরাজের সন্ধান পাওয়া গেছে। কালুখালীর বোয়ালিয়া ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে ওই প্রতারক কবিরাজের আস্তানা। প্রতারক কবিরাজের নাম লাইলী বেগম। সে ভবানীপুরের মিরাজ আলীর স্ত্রী।

সপ্তাহের দু’দিন, শনি ও মঙ্গলবার কবিরাজ লাইলী রোগী দেখেন। রোগ ভেদে তাকে দিতে হয় চিকিৎসার ফি।বন্ধাত্ব, জ্বীনেধরা, বশিকরন, গ্যাস্টিক, আলসার, জাদু, বান, টোনা এসব চিকিৎসার জন্য লাইলী কবিরাজের ফি ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা। এছাড়া ১ কেজি সরিসার তেল, ১ কেজি চিনি, ১ টি মোড়গ, ২’শ গ্রাম জিরা, আধা কেজি মরিচ, আধা কেজি লবন, ২ কেজি দুধসহ ২৫ প্রকার উপকরন লাগে লাইলীর চিকিৎসা ব্যয়। এছাড়া গরু, ছাগল, ভেড়াও দিতে হয় ওরশের নামে। তবে লাইলী বেগমের এসব চিকিৎসায় কারো কোন উপকার হয় না। এটা এক ধরনের প্রতারনা।
কুষ্টিয়ার মোল্লাতেঘরিয়া থেকে আসা স্কুল ছাত্রী সুমাইয়া সিমু। টিকটক করার অপরাধে তার নানী কুলসুম তাকে কবিরাজের কাছে আনে। কবিরাজ লাইলী বলেছে ওকে জ্বীনে ধরেছে। ৩ হাজার টাকা আর লাল মোড়গ দিলেই জ্বীন ছাড়িয়ে দিবো।
বালিয়াকান্দি উপজেলার আনন্দবাজার থেকে আসা ছকিনা জানায়, গ্যাষ্টিক চিকিৎসার জন্য কবিরাজ লাইলী বেগমকে ১৫ দিন আগে ২ হাজার টাকা দিয়েছি। রোগ ভালো হয়নি। টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।
চরচিলকা গ্রামের রুবিনা জানায়, বন্ধাত্ব ভালো করার জন্য কবিরাজ আমার ৫ হাজার টাকা নিয়েছে ৭ মাস আগে কিন্তু কাজ হয়নি।
কবিরাজী বিদ্যা সম্পর্কে জানতে চাইলে লাইলী বেগম জানায়, আমার কোন শক্তি নেই। জ্বীনে ভালো করে তাই ভালো হয়। অনেক ডিসি, এসপি, মিলিটারী আমার দরবারের চিকিৎসা নিতে আসে।
মানুষ প্রতারিত হলেও এই প্রতারনা চিকিৎসার অর্থদিয়ে লাইলী বেগম গড়ে তুলেছে একতলা ভবন। এ নিয়ে কেউ কিছু লেখালেখি করলে পুড়ে ছারখার হবে। গোখরা সাপে কামড় দিবে বলে সংবাদকর্মীদের ভয় দেখায় লাইলী।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ইশরাত জাহান উম্মন জানান, এ ধরনের চিকিৎসা অবৈজ্ঞানিক। মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে কেউ এ ধরনের প্রতারনা করলে তা বন্ধ করতে হবে।