বাঙালির প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের দেশাত্মবোধক গান ‘কারার ঐ লৌহকপাট’ এবং ‘দুর্গম গিরি, কান্তার- মরু’ শতকণ্ঠে পরিবেশিত হয়েছে কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে। নজরুলের দেশাত্মবোধক গান পরিবেশনার পাশাপাশি শিশু শিল্পীদের কণ্ঠে নজরুলের কবিতা পাঠ/আবৃত্তি উপস্থিত সকলকে মুগ্ধ করে। কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে ইন্ডিয়ান মিউজিয়াম এবং ছায়ানট (কলকাতা)- যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও পরিচালনায় ছিলেন ছায়ানট (কলকাতা)- এর সভাপতি সোমঋতা মল্লিক।
অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন দেবযানী বিশ্বাস, ড. কল্লোল বসু, ইন্দ্রাণী লাহিড়ী, সুকন্যা রায়, সীমান্ত বসু, পারমিতা বিশ্বাস এবং নমিতা ধারা। সমবেত সঙ্গীত ও কবিতায় অংশগ্রহণ করেন সুপর্ণা দে এবং শেখর দের নেতৃত্বে অনুভব পর্ণশ্রী সাংস্কৃতিক ও সমাজ উন্নয়নমূলক সংস্থার শিল্পীবৃন্দ। অনুষ্ঠান শেষ হয় ঠাকুরপুকুর চিদানান্দ ডান্স একাডেমির সমবেত নৃত্য পরিবেশনার মধ্য দিয়ে, পরিচালনায় ছিলেন প্রেরণা গঙ্গোপাধ্যায়।
এছাড়া অরণ্য স্পন্দন ভদ্র, রাজরূপা ভঞ্জ চৌধুরী, আজিম মন্ডল, আর্যদ্যুতি ঘোষ ও অর্ঘ্যদ্যুতি ঘোষের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে অন্য মাত্রা যুক্ত করে। এ সময় নজরুলের চতুর্থ মুদ্রিত কাব্যগ্রন্থ ‘ভাঙার গান’- এর শতবর্ষে ছায়ানট (কলকাতা)- এর বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য ‘শতবর্ষে ভাঙার গান’ নামাঙ্কিত ক্যালেন্ডার মিউজিয়াম কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া হয়। মহামূল্যবান এই ক্যালেন্ডারটির প্রতিটি পাতায় রয়েছে ‘ভাঙার গান’ সম্পর্কিত মূল্যবান তথ্য, সাথে নজরুলের বিভিন্ন বয়সের অসাধারণ সব ছবি। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুকন্যা রায় এবং শেখর দে।
- আরও পড়ুনঃ কুষ্টিয়ার বিখ্যাত ঐতিহ্যবাহী তিলের খাজা
এ বিষয়ে সোমঋতা মল্লিক সাংবাদিকদের বলেন, “এই বছর আমরা উদ্যাপন করব আমাদের প্রাণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী। তাই শুধুমাত্র একটি অনুষ্ঠান নয়, বছরব্যাপী আমরা কলকাতার বিভিন্ন স্থানে শতকণ্ঠে নজরুলের দেশাত্মবোধক গানের অনুষ্ঠান করব। সবাই যেভাবে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, আমরা সত্যিই আপ্লুত। যদিও আমরা শতকণ্ঠের কথা উল্লেখ করেছি, কিন্তু প্রায় ২৫০ জন শিল্পী আমাদের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। সোমঋতা মল্লিক আরো বলেন, আমরা চাই এভাবে নজরুল চর্চা এগিয়ে যাক নতুন প্রজন্মের মাঝে।
প্রিন্ট