ঢাকা , রবিবার, ০৩ মার্চ ২০২৪, ২০ ফাল্গুন ১৪৩০ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

মাধবদীতে আছানউল্লাহ হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

নরসিংদী জেলা মাধবদী থানাধীন গত (১১ ডিসেম্বর) রাত অনুমান সাড়ে সাতটার দিকে শ্যামরাকান্দি এলাকার মোঃ ছানাউল্লাহ ছেলে আছান উল্লাহ (৩০) হত্যাকান্ডের ঘটনায় মাধবদী থানার মামলা নং-১০/ ২০২৩;ধারা-৩০২/ ২০১/ ৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০। এই বিষয়টি ১৪ ডিসেম্বর এক প্রেস বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন, অফিসার ইনচার্জ মাধবদী থানা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
এ ঘটনার নিয়তের ভাই মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৬), মাধবদী থানায় লিখিত ভাবে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ১১/১২/ ২০২৩ ইং রাত অনুমান সাড়ে সাতটার দিকে আছান উল্লাহ (৩০) রাতের খাওয়া দাওয়া করে গরুর খাবার আনার জন্য নিজ বাড়ি হইতে খড়িয়া বাজারের উদ্দেশ্যে বাহির হইয়া যায়। ভিকটিম বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার সময় তার ব্যবহৃত Realme C31 Dark Green কালার মোবাইল নিয়ে যায়। যাহার ভিতরে সিম নাম্বার- ০১৬০৪৭২০১০৭। রাতে বাড়িতে ফিরে আসার কথা থাকলেও ভিকটিম আছান উল্লাহ (৩০) বাড়িতে ফিরিয়া না আসায় অভিযোগকারীসহ তার আত্বীয় স্বজন খড়িয়া বাজারসহ আশপাশ এলাকায় তাকে খুঁজাখুঁজি করে কিন্তু কোন স্থানে ভিকটিমের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
গত ১৩/১২/২০২৩ ইং ভোর অনুমান ০৬.১৫ মিনিটে অভিযোগকারীর আব্বা ভিকটিম আছান উল্লাহকে খোঁজা খুঁজি করতে গেলে তাহাদের বাড়ির উত্তর দিকে সিরাজ মিয়ার ফাঁকা জমির মধ্যে অভিযোগকারীর ছোট ভাই ভিকটিম আছান উল্লাহ এর মৃতদেহ পড়িয়া থাকে দেখতে পায়। বাদীর আব্বার ডাক চিৎকার শুরু করিলে তাহারা সংবাদ পাইয়া বাড়ির লোকজন উল্লেখিত স্থানে যাইয়া দেখতে পায়, মাধবদী থানাধীন শ্যামরাকান্দি সাকিনস্থ উত্তর চক সিরাজ মিয়ার জমির মধ্যে অভিযোগকারীর ছোট ভাই ভিকটিম আছান উল্লাহ এর মৃতদেহ পড়িয়া আছে এবং তার শরীরের বুকের উপর থেকে মাথা পর্যন্ত খড় দিয়া ঢাকা।
খড় সরিয়ে তাহারা দেখতে পায় ভিকটিম আছান উল্লাহ এর গায়ের লাল কালো রংয়ের চাদর দিয়ে তার গলায় পেঁচানো, ডান চোখ ওঠানো ও বাম কান কাটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। এসময় ভিকটিমের নিজ ব্যবহৃত মোবাইলটি পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বাণ চৌধুরী (ক্রাইম), নরসিংদী (সদর সার্কেল), এ. কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ, অফিসার ইনচার্জ মাধবদী থানার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, অফিসার ইনচার্জ নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা শাখার, খোকন চন্দ্র সরকার, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মাধবদী থানার এসআই (নিঃ) মোঃ ইলিয়াস মিয়া ভিকটিমের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার, মামলাটির মূল রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন ও ঘটনার সহিত জড়িতদের গ্রেফতার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা গত ১৪/১২/২০২৩ইং রাত বারোটা পাঁচ মিনিটে মাধবদী থানায় দায়ের করেন।
মামলা তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আসামী করিম ওরফে হানিফাকে শ্যামরাকান্দি হইতে আটক করিয়া জিজ্ঞাসাবাদ করিলে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের ব্যবহৃত ১টি Realme C31 Dark Green মোবাইল যাহার আইএমইআই নং-860401061016670 ও আইএমইআই নং-86040106 10166 62। উল্লেখিত আসামী আঃ করিম ওরফে হানিফা এর হেফাজত হইতে উদ্ধার পূর্বক জব্দ তালিকামূলে জব্দ করা হয়। আসামী আব্দুল করিম ওরফে হানিফার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই তারিখ আসামী শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত উভয় আসামীকে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তাহারা ঘটনার সাথে জড়িত বলে জানায়।
জানা যায়, নিহত আসান উল্লাহ ও আসামী আব্দুল করিম ওরফে হানিফা (১৯) এবং আসামী শাহীন (১৯) একি এলাকার মাধবদী থানাধীন কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের শ্যামরাকান্দি বাসিন্দা।
নিহতের গলায় থাকা চাঁদর দিয়ে গলায় প্যাঁচিয়ে দুইজনে দুইদিক থেকে টান মারিয়া শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে নিহতের মৃতদেহ যাতে কেহ না দেখতে পায় সেজন্য পাশে থাকা ধানের খড় দিয়ে নিয়তের শরীর ডেকে দেয়।
নিহতের সাথে থাকা ব্যাবহৃত মোবাইলটি আসামী আব্দুল করিম ওরফে হানিফা নিয়ে যায়। পুলিশ তদন্তকালে আব্দুল করিমের বাড়ী থেকে সিম ব্যতীত উক্ত মোবাইলটি উদ্ধার করে।
মাধবদী থানার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই/মোঃ ইলিয়াস মিয়া ১৪/১২/২০২৩ইং তারিখে আসামীদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন।
উল্লেখিত হত্যাকান্ডের বিষয়ে আসামী আব্দুল করিম ওরফে হানিফা (১৯) এবং আসামী শাহীন (১৯) ১৪/১২/২০২৩ইং তারিখ বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। মাধবদী থানা পুলিশ মৃত দেহ পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় ঘটনার সাথে জড়িত দুই জন আসামিকে গ্রেফতার ও মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।
Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

মাধবদীতে আছানউল্লাহ হত্যা মামলার দুই আসামি গ্রেফতার

আপডেট টাইম : ১০:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ ডিসেম্বর ২০২৩
নরসিংদী জেলা মাধবদী থানাধীন গত (১১ ডিসেম্বর) রাত অনুমান সাড়ে সাতটার দিকে শ্যামরাকান্দি এলাকার মোঃ ছানাউল্লাহ ছেলে আছান উল্লাহ (৩০) হত্যাকান্ডের ঘটনায় মাধবদী থানার মামলা নং-১০/ ২০২৩;ধারা-৩০২/ ২০১/ ৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০। এই বিষয়টি ১৪ ডিসেম্বর এক প্রেস বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছেন, অফিসার ইনচার্জ মাধবদী থানা মোহাম্মদ কামরুজ্জামান।
এ ঘটনার নিয়তের ভাই মোঃ আনোয়ার হোসেন (৪৬), মাধবদী থানায় লিখিত ভাবে একটি অভিযোগ করেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন ১১/১২/ ২০২৩ ইং রাত অনুমান সাড়ে সাতটার দিকে আছান উল্লাহ (৩০) রাতের খাওয়া দাওয়া করে গরুর খাবার আনার জন্য নিজ বাড়ি হইতে খড়িয়া বাজারের উদ্দেশ্যে বাহির হইয়া যায়। ভিকটিম বাড়ি থেকে বাহির হওয়ার সময় তার ব্যবহৃত Realme C31 Dark Green কালার মোবাইল নিয়ে যায়। যাহার ভিতরে সিম নাম্বার- ০১৬০৪৭২০১০৭। রাতে বাড়িতে ফিরে আসার কথা থাকলেও ভিকটিম আছান উল্লাহ (৩০) বাড়িতে ফিরিয়া না আসায় অভিযোগকারীসহ তার আত্বীয় স্বজন খড়িয়া বাজারসহ আশপাশ এলাকায় তাকে খুঁজাখুঁজি করে কিন্তু কোন স্থানে ভিকটিমের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
গত ১৩/১২/২০২৩ ইং ভোর অনুমান ০৬.১৫ মিনিটে অভিযোগকারীর আব্বা ভিকটিম আছান উল্লাহকে খোঁজা খুঁজি করতে গেলে তাহাদের বাড়ির উত্তর দিকে সিরাজ মিয়ার ফাঁকা জমির মধ্যে অভিযোগকারীর ছোট ভাই ভিকটিম আছান উল্লাহ এর মৃতদেহ পড়িয়া থাকে দেখতে পায়। বাদীর আব্বার ডাক চিৎকার শুরু করিলে তাহারা সংবাদ পাইয়া বাড়ির লোকজন উল্লেখিত স্থানে যাইয়া দেখতে পায়, মাধবদী থানাধীন শ্যামরাকান্দি সাকিনস্থ উত্তর চক সিরাজ মিয়ার জমির মধ্যে অভিযোগকারীর ছোট ভাই ভিকটিম আছান উল্লাহ এর মৃতদেহ পড়িয়া আছে এবং তার শরীরের বুকের উপর থেকে মাথা পর্যন্ত খড় দিয়া ঢাকা।
খড় সরিয়ে তাহারা দেখতে পায় ভিকটিম আছান উল্লাহ এর গায়ের লাল কালো রংয়ের চাদর দিয়ে তার গলায় পেঁচানো, ডান চোখ ওঠানো ও বাম কান কাটা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছে। এসময় ভিকটিমের নিজ ব্যবহৃত মোবাইলটি পাওয়া যায়নি।
খবর পেয়ে নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অনির্বাণ চৌধুরী (ক্রাইম), নরসিংদী (সদর সার্কেল), এ. কে. এম. শহিদুল ইসলাম সোহাগ, অফিসার ইনচার্জ মাধবদী থানার মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, অফিসার ইনচার্জ নরসিংদী জেলা গোয়েন্দা শাখার, খোকন চন্দ্র সরকার, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। মাধবদী থানার এসআই (নিঃ) মোঃ ইলিয়াস মিয়া ভিকটিমের লাশ ময়না তদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেন। নরসিংদী জেলা পুলিশ সুপার, মামলাটির মূল রহস্য দ্রুত উদ্ঘাটন ও ঘটনার সহিত জড়িতদের গ্রেফতার করার জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। পরবর্তীতে নিহতের ভাই বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা গত ১৪/১২/২০২৩ইং রাত বারোটা পাঁচ মিনিটে মাধবদী থানায় দায়ের করেন।
মামলা তদন্তকালে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে আসামী করিম ওরফে হানিফাকে শ্যামরাকান্দি হইতে আটক করিয়া জিজ্ঞাসাবাদ করিলে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভিকটিমের ব্যবহৃত ১টি Realme C31 Dark Green মোবাইল যাহার আইএমইআই নং-860401061016670 ও আইএমইআই নং-86040106 10166 62। উল্লেখিত আসামী আঃ করিম ওরফে হানিফা এর হেফাজত হইতে উদ্ধার পূর্বক জব্দ তালিকামূলে জব্দ করা হয়। আসামী আব্দুল করিম ওরফে হানিফার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই তারিখ আসামী শাহিনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত উভয় আসামীকে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদে তাহারা ঘটনার সাথে জড়িত বলে জানায়।
জানা যায়, নিহত আসান উল্লাহ ও আসামী আব্দুল করিম ওরফে হানিফা (১৯) এবং আসামী শাহীন (১৯) একি এলাকার মাধবদী থানাধীন কাঁঠালিয়া ইউনিয়নের শ্যামরাকান্দি বাসিন্দা।
নিহতের গলায় থাকা চাঁদর দিয়ে গলায় প্যাঁচিয়ে দুইজনে দুইদিক থেকে টান মারিয়া শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। পরে নিহতের মৃতদেহ যাতে কেহ না দেখতে পায় সেজন্য পাশে থাকা ধানের খড় দিয়ে নিয়তের শরীর ডেকে দেয়।
নিহতের সাথে থাকা ব্যাবহৃত মোবাইলটি আসামী আব্দুল করিম ওরফে হানিফা নিয়ে যায়। পুলিশ তদন্তকালে আব্দুল করিমের বাড়ী থেকে সিম ব্যতীত উক্ত মোবাইলটি উদ্ধার করে।
মাধবদী থানার মামলা তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই/মোঃ ইলিয়াস মিয়া ১৪/১২/২০২৩ইং তারিখে আসামীদ্বয়কে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন।
উল্লেখিত হত্যাকান্ডের বিষয়ে আসামী আব্দুল করিম ওরফে হানিফা (১৯) এবং আসামী শাহীন (১৯) ১৪/১২/২০২৩ইং তারিখ বিজ্ঞ আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি প্রদান করে। মাধবদী থানা পুলিশ মৃত দেহ পাওয়ার ২৪ ঘন্টার মধ্যে নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপারের দিক নির্দেশনায় ঘটনার সাথে জড়িত দুই জন আসামিকে গ্রেফতার ও মামলার মূল রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়।