1. somoyerprotyasha@gmail.com : admi2019 :
  2. letusikder@gmail.com : Litu Sikder : Litu Sikder
  3. mokterreporter@gmail.com : Mokter Hossain : Mokter Hossain
  4. tussharpress@gmail.com : Tusshar Bhattacharjee : Tusshar Bhattacharjee
পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেলে মাকে নিয়ে হাসপাতালে - দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা ডটকম
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ১১:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মহম্মদপুরে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে গুরত্বর আহত ফিড ব্যবসায়ী পাংশা পৌরসভার মধ্যে ওএমএস’র বিশেষ কার্যক্রম শুরু সদরপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল ও মাটি কাটায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জরিমানা ফরিদপুরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেছে ২০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ফরিদপুরের সুপার মার্কেট এর নতুন ভবন পরিদর্শন করলেন পৌর মেয়র ফরিদপুরে ভুক্তভোগী পরিবার ও ফরিদপুর বাসির এর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নির খালাস চেয়ে আপিল অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর লোভ দেখিয়ে প্রেমিকদের বাসায় ডাকতেন রেখা, অতঃপর… ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শীত বস্ত্র বিতরন নগরকান্দায় কৃষি কাজে সহযোগিতায় নারীরা

পিঠে সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেলে মাকে নিয়ে হাসপাতালে

ডেস্ক রিপোর্টঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২১
  • ১০০ বার পঠিত
মায়ের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাওয়ায় কোনো যান না পেয়ে পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেলে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন ছেলে। - ছবি: সংগৃহীত

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের হিরণ পয়েন্ট এলাকা। সেখানকার তল্লাশিচৌকিতে গতকাল শনিবার বিকেলে দায়িত্বরত ছিলেন ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌহিদ টুটুল। দুজন আরোহীর একটি মোটরসাইকেল আসতে দেখে থামার সংকেত দেন। কাছে আসতেই দেখতে পান চালকের পিঠে বাঁধা অক্সিজেনের সিলিন্ডার। পেছনে বসে থাকা নারীর মুখে অক্সিজেন মাস্ক। তাৎক্ষণিক সার্জেন্ট তৌহিদ তাঁদের এগিয়ে যাওয়ার সংকেত দেন।

এমন সময় পথচারীদের কেউ দৃশ্যটি মুঠোফোনে ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দেন। দ্রুতই সেই ছবি ছড়িয়ে পড়ে। পরে জানা যায়, মুমূর্ষু মাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিতে মোটরসাইকেলে এভাবেই ১৮ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন জিয়াউল হাসান নামের ওই যুবক।

জিয়াউলদের বাড়ি ঝালকাঠির নলছিটি পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সূর্যপাশা এলাকায়। তাঁর মা নলছিটি বন্দর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক রেহেনা পারভীন (৫০) দশ দিন ধরে জ্বরে ভুগছিলেন। ১০ এপ্রিল করোনা পরীক্ষার নমুনাও দেন। কিন্তু প্রতিবেদন পাননি। এর মধ্যেই গতকাল সকালে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট। কষ্ট কমাতে একটি সিলিন্ডার কিনে বাড়িতে আনেন তরুণ ব্যাংক কর্মকর্তা ছেলে জিয়াউল হাসান। লাগানো হয় সেটি। কিন্তু অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্বাসকষ্টও তা বাড়তে থাকে রেহেনা পারভীনের। কী করবেন ভেবে পাচ্ছিলেন জিয়াউল।

এরপর মাকে বরিশালের হাসপাতালে আনার জন্য অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্য যানের খোঁজে নামেন। কিন্তু পাচ্ছিলেন না। নিরুপায় হয়ে নিজের মোটরসাইকেলে মাকে হাসপাতালে আনার সিদ্ধান্ত নিলেন। পিঠের সঙ্গে শক্ত করে বাঁধলেন অক্সিজেন সিলিন্ডারটি। এরপর মাকে পেছনে বসিয়ে তাঁর মুখে পরানো হলো অক্সিজেন মাস্ক। এভাবে ১৮ কিলোমিটার পথ পার হয়ে গতকাল সন্ধ্যায় মাকে নিয়ে পৌঁছান বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। পাশে আরেকটি মোটরসাইকেলে ছুটছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ছোট ভাই রাকিব। বর্তমানে তাঁদের মা করোনা ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন।

বরিশালে করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা প্রতিদিনই আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল বিভাগে নতুন করে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে করোনা পজিটিভ হয়ে মৃত মানুষের সংখ্যা দাঁড়াল ২৪২।

রেহেনা পারভীনের অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে মাঝেমধ্যে অক্সিজেন লেভেল ওঠানামা করছে বলে জানালেন জিয়াউল হাসান। আজ দুপুরে গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, ‘শনিবার মা অনেক বেশি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অক্সিজেন লেভেল ৯৪-৯৩ নেমে যাচ্ছে। দুপুরে দেখলাম মায়ের অক্সিজেন শেষ হয়ে আসছে। সে জন্য ভাবলাম ঝুঁকিটা নেওয়া ঠিক হবে না।’

কৃষি ব্যাংকের ঝালকাঠি সদর শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জিয়াউল বললেন, ‘মোটরসাইকেলে না এসে আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না। আমাকে যে যেতেই হবে। দৌড়ে যেতে পারব না। চেষ্টা করেও কিছু করতে পারিনি। শেষে আমার গায়ের সঙ্গে গামছা দিয়ে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে নিয়ে এসেছি। আমি বুঝতে পারছিলাম মায়ের কষ্ট হচ্ছে। আমি তখন মাকে একটি কথা বলেছিলাম, উপায় নেই মা। আমার মায়ের কষ্ট হচ্ছিল, তা আমি সহ্য করতে পারিনি।’

গতকাল বিকেলে হিরণ পয়েন্ট এলাকার তল্লাশিচৌকিতে দায়িত্বরত নগর পুলিশের ট্রাফিক সার্জেন্ট তৌহিদ টুটুল বলেন, লকডাউনে বের হওয়ার কারণ জানতে চেকপোস্টে যথানিয়মে তাঁদের থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। তবে কাছাকাছি এলে দেখা যায় মোটরসাইকেলচালক তাঁর শরীরের সঙ্গে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার গামছা দিয়ে বেঁধে নিয়েছেন। আর পেছনে তাঁকে ধরে যে নারী বসে আছেন, তাঁর মুখে অক্সিজেন মাস্ক। সিলিন্ডার থেকে অক্সিজেন মাস্ক দিয়ে ওই নারী যথারীতি অক্সিজেন গ্রহণ করছেন। বিষয়টি দেখার পর দ্রুত তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

 

 

Copyright August, 2020-2022 @ somoyerprotyasha.com
Website Hosted by: Bdwebs.com
themesbazarsomoyerpr1
error: Content is protected !!