ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ২০ জুন ২০২৪, ৬ আষাঢ় ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

ফরিদপুরে একদিনে সড়কে ঝরল ১১ প্রাণ

  • ফরিদপুর অফিসঃ
  • আপডেট টাইম : ০৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ মার্চ ২০২১
  • ১১৯ বার পঠিত

ফরিদপুরের দুই উপজেলায় পৃথক সড়ক দুঘর্টনায় নিহত হয়েছেন একই পরিবারের ছয়জনসহ ১১ জন। এসময় আহত হন আরো ছয়জন।এদের মধ্যে এক শিশু ও চার নারী রয়েছেন।

দুঘর্টনাগুলো হলো জেলার মধুখালীর মাঝকান্দিতে ট্রাক-মাইক্রোবাস ও ভাঙা উপজেলার বিশ্বরোড় মোড়ে প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ। রবিবার সকাল ৭টা ও ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফরিদপুর করিমপুর হাইওয়ে থানার এসআই কাওসার হোসেন বলেন, ঝিনাইদহ থেকে একটি মাইক্রোবাস ঢাকার আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। এসময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ফরিদপুরের মধুখালীর মাঝকান্দিতে পৌঁছছে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যায়। এসময় আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আরো ছয়জনের মৃত্যূ হয়। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান আরো একজন।

মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা টিটো সিকদার বলেন, মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দির মোড়ে পারিশা ফিলিং স্টেশন থেকে একটি ট্রাক জ্বালানি নিয়ে মহাসড়কে ওঠার সময় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।নিহতদের সবার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায়।

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কাজিরবেড়ি ইউপির চেয়ারম্যান সেলিম রেজা জানান, এই ইউনিয়নের সামান্তা বাজারের নিহত মোহরের টাকা আনার জন্য ওয়ারিসদের নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল পরিবারের সদস্যরা। এসময় তাদের সঙ্গে দুইজন আইনজীবীও ছিলেন।

তিনি বলেন, এমন খবর আমার ইউনিয়নে প্রথম। গোটা ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চেয়ারম্যান বলেন, ওই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ছয় ব্যক্তি রয়েছে। তারা হলো- প্রয়াত মোহরের মা মিয়াজান বিবি (৬৫), তার মেয়ে আমেনা বেগম (৫০), মোহরের স্ত্রী কুটি বিবি (৫২), তার মেয়ে মরিয়ম (২০), তার শিশু সন্তান (০৬), মনিয়মের স্বামী জুয়েল (৩২)। এছাড়াও গাড়িচালক আলামিন (৩০) ও তার সহযোগী নজরুল ইসলাম (৬০) ও অ্যাড. আব্বাস আলী (৬০)।

হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার পর লাশ হস্তান্তরের কাজ চলছে। নিহতদের পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসেছেন। তাদের হাতে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তুলে দেওয়া হবে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা, সহকারী কমিশনার সীমা রানী সাহা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, নিহত প্রত্যেককে ১৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। অন্যদের আর্থিক পরিস্থিতি দেখে পরবর্তীতে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

অপর দিকে ফরিদপুরের ভাঙা বিশ্বরোড় মোড়ে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের থাকা দুই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই মারা যান। তারা হলেন, রনি ফকির (২০), শাকিল খান (২২)। তাদের বাড়ি পৌর এলাকার সরদী মহল্লায়।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

জনপ্রিয় সংবাদ
error: Content is protected !!

ফরিদপুরে একদিনে সড়কে ঝরল ১১ প্রাণ

আপডেট টাইম : ০৫:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ মার্চ ২০২১

ফরিদপুরের দুই উপজেলায় পৃথক সড়ক দুঘর্টনায় নিহত হয়েছেন একই পরিবারের ছয়জনসহ ১১ জন। এসময় আহত হন আরো ছয়জন।এদের মধ্যে এক শিশু ও চার নারী রয়েছেন।

দুঘর্টনাগুলো হলো জেলার মধুখালীর মাঝকান্দিতে ট্রাক-মাইক্রোবাস ও ভাঙা উপজেলার বিশ্বরোড় মোড়ে প্রাইভেটকার-মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ। রবিবার সকাল ৭টা ও ৯টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।

ফরিদপুর করিমপুর হাইওয়ে থানার এসআই কাওসার হোসেন বলেন, ঝিনাইদহ থেকে একটি মাইক্রোবাস ঢাকার আশুলিয়ার দিকে যাচ্ছিল। এসময় ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক ফরিদপুরের মধুখালীর মাঝকান্দিতে পৌঁছছে বিপরীত দিক থেকে আসা মালবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই দুজন মারা যায়। এসময় আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে আরো ছয়জনের মৃত্যূ হয়। এছাড়াও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে মারা যান আরো একজন।

মধুখালী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা টিটো সিকদার বলেন, মধুখালী উপজেলার মাঝকান্দির মোড়ে পারিশা ফিলিং স্টেশন থেকে একটি ট্রাক জ্বালানি নিয়ে মহাসড়কে ওঠার সময় মাইক্রোবাসটির সঙ্গে সংঘর্ষ হয়।নিহতদের সবার বাড়ি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলায়।

ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার কাজিরবেড়ি ইউপির চেয়ারম্যান সেলিম রেজা জানান, এই ইউনিয়নের সামান্তা বাজারের নিহত মোহরের টাকা আনার জন্য ওয়ারিসদের নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিল পরিবারের সদস্যরা। এসময় তাদের সঙ্গে দুইজন আইনজীবীও ছিলেন।

তিনি বলেন, এমন খবর আমার ইউনিয়নে প্রথম। গোটা ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

চেয়ারম্যান বলেন, ওই দুর্ঘটনায় একই পরিবারের ছয় ব্যক্তি রয়েছে। তারা হলো- প্রয়াত মোহরের মা মিয়াজান বিবি (৬৫), তার মেয়ে আমেনা বেগম (৫০), মোহরের স্ত্রী কুটি বিবি (৫২), তার মেয়ে মরিয়ম (২০), তার শিশু সন্তান (০৬), মনিয়মের স্বামী জুয়েল (৩২)। এছাড়াও গাড়িচালক আলামিন (৩০) ও তার সহযোগী নজরুল ইসলাম (৬০) ও অ্যাড. আব্বাস আলী (৬০)।

হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান বলেন, হাসপাতালে আনার পর লাশ হস্তান্তরের কাজ চলছে। নিহতদের পরিবারের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসেছেন। তাদের হাতে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ তুলে দেওয়া হবে।

ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুম রেজা, সহকারী কমিশনার সীমা রানী সাহা ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বলেন, নিহত প্রত্যেককে ১৫ হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। অন্যদের আর্থিক পরিস্থিতি দেখে পরবর্তীতে তাদের সহযোগিতা করা হবে।

অপর দিকে ফরিদপুরের ভাঙা বিশ্বরোড় মোড়ে প্রাইভেটকারের ধাক্কায় মোটরসাইকেলের থাকা দুই শিক্ষার্থী ঘটনাস্থলেই মারা যান। তারা হলেন, রনি ফকির (২০), শাকিল খান (২২)। তাদের বাড়ি পৌর এলাকার সরদী মহল্লায়।