ঢাকা , শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আঞ্জুমান আরা Logo দৌলতপুরে ব্র্যাক শাখা অফিসের উদ্বোধন Logo তানোরে ইউপি চেয়ারম্যানের মৃত্যুতে শোকসভা ও মিলাদ Logo তানোরে গরু মোটাতাজা করণে নিষিদ্ধ ওষুধের রমরমা বাণিজ্যে Logo উচ্চ আদালতে রিট পিটিশন দায়েরঃ ভোট গ্রহণের ৫ দিন আগে যশোর সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন স্থগিত Logo যশোরে ৭০ লাখ টাকা ফেরত না দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে আদালতে মামলা Logo তানোর পোস্ট অফিস থেকে টাকা গায়েবঃ ফেরত পেতে গ্রাহকের আত্মহত্যার হুমকি Logo নড়াইল সদর উপজেলা নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ ও বিতর্কিত করার চেষ্টার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন Logo বোয়ালমারীতে চেয়ারম্যান প্রার্থী লিটু শরীফের গণমাধ্যম কর্মীদের সাথে মতবিনিময় Logo প্রেম প্রস্তাবে ব্যর্থ হয়ে এডিস নিক্ষেপকারী যুবকের যাবজ্জীবন কারাদন্ড
প্রতিনিধি নিয়োগ
দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা পত্রিকার জন্য সারা দেশে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রতিনিধি নিয়োগ করা হচ্ছে। আপনি আপনার এলাকায় সাংবাদিকতা পেশায় আগ্রহী হলে যোগাযোগ করুন।

অন্ধত্ব যার জীবনের অভিশাপ

১৬ বছরে সংসার ভেঙ্গে স্ত্রী হলো পর -শহিদুল ইসলাম

-ছবিঃ প্রতীকী।

ঘুনেধরা এ সমাজে হরহামেশা ঘটে চলা বিবাহ বিচ্ছেদ, স্ত্রী বা স্বামীর পরকিয়া, অথবা পারিবারিক ঠুনকো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসার ভাঙ্গা এখন তুচ্ছতাচ্ছিল্য একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরণের ঘটনা এখন এ সমাজের গা সয়া হয়ে উঠেছে, কিছু কিছু ঘটনা মনে দাগ কেটে যায়, যখন একজন অসহায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সহায় সম্বলহীন হয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে থানা কোর্টকাচারী দারস্থ হয়ে ঘুরছে।

স্থানীয় থানা গুলোতে আসলে এ সকল বিষয়ে বিশেষ কিছু করার থাকেনা, বড় জোর গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বাদি বিবাদের অবিভাবকদের সমন্বয়ে মিলমিশ করিয়ে দেওয়া, নতুবা মামলা রুজু করে আসামি গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করা, বিচারের দায় দায়িত্ব বিচারকের, তাও বেশ দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়ার হয়ে থাকে, তাতে বাদি বিবাদী উভয়েরই দফারফা সারা।

আজ এমন একজনের কথা লিখতে হচ্ছে যে একসময়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছিলো না, ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আজ অন্ধত্বে পরিনত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলার শহীদনগর ইউনিয়নে ছাগলদী মধ্যে পাড়ার শহিদুজ্জামান(সুজাত) দৃষ্টি ভালো থাকার সময়ে বিবাহ করে মাদারীপুর জেলার অন্তগত শিবচরের থানার হাওলাদার কান্দি গ্রামের আঃ করিম হাওলাদার এর মেয়ে সাফিয়া আক্তার (৩৫) কে।

বিয়ের তিন বছর পর থেকেই স্বামী সুজাতের দৃষ্টি শক্তি হারাতে থাকে ইতিমধ্যে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয় তাদের ঘরে, দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেতে জায়গাজমি সহ নিজের প্রায় সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ে, তার মধ্যেও কখনও স্ত্রী সন্তানকে অর্থিক অভাব অনটন ছায়া পড়তে দেয় নাই। অথচ ১৬ বছর পরে তাকে ফেলে রক্ষিত টাকা পয়সা ও অলংকার নিয়ে প্রায় ৯ মাস যাবত বাবার বাড়িতে চলে যায়। ছেলের পরিবারের মুরব্বি পর্যায়ের ব্যাক্তিরা একধিকবার সালিশ দরবারেও বিহিত না হওয়ার থানা কোর্ট কাচারিতে মামলা করতে হয়েছে প্রতিবন্ধী সুজাতকে। স্ত্রী কন্যাকে ফিরে পাওয়ার আশা নিয়ে এখন কোর্টকাচারীতে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে বেচে আছে। জানিনা বিচারে কি হবে! একেই বলে বুঝি বিচারের বানী নাকি নিভৃতে কাঁদে।

Tag :
এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

ঢাকায় সংবাদ সম্মেলনে কান্নাজড়িত কণ্ঠে আঞ্জুমান আরা

error: Content is protected !!

অন্ধত্ব যার জীবনের অভিশাপ

১৬ বছরে সংসার ভেঙ্গে স্ত্রী হলো পর -শহিদুল ইসলাম

আপডেট টাইম : ১২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ মে ২০২৩

ঘুনেধরা এ সমাজে হরহামেশা ঘটে চলা বিবাহ বিচ্ছেদ, স্ত্রী বা স্বামীর পরকিয়া, অথবা পারিবারিক ঠুনকো ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংসার ভাঙ্গা এখন তুচ্ছতাচ্ছিল্য একটি বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ ধরণের ঘটনা এখন এ সমাজের গা সয়া হয়ে উঠেছে, কিছু কিছু ঘটনা মনে দাগ কেটে যায়, যখন একজন অসহায় দৃষ্টি প্রতিবন্ধী সহায় সম্বলহীন হয়ে স্ত্রীকে ফিরে পেতে থানা কোর্টকাচারী দারস্থ হয়ে ঘুরছে।

স্থানীয় থানা গুলোতে আসলে এ সকল বিষয়ে বিশেষ কিছু করার থাকেনা, বড় জোর গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বাদি বিবাদের অবিভাবকদের সমন্বয়ে মিলমিশ করিয়ে দেওয়া, নতুবা মামলা রুজু করে আসামি গ্রেফতার করে কোর্টে প্রেরণ করা, বিচারের দায় দায়িত্ব বিচারকের, তাও বেশ দীর্ঘ মেয়াদী প্রক্রিয়ার হয়ে থাকে, তাতে বাদি বিবাদী উভয়েরই দফারফা সারা।

আজ এমন একজনের কথা লিখতে হচ্ছে যে একসময়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ছিলো না, ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আজ অন্ধত্বে পরিনত হয়েছে। নগরকান্দা উপজেলার শহীদনগর ইউনিয়নে ছাগলদী মধ্যে পাড়ার শহিদুজ্জামান(সুজাত) দৃষ্টি ভালো থাকার সময়ে বিবাহ করে মাদারীপুর জেলার অন্তগত শিবচরের থানার হাওলাদার কান্দি গ্রামের আঃ করিম হাওলাদার এর মেয়ে সাফিয়া আক্তার (৩৫) কে।

বিয়ের তিন বছর পর থেকেই স্বামী সুজাতের দৃষ্টি শক্তি হারাতে থাকে ইতিমধ্যে একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয় তাদের ঘরে, দৃষ্টি শক্তি ফিরে পেতে জায়গাজমি সহ নিজের প্রায় সহায় সম্বলহীন হয়ে পড়ে, তার মধ্যেও কখনও স্ত্রী সন্তানকে অর্থিক অভাব অনটন ছায়া পড়তে দেয় নাই। অথচ ১৬ বছর পরে তাকে ফেলে রক্ষিত টাকা পয়সা ও অলংকার নিয়ে প্রায় ৯ মাস যাবত বাবার বাড়িতে চলে যায়। ছেলের পরিবারের মুরব্বি পর্যায়ের ব্যাক্তিরা একধিকবার সালিশ দরবারেও বিহিত না হওয়ার থানা কোর্ট কাচারিতে মামলা করতে হয়েছে প্রতিবন্ধী সুজাতকে। স্ত্রী কন্যাকে ফিরে পাওয়ার আশা নিয়ে এখন কোর্টকাচারীতে ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত হয়ে বেচে আছে। জানিনা বিচারে কি হবে! একেই বলে বুঝি বিচারের বানী নাকি নিভৃতে কাঁদে।