1. somoyerprotyasha@gmail.com : A.S.M. Murshid :
  2. letusikder@gmail.com : Litu Sikder : Litu Sikder
  3. mokterreporter@gmail.com : Mokter Hossain : Mokter Hossain
  4. tussharpress@gmail.com : Tusshar Bhattacharjee : Tusshar Bhattacharjee
সরকার আমারে যেন এটটা ঘর বানায় দেয়!  - দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা ডটকম
রবিবার, ০২ অক্টোবর ২০২২, ০৭:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
পুলিশ ও গণমাধ্যমকর্মী একই সূত্রে গাঁথা ! সকলে মিলে এক সাথে একে অপরের সহযোগিতা নিয়ে কাজ করতে চাই- নড়াইলের পুলিশ সুপার চরভদ্রাসনে বিষাক্ত সাপে কামড়ের ৩দিন পর কৃষকের মৃত্যু ভেড়ামারায় ৯টি পুজা মন্ডপে দুর্গাপূজা শুরু ফরিদপুর শহর দর্জি শ্রমিক ইউনিয়নের মানববন্ধন অনুষ্ঠিত দেশ ব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে  বাংলাদেশ অ্যাম্বুলেন্স মালিক কল্যাণ সমিতির মানববন্ধন অনুষ্ঠিত অক্টোবর সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে লায়ন্স ক্লাব অফ ফরিদপুর উদ্যোগে বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ খোকসায় শারদীয় দূর্গা পূজার উদযাপন কমিটির সাথে মত বিনিময় সভা শ্রীশ্রী দুর্গা দেবীর শুভগমন উপলক্ষে শারদীয়া ধর্মীয় আলোচনা, বস্ত্র বিতরণ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  রহনপুর স্টেশন পরিদর্শন করলেন রেলপথ সচিব নলছিটিতে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কবরস্থানের গেট সংস্কার

সরকার আমারে যেন এটটা ঘর বানায় দেয়! 

শফিকুল ইসলাম জীবন, মহম্মদপুর (মাগুরা) প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৮ মার্চ, ২০২১
  • ৮০১ বার পঠিত
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের জনার্দ্দনপুর গ্রামের নিঃসন্তান ও বিধবা আয়শা খাতুন।

“শুনছি সরকার ঘর বানায় দিচ্ছে। বড়লোকেরা সে ঘর পাইছে। চেয়ারম্যান- মেম্বরগের পাছে দোড়োইছি কোনো লাভ হই নেই। বয়স্ক-বিধবা বা দশ টাহার চালির কার্ড কোনডাই আমার কপালে জুটি নেই। টাহা-পয়সা নাই। তাই গত বছর ঝড়ে ভাইঙে পড়া ঘর সারতি পারি নেই। আপনারা সরকাররে এটটু কবেন আমারে যেন এটটা ঘর বানায় দেয়।” কথাগুলো বলছিলেন মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার দীঘা ইউনিয়নের জনার্দ্দনপুর গ্রামের নিঃসন্তান ও বিধবা আয়শা খাতুন (৬৫)।

আয়শার স্বামী মারা গেছেন এক যুগের বেশি আগে। বাবা ও শ্বশুরবাড়ির কেউ বেঁচে নেই। স্বামীর রেখে যাওয়া ভিটার ওপর ভাঙাচোরা, জরাজীর্ণ ঘরে একাকী বসবাস তার। সামান্য বৃষ্টিতে ঘরের মধ্যে পানি পড়ে। বাতাসে উড়ে যায় বেড়া। গেল বছর ঝড়ে সে ঘরটিও হেলে পড়েছিল উঠানে। প্রতিবেশীদের সহায়তায় কোনো রকমে দাঁড় করা হয় ঘরটিকে। বছরের পর বছর চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের কাছে ধরনা দিলেও ভাগ্যে জোটেনি সরকারি ঘর। জোটেনি বিধবাভাতা বা বয়স্কভাতা। বাধ্য হয়েই বৃদ্ধ বয়সে অন্যের বাড়িতে কাজ করেন।

এদিকে স্বামীর রেখে যাওয়া শেষ সম্বল বসতভিটাও কেড়ে নিতে প্রতিবেশীরা মরিয়া। তাকে উচ্ছেদ করতে এলাকার কিছু মানুষ ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। এক পর্যায়ে ঘরে আগুন দেওয়াসহ চালাচ্ছেন নানা রকম অত্যাচার-নির্যাতন। বিচারের আসায় সমাজপতিদের দ্বারে-দ্বারে ঘুরলেও সাড়া মেলেনি বলে জানান আয়শা।

তবে জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বললে তারা জানিয়েছেন ওই নারীর সম্পর্কে কেউ তাদের অবহিত করেননি।
জনার্দ্দনপুর গ্রামের আয়শা খাতুনের বাড়ি গিয়ে দেখা গেছে, ঘর বলতে সেখানে রয়েছে মাটির ডোয়া, তাও ভেঙে পড়ছে। জরাজীর্ণ পাঠকাঠির বেড়াগুলোও খসে পড়ছে। গত বছর ঝড়ে উড়ে যাওয়া টিনের চালটি কোনোমতো বসানো হয়েছে। বাতাস এলে যে কোনো সময় আবার পড়ে যেতে পারে। মেঝেতে চট বিছিয়ে রাত্রি যাপন করেন তিনি। কথা হয় আয়শা খাতুনের সঙ্গে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে শুরু করেন তার অসহায়ত্বের গল্প। জানান, স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে ১২ বছর বয়সে তার বিয়ে হয় কৃষক ওয়াজেদ শেখের সঙ্গে। ১০ বছর আগে স্বামী মারা যান।
স্বামীর ১৪ শতক জমির ওপর বসতভিটায় একা বাস করেন। এই একখণ্ড জমিই এখন তার বিপদের মূল কারণ। নিঃসন্তান এই বৃদ্ধার শেষ সম্বল জমিটুকুর ওপর দৃষ্টি পড়েছে প্রতিবেশীসহ অনেকের। স্বামীর মৃত্যুর পর আরও অসহায় হয়ে পড়েন তিনি। কয়েক দিন আগে তার এই ভাঙা ঘরেই গভীর রাতে কে বা কারা আগুন ধরিয়ে দেয়। অল্পের জন্য বেঁচে যান তিনি।

এ ছাড়া গভীর রাতে ঘরে ঢুকে তাকে বাড়ি ছাড়ার জন্য ভয় দেখানো হয়। তার কেউ না থাকায় সবাই জমিটুকু দখল করতে চায়। তিনি স্বামীর ভিটায় মরতে চান। কোথাও যেতে চান না। জমি দিতে না চাওয়ায় প্রতিবেশী কয়েকজন তাকে উচ্ছেদ করার জন্য হয়রানি ও অত্যাচার করছে। কয়েক বছর আগে থানায় অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি।

স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রউফ মিয়া জানান, নিঃসন্তান বিধবা আয়শা অনেক কষ্টে আছেন। তার স্বামীর বসতভিটার ওপর অনেকের লোভ। অসহায় এ নারীকে দেখার কেউ নেই। সরকারি তাকে একটা ঘর করে দিলে শেষ বয়সে একটু আরামে থাকতে পারবেন।

দীঘা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যানের দায়িত্বে থাকা খোকন মিয়া জানান, অল্পদিন হলো চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেয়েছেন। অসহায় এই নারীর নিরাপত্তা ও সরকারি সহযোগিতা দেওয়ার জন্য চেষ্টা করবেন বলে জানান তিনি।

ইউএনও রামানন্দ পাল ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবু আব্দুল্লাহহেল কাফী বলেন, শিগগিরই আয়শা বেগমকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এ জাতীয় আরো খবর..

 

 

Copyright August, 2020-2022 @ somoyerprotyasha.com
Website Hosted by: Bdwebs.com
themesbazarsomoyerpr1
error: Content is protected !!