ঢাকা , সোমবার, ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩, ২৪ মাঘ ১৪২৯ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
খোকসায় অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অসহায় বৃদ্ধ হারুন-অর-রশিদ প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়নের ঘর ফিরে পেলেন ১ লক্ষ ২৯ হাজার টাকা পরিশোধ না করায় নড়াইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষন অধিদপ্তরে প্রতারনার অভিযোগ করে নিজেই প্রতারনায় ফেঁসে গেলেন জামী সাংবাদিক নড়াইলের লোহাগড়ার দুই সন্তানের জননী কে গলা কেটে হত্যার অভিযোগ নড়াইলে দুগ্রুপের সংঘর্ষে অন্তত ১২জন আহত নগরকান্দায় শিশুর জন্ম হলেই উপহার ও মিষ্টি নিয়ে হাজির ইউএনও বাস্তব কাহিনীতে ইউএনও’র লেখায় নির্মিত হচ্ছে নাটক ‘স্বপ্নের ঠিকানা’ সালথায় ঘরের আড়ার সঙ্গে ঝুলছিল গৃহবধূর মরদেহ,পরিবারের দাবি হত্যা ভালোবাসা দিবসে উপহার নিয়ে এলো ইনফিনিক্স লাভ ফেস্ট জাতীয় গ্রন্থগার দিবস উপলক্ষে আলফাডাঙ্গায় গুণীজন সংবর্ধনা সক্ষম সবাইকে কর প্রদানের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ভাইকে জমি লিখে দেওয়ায় বিপাকে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের তুগুলদিয়া গ্রামের মৃত্যু বীর মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৬০) সহদর ভাইকে জমি লিখে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনা প্রকাশে জানা গেছে, কোহিনুর বেগমের স্বামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়া ১২ বছর আগে নি:সন্তান অবস্থায় মারা যায়। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে নিজের বাড়িতে স্বাভাবিক ভাবে জীবনযাপন করে আসছিলেন তিনি। সরকার কতৃক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার টাকা দিয়েই চলছিলো বিধবা কোহিনুর বেগমের জীবন। তবে হঠাৎ করে নিজের নামের সম্পদ নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

কোহিনুর বেগম নি:সন্তান হওয়ায় ভাই ও ভাইদের ছেলে মেয়েদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে ঘটছে নানান ঘটনা এমনকি রক্ত ক্ষয়ি সংঘর্ষের মতো ঘটনাও। স্থানীয়রা জানান, স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়া মারা যাওয়ার পর ১০ থেকে ১২ বিঘা জমি ছিলো কোহিনুর বেগমের ঘটনাক্রমে বিক্রি করেছেন নিজেই দুইবার হজ্জ ও করেছেন তিনি। কোহিনুর বেগমের চার ভাই, এক বোন, তিন ভাই মারা গেছেন, বেঁচে আছে ছোট ভাই কুদ্দুস মাতুব্বর। সব সম্পদ বিক্রি শেষে আড়াই বিঘা জমি ছিলো তার। তা ছোট ভাই কুদ্দুস মাতুব্বর কে আদর ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে লিখে দেন গত ১৫ দিন আগে।

জমি লিখে দেওয়ার পরে বাদে যত ঝামেলা। অন্য ভাইদের ছেলেরা তা মানতে নারাজ তাদের দাবি আমরা ও হকদার, দাবিদার বটে। একা চাচাকে কেন লিখে দিবে, আমরাও তাকে ভরনপোষন দিয়েছি। আর চাচা কুদ্দুস মাতুব্বর কেন একা জমি লিখে নিলো? তা মানতে নারাজ অন্য ভাইয়ের ছেলে মেয়েরা। এ ঘটনা নিয়ে গত (৬ফেরুয়ারী) শনিবার কুদ্দুস মাতুব্বর তুগুলদিয়া বাজারে গেলে অন্য ভাইদের ছেলেরা তাকে মারধর করে।

আর জমি ফেরৎ দিতে বলে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ বাধে এতে কুদ্দুস মাতুব্বরসহ উভয় পক্ষের ভতিজা আতিক মাতুব্বর, কোহিনুর বেগম, মুন্নু মাতুব্বরসহ ৪/৫ জন আহত হয়। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। কোহিনুর বেগম জানান, আমার সম্পত্তি আমি খুশি হয়ে এক মাত্র ছোট ভাই কুদ্দুস কে লিখে দিয়েছি। ও আমাকে ভালোবাসে ওর ছেলে মেয়েরা আমার দেখাশুনা করে। আমি ওর ঘরেই থাকতে চাই।

আমার মনে হয়েছে ও ঘরে আমি ভালো থাকতে পারবো তাই ওকে জমি দিয়েছি। জমি লিখে দিলাম কেন? আমার অন্য ভাইয়ের ছেলেরা আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেয় মারতে আসে আমার ছোট ভাই কুদ্দুস কে মারার জন্য ঘুরে বেড়ায়। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই। তবে এঘটনা অস্বিকার করে অভিযুক্ত এক ভাতিজা চুন্নু মাতুব্বর বলেন, আমার ফুফু তার জমি লিখে দিবে আমার চাচাকে আমাদের আপত্তি নাই। তবে ফুফু আমাদের কাছে জমি বিক্রি করবে বলে দশ লক্ষ টাকা নিয়েছে। আমাদের জমি তো দেয় নাই আবার টাকাও ফেরৎ দেয় নাই তাই এই ঝামেলা। তাছাড়া আমার ফুফুকে আমরা মারধর করি নাই।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোলদার বলেন, এখন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ আমি পাইনি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Tag :

এই অথরের আরো সংবাদ দেখুন

খোকসায় অবশেষে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে অসহায় বৃদ্ধ হারুন-অর-রশিদ প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়নের ঘর ফিরে পেলেন

error: Content is protected !!

ভাইকে জমি লিখে দেওয়ায় বিপাকে মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী

আপডেট টাইম : ০৮:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২১

ফরিদপুরের সালথা উপজেলার ভাওয়াল ইউনিয়নের তুগুলদিয়া গ্রামের মৃত্যু বীর মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়ার স্ত্রী কোহিনুর বেগম (৬০) সহদর ভাইকে জমি লিখে দেওয়ায় বিপাকে পড়েছেন। এবং নিজের জীবনের নিরাপত্তারও দাবি জানিয়েছেন তিনি। সংশ্লিষ্ট থানায় একটি অভিযোগও দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

ঘটনা প্রকাশে জানা গেছে, কোহিনুর বেগমের স্বামী, বীর মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়া ১২ বছর আগে নি:সন্তান অবস্থায় মারা যায়। স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে নিজের বাড়িতে স্বাভাবিক ভাবে জীবনযাপন করে আসছিলেন তিনি। সরকার কতৃক বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতার টাকা দিয়েই চলছিলো বিধবা কোহিনুর বেগমের জীবন। তবে হঠাৎ করে নিজের নামের সম্পদ নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

কোহিনুর বেগম নি:সন্তান হওয়ায় ভাই ও ভাইদের ছেলে মেয়েদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে ঘটছে নানান ঘটনা এমনকি রক্ত ক্ষয়ি সংঘর্ষের মতো ঘটনাও। স্থানীয়রা জানান, স্বামী বীর মুক্তিযোদ্ধা চাঁন মিয়া মারা যাওয়ার পর ১০ থেকে ১২ বিঘা জমি ছিলো কোহিনুর বেগমের ঘটনাক্রমে বিক্রি করেছেন নিজেই দুইবার হজ্জ ও করেছেন তিনি। কোহিনুর বেগমের চার ভাই, এক বোন, তিন ভাই মারা গেছেন, বেঁচে আছে ছোট ভাই কুদ্দুস মাতুব্বর। সব সম্পদ বিক্রি শেষে আড়াই বিঘা জমি ছিলো তার। তা ছোট ভাই কুদ্দুস মাতুব্বর কে আদর ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে লিখে দেন গত ১৫ দিন আগে।

জমি লিখে দেওয়ার পরে বাদে যত ঝামেলা। অন্য ভাইদের ছেলেরা তা মানতে নারাজ তাদের দাবি আমরা ও হকদার, দাবিদার বটে। একা চাচাকে কেন লিখে দিবে, আমরাও তাকে ভরনপোষন দিয়েছি। আর চাচা কুদ্দুস মাতুব্বর কেন একা জমি লিখে নিলো? তা মানতে নারাজ অন্য ভাইয়ের ছেলে মেয়েরা। এ ঘটনা নিয়ে গত (৬ফেরুয়ারী) শনিবার কুদ্দুস মাতুব্বর তুগুলদিয়া বাজারে গেলে অন্য ভাইদের ছেলেরা তাকে মারধর করে।

আর জমি ফেরৎ দিতে বলে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উভয়ের মধ্যে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষ বাধে এতে কুদ্দুস মাতুব্বরসহ উভয় পক্ষের ভতিজা আতিক মাতুব্বর, কোহিনুর বেগম, মুন্নু মাতুব্বরসহ ৪/৫ জন আহত হয়। আহতদের ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। কোহিনুর বেগম জানান, আমার সম্পত্তি আমি খুশি হয়ে এক মাত্র ছোট ভাই কুদ্দুস কে লিখে দিয়েছি। ও আমাকে ভালোবাসে ওর ছেলে মেয়েরা আমার দেখাশুনা করে। আমি ওর ঘরেই থাকতে চাই।

আমার মনে হয়েছে ও ঘরে আমি ভালো থাকতে পারবো তাই ওকে জমি দিয়েছি। জমি লিখে দিলাম কেন? আমার অন্য ভাইয়ের ছেলেরা আমাকে বিভিন্ন সময় হুমকি দেয় মারতে আসে আমার ছোট ভাই কুদ্দুস কে মারার জন্য ঘুরে বেড়ায়। আমি আমার জীবনের নিরাপত্তা চাই। তবে এঘটনা অস্বিকার করে অভিযুক্ত এক ভাতিজা চুন্নু মাতুব্বর বলেন, আমার ফুফু তার জমি লিখে দিবে আমার চাচাকে আমাদের আপত্তি নাই। তবে ফুফু আমাদের কাছে জমি বিক্রি করবে বলে দশ লক্ষ টাকা নিয়েছে। আমাদের জমি তো দেয় নাই আবার টাকাও ফেরৎ দেয় নাই তাই এই ঝামেলা। তাছাড়া আমার ফুফুকে আমরা মারধর করি নাই।

সালথা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুব্রত গোলদার বলেন, এখন পর্যন্ত লিখিত কোন অভিযোগ আমি পাইনি। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।