1. somoyerprotyasha@gmail.com : admi2019 :
  2. letusikder@gmail.com : Litu Sikder : Litu Sikder
  3. mokterreporter@gmail.com : Mokter Hossain : Mokter Hossain
  4. tussharpress@gmail.com : Tusshar Bhattacharjee : Tusshar Bhattacharjee
চাটমোহর হানাদার মুক্ত ২০ ডিসেম্বর - দৈনিক সময়ের প্রত্যাশা ডটকম
বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ১১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
মহম্মদপুরে ছিনতাইয়ের কবলে পড়ে গুরত্বর আহত ফিড ব্যবসায়ী পাংশা পৌরসভার মধ্যে ওএমএস’র বিশেষ কার্যক্রম শুরু সদরপুরে সংখ্যালঘু পরিবারের জমি দখল ও মাটি কাটায় ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযানে জরিমানা ফরিদপুরে অসহায় ও দুস্থ মানুষের মধ্যে কম্বল বিতরণ করেছে ২০ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ ফরিদপুরের সুপার মার্কেট এর নতুন ভবন পরিদর্শন করলেন পৌর মেয়র ফরিদপুরে ভুক্তভোগী পরিবার ও ফরিদপুর বাসির এর উদ্যোগে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত  বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মিন্নির খালাস চেয়ে আপিল অন্তরঙ্গ সময় কাটানোর লোভ দেখিয়ে প্রেমিকদের বাসায় ডাকতেন রেখা, অতঃপর… ফরিদপুর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে শীত বস্ত্র বিতরন নগরকান্দায় কৃষি কাজে সহযোগিতায় নারীরা

চাটমোহর হানাদার মুক্ত ২০ ডিসেম্বর

শুভাশীষ ভট্টাচার্য্য তুষার, পাবনা জেলা প্রতিনিধিঃ
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৩৭ বার পঠিত
-ছবিঃ প্রতীকী।
২০ ডিসেম্বর চাটমোহর পাক হানাদার মুক্ত দিবস। ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশ যখন বিজয়ের উল্লাসে মাতোয়ারা পাবনার চাটমোহর উপজেলা তখনও ছিল অবরুদ্ধ। একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর সারাদেশ হানাদার মুক্ত হলেও চাটমোহর শত্রু মুক্ত হয় তার চারদিন পর ২০ ডিসেম্বর। সারাদেশে যখন বিজয় আর নয় মাসের যুদ্ধের ধ্বংসস্তুপে কোটি কোটি মানুষ দাঁড়িয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে। একাত্তরের ৭ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষনের অবশ্যম্ভাবী প্রতিক্রিয়া হলো সারাদেশে। এ সংগ্রামে পাবনার সবচেয়ে পুরনো উপজেলা চাটমোহরের জনগণও সেদিন পিছিয়ে থাকেনি।
স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা কাজী আব্দুল খালেক জানান, বঙ্গবন্ধু’র ঐতিহাসিক ভাষণের পর সেদিন প্রতিবাদ প্রতিরোধ সংগ্রাম গড়ে উঠেছিলো উপজেলা শহরসহ গ্রাম-গ্রামান্তর। শুরু হয়েছিল যুদ্ধের প্রস্তুতি। ‘৭১ এর এপ্রিলে পাক হানাদার বাহিনী দু’বার পাবনা শহরে ঢোকার চেষ্টা করে। কিন্তু জনতার প্রতিরোধের মুখে পিছু হটে পালিয়ে যায়।
মে মাসের শেষ দিকে অত্যাধুনিক অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে পাক হানাদার বাহিনী ঢাকা থেকে পাবনার নগরবাড়ী ঘাট অতিক্রম করে পাবনায় ঢুকে পড়ে। এ সময় তারা পর্যায়ক্রমে পাবনার চাটমোহরসহ বিভিন্ন অঞ্চল দখল করে নেয়। সংখ্যালঘু অধ্যুষিত চাটমোহর উপজেলা সদরের বিভিন্ন এলাকায় আগুন ধরিয়ে দেয় তারা।
শহরের হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয়দের শান্তি আলোচনার নাম করে পুলিশ দিয়ে থানায় ডেকে এনে তাদের আটক করে। তৎকালীন ন্যাশনাল ব্যাংক চাটমোহর শাখা লুট করে নেয় পাক হানাদাররা। ব্যাংক ম্যানেজার আবুল কালাম খান ক্যাশিয়ার শামসুল ইসলাম সহ দু’জন গার্ডকে এসময় তারা গুলি করে হত্যা করে। হত্যা করে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী যতীন কুন্ডু, রঘুনাথ কুন্ডু , ঝরু ঠাকুর ও অশ্বিনী কুন্ডুকে।
তৎকালীন চাটমোহর থানার দারোগা (বড় বাবু) তোরাপ আলী মোল্লা সেকেন্ড কর্মকর্তা আবুল কাশেমের সাহসিকতায় থানায় আটক ব্যক্তিরা প্রাণে রক্ষা পায়। এ দু’জনকে পুলিশ তালা ভেঙ্গে তাদের পালাতে সাহায্য করে এবং নিজেরাও পালিয়ে যান। পাক হানাদাররা এ সব হত্যা ও তান্ডব
চালিয়ে পাবনা চলে যায়।
কয়েক দিন পরে এসে তারা চাটমোহর থানা দখলে নিয়ে স্থায়ীভাবে অবস্থান নেয়। এরপর তারা রাজাকার বাহিনী ও শান্তি কমিটি গঠন করে। শান্তি কমিটি ও রাজাকারদের সহায়তায় সাড়ে সাত মাস অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে চাটমোহর দখলে রাখে। নভেম্বরের প্রথম দিকে মুক্তিযোদ্ধারা গ্রামাঞ্চলে অনুপ্রবেশ করেন। এলাকাবাসীর সহায়তায় থানা আক্রমণের জন্য সংগঠিত হতে থাকে। হানাদারদের উপর ছোট খাটো চোরাগোপ্তা হামলাও চলতে থাকে। এভাবেই মুক্তিযোদ্ধারা থানা সদরের দিকে এগুতে থাকে।এ খবরে চাটমোহরের হানাদাররা দমে যায়। তারা বাইরে বেরুনো বন্ধ করে দেয়। মুক্তিযোদ্ধারা ১৩ ডিসেম্বর চাটমোহর থানা আক্রমণ করে। মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোজাম্মেল হক ময়েজ, এসএম মোজাহারুল হকের নেতৃত্বে ব্যাপক আক্রমণের মুখে হানাদাররা থানায় আটকা পড়ে। শেষ আশ্রয়স্থল হিসেবে থানাটিকে দুর্ভেদ্য দূর্গে পরিণত করে।
ওইদিন হানাদারদের হাতে আটকা পড়ে উপজেলার রামনগর গ্রামের সহযোগী মুক্তিযোদ্ধা দুই সহোদর মোসলেম উদ্দিন ও আবু তালেব। পরদিন সকালে হানাদাররা দুই সহোদরকে গুলি করে হত্যা করে। ১৫ ডিসেম্বর থানা আক্রমণ করে হানাদারদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করে। এ সময় মুক্তিযোদ্ধারা শের আফগান নামের এক দুর্ধষ হানাদার সহ বেশ কয়েক জনকে গুলি করে হত্যা করে।
১৬ ডিসেম্বর বিকেলে হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে সাদা পতাকা উড়িয়ে ফ্লাগ মিটিং এর আহ্বান জানায়। এ অবস্থায় দু’দিন গোলাগুলি বন্ধ থাকে। ১৮ ডিসেম্বর সকাল ১১টায় কমান্ডার মোজাম্মেল হক ময়েজ ও এসএম মোজাহারুল হক। বেলা ২টায় তারা ফিরে এসে জানায় পাক হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পনে রাজি হয়েছে। তারা মিত্র বাহিনীর উপস্থিতিতে আত্মসমর্পণের শর্ত দিয়েছে।
অবশেষে ২০ ডিসেম্বর সকালে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার পাবনায় গিয়ে জেলা কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বকুলকে মিত্র বাহিনীর পোষাক পড়িয়ে চাটমোহরে নিয়ে আসেন। ওইদিন বেলা ২টায় নকল মিত্র বাহিনীর কমান্ডার রফিকুল ইসলাম বকুলের কাছে হানাদাররা আত্মসমর্পণ করে এবং তাদেরকে ঘোড়ারগাড়িতে করে পাবনা পাঠিয়ে দেয়া হয়। এ ভাবেই বিজয় দিবসের চারদির পর ২০ ডিসেম্বর চাটমোহর হানাদার মুক্ত হয়। তখন থেকেই এই দিনটি ‘চাটমোহর হানাদার মুক্ত দিবস’হিসেবে পালিত হচ্ছে।
Print Friendly, PDF & Email

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর..

 

 

Copyright August, 2020-2022 @ somoyerprotyasha.com
Website Hosted by: Bdwebs.com
themesbazarsomoyerpr1
error: Content is protected !!