সম্প্রতি হিন্দু সম্প্রদায়ের মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুর, ঘরবাড়িতে হামলা ও আগুন দেয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে সচেতনতামূলক কাম্পেইন শুরু করেছে সাইফুল ইসলাম শান্তি নামে পঞ্চগড়ের এক তরুণ। মাথায় ‘অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ চাই’ লেখা সম্বলিত ক্যাপ, সামনে পেছনে দুটি ব্যানার আর হাতে হ্যান্ড মাইক নিয়ে পঞ্চগড় জেলা শহরের চৌরঙ্গী মোড় থেকে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরু করেন বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এই তরুণ। তবে কর্মসূচির শুরুতেই পুলিশের বাধা দেয়ার অভিযোগ তোলেন শান্তি।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে পঞ্চগড় চৌরঙ্গী মোড়ে হ্যান্ড মাইক হাতে নিয়ে সচেতনতামূলক প্রচারণা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে তাকে কর্মসূচি বন্ধ করতে বাধ্য করেন। এক পর্যায়ে পঞ্চগড় প্রেসক্লাবের সামনে প্রচারণা শুরু করেন তিনি।
হ্যান্ড মাইকে তিনি আরো বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিভিন্ন জায়গায় হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের জানমাল, বাড়ি ঘর ও মন্দিরে হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাংলাদেশ রবীন্দ্রনাথ ও নজরুলের দেশ। বঙ্গবন্ধুর গড়া অসাম্প্রদায়িক চেতনার দেশ। এখানে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ খ্রিস্টানসহ বিভিন্ন ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে একসাথে বাসবাস করে আসছে। অন্য ধর্মের মানুষদের শত্রু ভাবা ঠিক নয়। সাম্প্রতিক হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ি ও মন্দিরে হামলার ঘটনা ইসলাম ধর্ম কখনোই সমর্থন করে না। একই সাথে প্রকৃত ঘটনা না জেনে গুজব না ছড়ানোর অনুরোধ জানান। কারো ধর্মের অবমাননা হলে নিজ হাতে আইন না তুলে নিয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা নেয়া কিংবা চলমান আইনে বিচার দাবি করার অনুরোধ জানান এই তরুণ।
সাইফুল ইসলাম শান্তি বলেন, নিছক গুজব আর ধর্মান্ধতার কারণেই সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাগুলো ঘটছে। সব ধর্মের মানুষের সম্প্রিতির এই দেশে এখন আবারো সাম্প্রতিক হামলার ঘটনা আমাকে আহত করেছে। তাই আমি সচেতনতামূলক প্রচারণার এই কর্মসূচি হাতে নিয়েছি। আমি চাই যারা এসব ঘটনার সাথে জড়িত তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনা হোক। একই সাথে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনাগুলোর জন্য কঠোর শাস্তির বিধান করে আইন পাশ করার দাবি জানাচ্ছি। তবে আমার শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে পুলিশ বাধা দেয়ায় আমি বিস্মিত হয়েছি। আমার বাক স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে এই আচরণ প্রত্যাশা করিনি। অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে জেলার প্রত্যেক উপজেলার জনসমাগম স্থানে এই কর্মসূচি পালন করবেন বলে জানান তিনি।
সাইফুল ইসলাম শান্তির বাড়ি পঞ্চগড় সদর উপজেলার আমলাহার এলাকায়। তিনি হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কেটিং বিভাগের (মাস্টার্স) ছাত্র। তিনি এর আগেও পদ্মা সেতুতে ছেলেধরা গুজব, বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ্যে রিফাত হত্যার প্রতিবাদে তেঁতুলিয়া থেকে টেকনাফ পর্যন্ত ৩১ দিনের পদযাত্রা করেন।
পঞ্চগড় সদর থানার ওসি আব্দুল লতিফ মিঞা সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে বাধা দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, ওই বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে বাঁধা দেয়ার মত কোন ঘটনাই ঘটেনি।
প্রিন্ট