ইসমাইল হােসেন বাবুঃ
তথ্য গোপন করে কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা শহরের মােল্লা ষ্টােরের মালিক রেজাউল মোল্লা টাকা পয়সা খরচ করে ৫০ বছরের পূর্বের বৈদ্যুতিক পোল সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। এলাকাবাসীর জোর প্রতিবাদে স্থানীয় সচেতন সাংবাদিকদের তথ্যভিত্তিক সংবাদের ভিত্তিতে ভেড়ামারা আবাসিক প্রকৌশলী (আরই) মাসুদ পারভেজ ২৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেলে প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে পুনরায় পূর্বের জায়গায় বৈদ্যুতিক লোহারপােল (খুঁটি)পুঁতেদিয়ে প্রায় ২০ টির ও অধিক বাসা বাড়ির নতুন করে বৈদ্যুতিক সঞ্চালনের সংযোগ দিয়ে আলো জ্বালিয়ে দিলেন। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপে এলাকার গ্রাহক সেবার মান আরও বৃদ্ধি পেলাে।
স্থানীয়রা জানান, আগে বাশেঁর খুঁটির সাথে বিদ্যুতের তারগুলো সার্ভিস তারে অস্থায়ী বা দুর্বল জোড়া দেওয়া হয়েছিলাে। তার গুলাে অনেক জনিং বা অস্থায়ীভাবে যা ঝূঁকিপূর্ণ মনে হতো। এখন পূর্বের জায়গায় পরিকল্পিতভাবে খুঁটি বসানোর ফলে সেই আশঙ্কা দূর হলো। নির্ধারিত স্থানে খুঁটি স্থাপিত হওয়ায় এলাকাবাসী সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আবাসিক প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ জানান, আমরা বিদ্যুৎ বিভাগের পূর্বে মাস্টারপ্ল্যান অনুযায়ী কাজ করছি। পূর্বের নির্ধারিত জায়গায় খুঁটি স্থাপন করায় ভবিষ্যতে রাস্তা সম্প্রসারণ বা অন্যান্য উন্নয়ন কাজে কোনো বিঘ্ন ঘটবে না। এর ফলে এলাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটও অনেকটা কমে আসবে। বিদ্যুৎ বিভাগের এমন সময়োপযোগী পদক্ষেপে এলাকার গ্রাহক সেবার মান আরও বৃদ্ধি পেলাে।
ভেড়ামারার সাংবাদিকের হস্তক্ষেপে অবশেষে নির্ধারিত স্থানেই স্থাপিত হলো বৈদ্যুতিক পোল: মারাত্মক বৈদ্যুতিক বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেল অন্তত ২০টি পরিবার।
ভেড়ামারা শহরের কাচারীপাড়াস্থ কুদ্দুস চেয়ারম্যানের বাড়ি সংলগ্ন পাশের জমি ক্রয় করেন মোল্লা স্টোরের স্বত্বাধিকারী রেজাউল মোল্লা। জমি ক্রয় করেই ওখানে বিল্ডিং বসতবাড়ি নির্মাণের কাজ শুরু করেন। তার জমির সীমানায় ছিল বিদ্যুৎ বিভাগের ৫০ বছরের পুরনো বৈদ্যুতিক পোল। পোল টি কিভাবে সরিয়ে জমিটি নিষ্কন্টক করা যায়, সেই ফন্দি আঁটতে থাকেন রেজাউল মোল্লা। তিনি কৌশলে ভাড়া নেন, ধরমপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আ স ম আব্দুল কুদ্দুস’র বসতবাড়ি।
এরপর ভেড়ামারা বিদ্যুৎ বিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে অস্তিত্বহীন ব্যক্তিকে কুদ্দুস চেয়ারম্যানের জমির মালিক সাজিয়ে, কুদ্দুস চেয়ারম্যানের বাড়ির সীমানায় বৈদ্যুতিক পোল স্থাপনের অপচেষ্টা করে। তা রুখে দেয় বাড়ির অন্যান্য ভাড়াটিয়ারা। পরে কুদ্দুস চেয়ারম্যানের সীমানা প্রাচীর ভেঙে রাস্তার দিকে বৈদ্যুতিক খুঁটি পোতার চেষ্টা করে। সেটাও রুখে দেয় স্থানীয় এলাকাবাসী।
অবস্থা বেগতিক দেখে একটা বাঁশ কিনে এনে রেজাউল মোল্লার আঙ্গিনাতেই বাঁশ দিয়ে অস্থায়ী খাম্বা বানানো হয়। বিদ্যুৎ বিভাগ সেখানে সংযোগ দিয়ে কোনমতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই বাঁশের খাম্বায় হাই ভোল্টেজের অন্তত ২০টি পরিবারের মূল লাইনের সংযোগ দেয়া হয়। যা ছিল অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। শুধু তাই নয়, বৈদ্যুতিক আইনে এটাকে বিদ্যুৎ চুরি হিসাবে অভিহিত করা হয় বলে জানিয়েছেন আবাসিক প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ।
এছাড়াও প্রতোকটি সংযোগের সাথে আলাদা আলাদা সংযোগ দেওয়া হয়, এটারো কোন বিধান নেই। তাছাড়াও যেকোনো সময় ঘটে যেতে পারে মারাত্মক বিদ্যুৎ বিপর্যয়, দুর্ঘটনা, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও প্রাণহানির মতো ঘটনা।
এ নিয়ে এলাকার মানুষ দিন-রাত এই আতঙ্কে বাস করছিল। বিষয়টি ভেড়ামারার সাংবাদিকরা জানতে পেরে ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে বিদ্যুৎ প্রদানকারী সংস্থা ওজোপাডিকো অফিসকে জানালে, তারা গতকাল ২৪ এপ্রিল বৃহস্পতিবারই রেজাউল মোল্লার আঙ্গিনার পূর্বের জায়গায় পোলের স্থানেই পুনরায় পোলটি স্থাপন করে দ্রুততার সাথে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়েছেন। এঘটনায় বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে কাচারিপাড়ার মানুষ। ভুক্তভোগী এলাকাবাসী সাংবাদিকদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ভেড়ামারা আবাসিক প্রকৌশলী মাসুদ পারভেজ জানিয়েছেন, তথ্য গোপন করে রেজাউল মোল্লা বৈদ্যুতিক পোল সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। আমরাও বুঝতে না পেরে পোলটি উঠিয়েছিলাম। পরে স্থানীয় সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি অবগত হয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে পোলটি পুনরায় উল্লেখিত স্থানে স্থাপন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে রেজাউল মোল্লার সাথে কথা হলে তিনি দাম্ভিকতার সাথে জানান, আমার জমিতে আমি যা খুশি তাই করব। বিদ্যুতের খুঁটি তুলে ফেলবো, কারো কিছু বলার এবং করার নেই।

দেড় লাখ টাকার গাছ ৫০ হাজারে নিলাম 
ইসমাইল হোসেন বাবু, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার 





















